পৃথিবীর দিকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণুর ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ধরনের মহাকাশ প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে চীন। ২০৩০ সালের আগেই একটি গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
চীনের এই পরিকল্পনা সাধারণ পরীক্ষার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করা হচ্ছে। এতে দ্রুতগতির একটি মহাকাশযান গ্রহাণুর সঙ্গে সরাসরি আঘাত করে তার গতিপথ বদলানোর চেষ্টা করবে। এমনকি প্রয়োজন হলে গ্রহাণুর গঠন ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হবে।
গ্রহাণুর গতিপথ বদলের নতুন পদ্ধতি
চীনের মহাকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গ্রহাণু শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে সেগুলো পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে উঠলে প্রতিরোধের প্রযুক্তি তৈরি করা। এই পরীক্ষায় একটি দ্রুতগতির আঘাতকারী বস্তু ব্যবহার করা হবে, যার গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৬ গুণ শব্দের গতির সমান হতে পারে।
এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে চান, কৃত্রিম আঘাতের মাধ্যমে একটি গ্রহাণুর চলার পথ কতটা পরিবর্তন করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে পৃথিবীকে মহাজাগতিক ঝুঁকি থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আগের পরীক্ষার চেয়ে বড় লক্ষ্য
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাকাশ সংস্থা পরিচালিত পরীক্ষায় একটি ছোট গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে চীনের পরিকল্পনার লক্ষ্য আরও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা, যেখানে পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্কিত গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রহাণুর আঘাত পৃথিবীর জন্য বিরল হলেও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। তাই আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মহাকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ভবিষ্যতের পৃথিবী রক্ষায় মহাকাশ প্রযুক্তি
চীনের এই উদ্যোগ সফল হলে গ্রহাণু প্রতিরোধ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হতে পারে। মহাকাশ গবেষণায় এমন পরীক্ষা ভবিষ্যতে পৃথিবীর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
পৃথিবী রক্ষায় চীনের নতুন গ্রহাণু প্রতিরোধ পরীক্ষা মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















