স্যামসাংয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট চশমা প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক প্রদর্শনীতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন চশমার নকশা, বৈশিষ্ট্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরলেও উপস্থিত গণমাধ্যমকে এটি পরে দেখার সুযোগ দেয়নি। ফলে নতুন এই প্রযুক্তিপণ্যের সক্ষমতা নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
হালকা নকশায় বিশেষ গুরুত্ব
স্যামসাং জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য করতে স্মার্ট চশমাকে যতটা সম্ভব হালকা ও পাতলা রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীর কাছে এটি যেন সাধারণ একটি চশমার মতোই অনুভূত হয়, সে লক্ষ্যেই নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে দুটি ভিন্ন ধরনের ফ্রেম দেখানো হয়, যেগুলো হাতে নিলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ রয়েছে বলে বোঝা কঠিন ছিল।
তবে প্রদর্শনীতে থাকা নমুনাগুলোর প্লাস্টিকের উপাদান কিছুটা সাধারণ মানের মনে হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। যদিও এগুলো চূড়ান্ত বাজারজাত সংস্করণের প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই মূল আকর্ষণ
চশমাটিতে সামনের দিকে একটি ক্যামেরা, ভিডিও ধারণের সময় সংকেত দেওয়ার জন্য আলোক নির্দেশক এবং উন্মুক্ত স্পিকার রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনকল গ্রহণ, গান শোনা, বার্তা ও অন্যান্য বিজ্ঞপ্তি শোনা যাবে। ক্যামেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে তাৎক্ষণিক তথ্য দিতে সক্ষম হবে।
যদিও ক্যামেরার নির্দিষ্ট মান বা ধারণক্ষমতা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের দাবি
স্যামসাংয়ের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে স্মার্ট চশমাটি প্রায় নয় ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ছবি ধারণ, শব্দ শোনা এবং অন্যান্য সাধারণ কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর সঙ্গে দেওয়া চার্জিং বাক্সে আরও সাতবার পূর্ণ চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
টেকসই করতে বিস্তর পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাধারণ চশমার তুলনায় এই স্মার্ট চশমা অনেক বেশি টেকসই। নকশা তৈরির সময় বারবার ফেলে দেওয়া, বাঁকানো, কবজা পরীক্ষা, পানি, প্রসাধনী ও রোদ প্রতিরোধক প্রসাধনের প্রভাবসহ বিভিন্ন কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটি নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভেতরের ইলেকট্রনিক অংশ যেন নিরাপদ থাকে।
স্মার্টঘড়ির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
নতুন এই স্মার্ট চশমা স্মার্টঘড়ির সাহায্যেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ঘড়ির পর্দাকে স্পর্শনির্ভর নিয়ন্ত্রণ প্যানেল হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা রাখা হয়েছে। স্যামসাংয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে স্মার্টফোন, স্মার্টঘড়ি, তারবিহীন কানে শোনার যন্ত্র এবং স্মার্ট চশমা একসঙ্গে কাজ করে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে।
গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন
চশমায় ক্যামেরা যুক্ত থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে স্যামসাং জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের মতে, কিছু অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকলেও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থেমে থাকা উচিত নয়; বরং নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















