০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
যন্তর-মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ, শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেস মোদির বড় ঘোষণা, তবু থামছে না ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন: প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লি শ্রেণিকক্ষে এআই নিষিদ্ধ নয়, শেখাতে হবে এর সঠিক ব্যবহার আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১, ১৬ জেলায় ৫ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নতুন উত্তেজনা: সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথিদের হামলা, ট্রাম্পের নতুন বোমা হুমকি যন্ত্রর-মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে নতুন বিতর্ক: ‘ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি’ এনে রাখার অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিসিবি ডিলারের গুদামে আগুন, আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের বাথরুমে গোপন ক্যামেরার অভিযোগ, প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত সিএনজি, শিল্প ও আবাসিক খাত, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে সরবরাহ কমেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হরমুজ সংকটে ইউরিয়ার দাম বেড়েছে, তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি

চীনের উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল কি বিশ্বকে বদলে দেবে, নাকি বাড়াবে নতুন ঝুঁকি?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত পার্থক্য। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে চায়, অন্যদিকে চীন একই প্রযুক্তিকে আরও উন্মুক্ত করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। প্রযুক্তির এই দুই ভিন্ন দর্শন ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

দুই দেশের দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমন এক কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভুল হাতে গেলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই উন্নত মডেলের ব্যবহার, রপ্তানি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

অন্যদিকে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তুলনামূলকভাবে সাধারণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি বিশ্বাস করছে, প্রযুক্তিকে যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে, তত দ্রুত এর ব্যবহার বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও বিস্তৃত হবে।

China's Rapid Rise in AI and Technology: What the World Can Learn

উন্মুক্ত মডেলের পথে বেইজিং

সম্প্রতি চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্মুক্তভাবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে। প্রযুক্তিটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহার ও উন্নয়নের সুযোগ রেখে দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, চীন দীর্ঘমেয়াদে উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বেইজিং শুধু প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং প্রযুক্তি বিস্তারের নীতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, জৈব নিরাপত্তা, অবকাঠামোতে আক্রমণ কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তাদের ধারণা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সমাধানও ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে। তাই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বদলে উদ্ভাবন ও বিস্তারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

AI to Detect and Defend Against Cyber Attacks - IoT and Industry 4.0 Paving  the Way - Going Digital - Issues - dotmagazine

প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি দুই দেশ এই ভিন্ন নীতিতেই এগিয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, উন্মুক্ত প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে, নাকি নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও জটিল করে তুলবে।

এই বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নয়, বরং কোন ধরনের নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিশ্বব্যাপী বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তার ওপরও।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যন্তর-মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ, শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেস

চীনের উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল কি বিশ্বকে বদলে দেবে, নাকি বাড়াবে নতুন ঝুঁকি?

১০:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত পার্থক্য। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে চায়, অন্যদিকে চীন একই প্রযুক্তিকে আরও উন্মুক্ত করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। প্রযুক্তির এই দুই ভিন্ন দর্শন ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

দুই দেশের দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমন এক কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভুল হাতে গেলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই উন্নত মডেলের ব্যবহার, রপ্তানি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

অন্যদিকে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তুলনামূলকভাবে সাধারণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি বিশ্বাস করছে, প্রযুক্তিকে যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে, তত দ্রুত এর ব্যবহার বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও বিস্তৃত হবে।

China's Rapid Rise in AI and Technology: What the World Can Learn

উন্মুক্ত মডেলের পথে বেইজিং

সম্প্রতি চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্মুক্তভাবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে। প্রযুক্তিটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহার ও উন্নয়নের সুযোগ রেখে দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, চীন দীর্ঘমেয়াদে উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বেইজিং শুধু প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং প্রযুক্তি বিস্তারের নীতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, জৈব নিরাপত্তা, অবকাঠামোতে আক্রমণ কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তাদের ধারণা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সমাধানও ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে। তাই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বদলে উদ্ভাবন ও বিস্তারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

AI to Detect and Defend Against Cyber Attacks - IoT and Industry 4.0 Paving  the Way - Going Digital - Issues - dotmagazine

প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি দুই দেশ এই ভিন্ন নীতিতেই এগিয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, উন্মুক্ত প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে, নাকি নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও জটিল করে তুলবে।

এই বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নয়, বরং কোন ধরনের নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিশ্বব্যাপী বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তার ওপরও।