০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০ বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক আহত; পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা ফেডপ্রধান ওয়ারশের ‘গানের মাহাত্ম্য গায়কের চেয়েও বড়’: নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উষা উত্থুপ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা হবে ফেডপ্রধান ওয়ারশের নেতৃত্ব গালফের ভারতীয় প্রবাসীরা এখন শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, গড়ছেন বৈশ্বিক সম্পদ পর্দাহীন গারমিন সিরকা: তথ্য দেবে, কিন্তু মনোযোগ কেড়ে নেবে না ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে জাওয়িয়া তেল শোধনাগার বন্ধের হুঁশিয়ারি লিবিয়ার তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর: অন্তত তিস্তা চুক্তি তো আশা করতে পারে বাংলাদেশ

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে নতুন কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, জটিল সমীকরণে লেবানন

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার নতুন পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্য অর্জনে লেবাননের সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা দেওয়া, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রতিটি পথই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনীকে সামনে আনার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য নির্বাচিত সেনা ইউনিটকে প্রশিক্ষণ ও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব ইউনিটকে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসম্ভার নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।

এই উদ্যোগের সমর্থকদের মতে, এতে লেবাননের রাষ্ট্র নিজস্ব সক্ষমতায় দেশের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করতে পারবে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর ভেতরে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সিরিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

আরেকটি আলোচিত বিকল্প হলো সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সরবরাহপথে চাপ সৃষ্টি করা। ধারণা করা হচ্ছে, লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে নজরদারি জোরদার হলে অস্ত্র ও রসদের প্রবাহ কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে লেবাননের অনেকের কাছে সিরিয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের স্মৃতি এখনও দেশটির জনগণের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Lebanon's Plan to Disarm Hezbollah and Palestinian Refugee Camps in Beirut

ইসরায়েলের সামরিক চাপ অব্যাহত

ইসরায়েল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করে, সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব।

তবে সমালোচকদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে একটি গভীরভাবে সংগঠিত ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা কঠিন। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে অনিশ্চিত পথ

বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নে সহজ কোনো সমাধান নেই। লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং সামরিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময়, সতর্ক পরিকল্পনা এবং বহুমাত্রিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।

হিজবুল্লাহকে ঘিরে এই নতুন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে নতুন কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, জটিল সমীকরণে লেবানন

০৬:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার নতুন পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্য অর্জনে লেবাননের সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা দেওয়া, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রতিটি পথই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনীকে সামনে আনার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য নির্বাচিত সেনা ইউনিটকে প্রশিক্ষণ ও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব ইউনিটকে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসম্ভার নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।

এই উদ্যোগের সমর্থকদের মতে, এতে লেবাননের রাষ্ট্র নিজস্ব সক্ষমতায় দেশের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করতে পারবে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর ভেতরে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সিরিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

আরেকটি আলোচিত বিকল্প হলো সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সরবরাহপথে চাপ সৃষ্টি করা। ধারণা করা হচ্ছে, লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে নজরদারি জোরদার হলে অস্ত্র ও রসদের প্রবাহ কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে লেবাননের অনেকের কাছে সিরিয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের স্মৃতি এখনও দেশটির জনগণের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Lebanon's Plan to Disarm Hezbollah and Palestinian Refugee Camps in Beirut

ইসরায়েলের সামরিক চাপ অব্যাহত

ইসরায়েল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করে, সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব।

তবে সমালোচকদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে একটি গভীরভাবে সংগঠিত ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা কঠিন। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে অনিশ্চিত পথ

বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নে সহজ কোনো সমাধান নেই। লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং সামরিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময়, সতর্ক পরিকল্পনা এবং বহুমাত্রিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।

হিজবুল্লাহকে ঘিরে এই নতুন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।