পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তিনি মন্তব্যগুলোকে অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়ে জাতীয় নেতার মতো দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানান।
জিও নিউজের ‘জিরগা’ অনুষ্ঠানে রোববার দেওয়া সাক্ষাৎকারে রানা সানাউল্লাহ বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফকে নিয়ে বিলাওয়ালের মন্তব্য রাজনৈতিক সৌজন্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, ভোটের জন্য বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না দিয়ে বিলাওয়ালের উচিত একজন জাতীয় নেতার মতো কথা বলা।
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) কখনও দলীয় সদস্যদের অপমানজনকভাবে বহিষ্কারের রাজনীতি করেনি।
আজাদ কাশ্মীর প্রসঙ্গ
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে রানা সানাউল্লাহ বলেন, এজেকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী যৌথ অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছেন এবং ফেডারেল সরকার সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
তার অভিযোগ, বিলাওয়ালের বক্তব্যে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম (ফজল) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকার কোনো এফআইআর দায়ের করেনি এবং বিষয়টি দীর্ঘায়িত করারও কোনো ইচ্ছা নেই।
বিলাওয়ালের নির্বাচনী প্রচারণা
এদিকে কোটলিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি দাবি করেন, আসন্ন আজাদ কাশ্মীর নির্বাচনে পিএমএল-এন ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়বে এবং সরকার গঠন করবে কেবল পিপিপি।
তিনি বলেন, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা দলের হাতে নয়; এটি নির্ধারণ করবেন কাশ্মীরের জনগণই।
বিলাওয়াল অভিযোগ করেন, পিএমএল-এনের মন্ত্রীরা কাশ্মীরিদের স্বার্থের ক্ষতি করছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সেটিকেই ফেডারেল সরকারের নীতি হিসেবে বিবেচনা করবেন বলেও জানান।

সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের দাবি
বিলাওয়াল আবারও আজাদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি তদন্তে একটি ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি সেখানে ইন্টারনেট সেবা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।
তার ভাষ্য, কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। যদি কমিশন গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে সরকারকে বিকল্প সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
রানা সানাউল্লাহর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আজাদ কাশ্মীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিপিপি ও পিএমএল-এনের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















