০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০ বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক আহত; পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা ফেডপ্রধান ওয়ারশের ‘গানের মাহাত্ম্য গায়কের চেয়েও বড়’: নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উষা উত্থুপ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা হবে ফেডপ্রধান ওয়ারশের নেতৃত্ব গালফের ভারতীয় প্রবাসীরা এখন শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, গড়ছেন বৈশ্বিক সম্পদ পর্দাহীন গারমিন সিরকা: তথ্য দেবে, কিন্তু মনোযোগ কেড়ে নেবে না ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে জাওয়িয়া তেল শোধনাগার বন্ধের হুঁশিয়ারি লিবিয়ার তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর: অন্তত তিস্তা চুক্তি তো আশা করতে পারে বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে একাধিক পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়লেও এর পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই একমাত্র কারণ নয়। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতাদের একটি বড় অংশের মতে, প্রযুক্তির পাশাপাশি শ্রমবাজারের পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা এবং নতুন কর্মপদ্ধতির সমন্বিত প্রভাবই এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।

 

উৎপাদনশীলতার পেছনে একাধিক কারণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিক উন্নতি অর্থনীতিবিদদের নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই পরিবর্তনের একটি অংশ হলেও এটি এখনো প্রধান ভূমিকা পালন করছে না। বরং মহামারির পর কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দূরবর্তী কাজের বিস্তার এবং উন্নত সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মজুত ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং বিস্তৃত অঞ্চল থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে একই সময়ে আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

শ্রমবাজারের চাপও বাড়িয়েছে দক্ষতা

কম বেকারত্বের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী আকর্ষণে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে তারা নতুন প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে একই সংখ্যক কর্মী দিয়ে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে, যদি উৎপাদনশীলতার সুফল সবার মধ্যে ভাগ করা হয়।

কর্মী ছাঁটাইয়েরও প্রভাব রয়েছে

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কম জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আগের তুলনায় বেশি কাজ সম্পন্ন করছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ পিছিয়ে দেওয়া বা সীমিত রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

How AI Is Driving Revenue, Cutting Costs and Boosting Productivity for Every Industry in 2026 | NVIDIA Blog

জ্বালানি খাতেও প্রযুক্তির সুফল

যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন শিল্পেও উন্নত খনন প্রযুক্তি ও শিল্পের পুনর্গঠনের কারণে কম কর্মী দিয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিটি কূপ থেকে আগের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলন করা যাচ্ছে, ফলে কর্মীপ্রতি উৎপাদনও বেড়েছে।

সতর্ক থাকার পরামর্শ

তবে সব অর্থনীতিবিদ এই ইতিবাচক চিত্র নিয়ে একমত নন। তাদের মতে, উৎপাদনশীলতার পরিসংখ্যান স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে ওঠানামা করতে পারে। মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনও এই হিসাবকে প্রভাবিত করে। ফলে বর্তমান প্রবণতাকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা হিসেবে দেখার আগে আরও তথ্য বিশ্লেষণ জরুরি।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের মধ্যে এখনো স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।

উৎপাদনশীলতার সুফল কি কর্মীদের মিলবে?

বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রশ্ন হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুবিধা শেষ পর্যন্ত কর্মীদের আয় ও জীবনমানে কতটা প্রতিফলিত হবে। অতীতে দেখা গেছে, উৎপাদনশীলতা বাড়লেও সেই হারে প্রকৃত মজুরি বাড়েনি। তাই ভবিষ্যতে এই অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং কর্মীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, উৎপাদনশীলতার উন্নতি কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছে না। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শ্রমবাজারের পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং নতুন কর্মপদ্ধতির সম্মিলিত প্রভাবই অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে একাধিক পরিবর্তন

০৭:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়লেও এর পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই একমাত্র কারণ নয়। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতাদের একটি বড় অংশের মতে, প্রযুক্তির পাশাপাশি শ্রমবাজারের পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা এবং নতুন কর্মপদ্ধতির সমন্বিত প্রভাবই এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।

 

উৎপাদনশীলতার পেছনে একাধিক কারণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিক উন্নতি অর্থনীতিবিদদের নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই পরিবর্তনের একটি অংশ হলেও এটি এখনো প্রধান ভূমিকা পালন করছে না। বরং মহামারির পর কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দূরবর্তী কাজের বিস্তার এবং উন্নত সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মজুত ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং বিস্তৃত অঞ্চল থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে একই সময়ে আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

শ্রমবাজারের চাপও বাড়িয়েছে দক্ষতা

কম বেকারত্বের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী আকর্ষণে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে তারা নতুন প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে একই সংখ্যক কর্মী দিয়ে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে, যদি উৎপাদনশীলতার সুফল সবার মধ্যে ভাগ করা হয়।

কর্মী ছাঁটাইয়েরও প্রভাব রয়েছে

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কম জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আগের তুলনায় বেশি কাজ সম্পন্ন করছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ পিছিয়ে দেওয়া বা সীমিত রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

How AI Is Driving Revenue, Cutting Costs and Boosting Productivity for Every Industry in 2026 | NVIDIA Blog

জ্বালানি খাতেও প্রযুক্তির সুফল

যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন শিল্পেও উন্নত খনন প্রযুক্তি ও শিল্পের পুনর্গঠনের কারণে কম কর্মী দিয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিটি কূপ থেকে আগের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলন করা যাচ্ছে, ফলে কর্মীপ্রতি উৎপাদনও বেড়েছে।

সতর্ক থাকার পরামর্শ

তবে সব অর্থনীতিবিদ এই ইতিবাচক চিত্র নিয়ে একমত নন। তাদের মতে, উৎপাদনশীলতার পরিসংখ্যান স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে ওঠানামা করতে পারে। মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনও এই হিসাবকে প্রভাবিত করে। ফলে বর্তমান প্রবণতাকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা হিসেবে দেখার আগে আরও তথ্য বিশ্লেষণ জরুরি।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের মধ্যে এখনো স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।

উৎপাদনশীলতার সুফল কি কর্মীদের মিলবে?

বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রশ্ন হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুবিধা শেষ পর্যন্ত কর্মীদের আয় ও জীবনমানে কতটা প্রতিফলিত হবে। অতীতে দেখা গেছে, উৎপাদনশীলতা বাড়লেও সেই হারে প্রকৃত মজুরি বাড়েনি। তাই ভবিষ্যতে এই অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং কর্মীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, উৎপাদনশীলতার উন্নতি কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছে না। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শ্রমবাজারের পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং নতুন কর্মপদ্ধতির সম্মিলিত প্রভাবই অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।