২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রাঙ্গণ থেকে প্রতিরক্ষা পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বলীকে অপহরণের ঘটনায় সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম শুক্রবার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় নিজ বাসা থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুখরঞ্জন বলীকে অপহরণের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা ছিল।
সুখরঞ্জন বলী ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে তালিকাভুক্ত একজন প্রতিরক্ষা সাক্ষী। তিনি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার উমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
অপহরণের অভিযোগ কী
সুখরঞ্জন বলীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তিনি আইসিটি প্রাঙ্গণে সাক্ষ্য দিতে যান। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
তার দাবি, অপহরণের পর তার চোখ বেঁধে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয় এবং প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথমে তাকে পশ্চিমবঙ্গের বোইকারি বাজারে বিএসএফ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। এরপর তাকে বসিরহাট কারাগারে ২২ দিন রাখা হয়। পরে দমদম কারাগারে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তিনি টানা পাঁচ বছর বন্দি ছিলেন বলে দাবি করেন।
মামলার পটভূমি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট সুখরঞ্জন বলী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানের গ্রেপ্তারকে এই বহুল আলোচিত অভিযোগের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইসিটি প্রাঙ্গণ থেকে সুখরঞ্জন বলী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার। ২০১২ সালের ঘটনার তদন্তে এটি নতুন অগ্রগতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















