জাপানের ঐতিহ্যবাহী ইনারি-সুশি সাধারণত ভিনেগার মেশানো সাদা ভাত দিয়ে তৈরি হলেও, কোরিয়ার জনপ্রিয় খাবার ইউবুচোবাপ একই ধারণাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে। ভাজা টোফুর পকেটের ভেতরে ভরা সুগন্ধি ভাত, ভুট্টা, পেঁয়াজপাতা এবং চাইলে ঝাল মাখনের প্রলেপ—সব মিলিয়ে এটি গ্রীষ্মের জন্য হালকা অথচ তৃপ্তিদায়ক একটি খাবার।
নামের আড়ালে দুই দেশের খাদ্যসংস্কৃতি
জাপানি ভাষায় ‘সুশি’ শব্দটি এসেছে ভিনেগার ও রান্না করা ভাতের সমন্বয় থেকে। অন্যদিকে কোরিয়ান নাম ‘ইউবুচোবাপ’-এ রয়েছে তিনটি উপাদানের পরিচয়—ভাজা টোফু, ভিনেগার এবং ভাত।
জাপানে এই খাবারটি পরিচিত ইনারি-সুশি নামে। শিন্তো ধর্মবিশ্বাসে ইনারি হলেন ধান, কৃষি, উর্বরতা ও সমৃদ্ধির দেবতা। লোককথায় শিয়ালকে তাঁর দূত হিসেবে দেখা হয়। ভাজা টোফু শিয়ালের প্রিয় খাবার বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই বহু মন্দিরে এটি দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয়। সেখান থেকেই খাবারটির নাম ‘ইনারি-সুশি’।

কোরিয়ান সংস্করণে বাড়তি বৈচিত্র্য
জাপানি ইনারি-সুশিতে সাধারণত শুধু ভিনেগার মেশানো ভাত ব্যবহার করা হলেও, কোরিয়ান রূপে নানা ধরনের উপকরণ যোগ করা হয়। কুচি করা সবজি, কিমা মাংস, তাজা ভুট্টা কিংবা অন্য উপাদান দিয়ে স্বাদ আরও সমৃদ্ধ করা হয়।
এই রেসিপিতে ভুট্টার ব্যবহার খাবারে মিষ্টি স্বাদ ও কোমলতা এনে দেয়। গরম অবস্থায় যেমন খেতে ভালো লাগে, তেমনি ঠান্ডা করে মধ্যাহ্নভোজের বাক্সেও এটি সহজেই রাখা যায়।
ঝাল মাখনের বিশেষ স্পর্শ
পরিবেশনের আগে গলানো মাখনের সঙ্গে কোরিয়ান ঝাল মরিচের পেস্ট মিশিয়ে টোফুর পকেটের ওপরে হালকা করে ব্রাশ করলে স্বাদে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। ভুট্টার মিষ্টতা ও মাখনের কোমলতার সঙ্গে ঝালের হালকা উপস্থিতি কোরিয়ান প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
উপকরণ
দুই থেকে তিনজনের জন্য।
প্রয়োজন হবে ছোট দানার চাল ২২৫ গ্রাম, টিনজাত ভুট্টার পানি ও পানি মিলিয়ে মোট ৩০০ মিলিলিটার, সুশির জন্য ভিনেগার-লবণ-চিনির শুকনো মিশ্রণ ১৫ গ্রাম, কুচি করা পেঁয়াজপাতা এক আঁটি এবং ভরার জন্য প্রস্তুত টোফুর পকেট ১২টি।
ঐচ্ছিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে কোরিয়ান ঝাল মরিচের পেস্ট ১০ গ্রাম এবং মাখন ১০ গ্রাম।
![]()
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে চাল ভালোভাবে কয়েকবার ধুয়ে অতিরিক্ত শর্করা পরিষ্কার করে নিন।
এরপর চালের সঙ্গে ভুট্টার পানি এবং প্রয়োজনমতো পানি যোগ করে মোট ৩০০ মিলিলিটার তরল ব্যবহার করুন। ওপরে ভুট্টার দানা ছড়িয়ে দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে ভাত রান্না করুন। চাইলে টাটকা ভুট্টার দানা ও খোসামুক্ত মোচাও একসঙ্গে রান্না করা যায়, এতে সুগন্ধ আরও বাড়বে।
ভাত রান্না হয়ে গেলে কুচি করা পেঁয়াজপাতা ও শুকনো সুশি মসলা মিশিয়ে নিন।
এরপর টোফুর পকেটগুলো সাবধানে খুলে ভাত দিয়ে ভরে নিন।
সবশেষে চাইলে মাখন গলিয়ে তার সঙ্গে ঝাল মরিচের পেস্ট মিশিয়ে টোফুর ওপর হালকা করে মেখে পরিবেশন করুন। গরম কিংবা ঠান্ডা—দুইভাবেই এই খাবারের স্বাদ উপভোগ করা যায়।
কোরিয়ার স্বাদ ও জাপানের ঐতিহ্যের এই মিলন সহজ উপকরণে তৈরি হলেও খাবারের টেবিলে এনে দেয় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















