পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদ্য অন্তর্ভুক্ত হ্যাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিন আরব সাগরে প্রথমবারের মতো সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, নতুন সাবমেরিন পিএনএস/এম হ্যাঙ্গর একটি দূরপাল্লার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহড়া সাবমেরিনটির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ও যুদ্ধ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন।
মহড়াটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সাবমেরিনটির যুদ্ধ সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং সমুদ্রের নিচে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আইএসপিআর বলেছে, এই সাফল্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক ও যুদ্ধ-প্রস্তুত বাহিনী হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রথমবারের মতো নতুন সাবমেরিন থেকে সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সাবমেরিনটি দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আঘাত করেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহরের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি, পেশাদার দক্ষতা ও যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
শাহবাজ শরিফ জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রধান ও সাবমেরিনটির সংযোজন এবং কার্যক্রমে যুক্ত সদস্যদের প্রশংসা করেন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর কার্যালয়ের এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় সজ্জিত পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন সাবমেরিনটি গত জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায়। পাকিস্তান মোট আটটি হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
সাবমেরিনগুলোতে আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর, বায়ু-স্বাধীন চালনা ব্যবস্থা (এআইপি) এবং উন্নত গোপন চলাচল প্রযুক্তি রয়েছে। এসব প্রযুক্তি সাবমেরিনগুলোর দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান ও শনাক্ত হওয়া এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
‘হ্যাঙ্গর’ নামটির সঙ্গে পাকিস্তানের নৌ ইতিহাসেরও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় তৎকালীন পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দেয়। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো সাবমেরিনের হাতে যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা।
নতুন হ্যাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি ২০২৪ সালের এপ্রিলে চীনে পানিতে নামানো হয়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চ, আগস্ট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সাবমেরিন পানিতে নামানো হয়।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশীয়ভাবে তৈরি ‘তৈমুর’ নামের একটি জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালায়। একই মাসে নৌবাহিনী দেশীয়ভাবে তৈরি একটি জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও দীর্ঘ পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করে।
নতুন হ্যাঙ্গর সাবমেরিনের প্রথম সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া পাকিস্তানের সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই মহড়ার মাধ্যমে সাবমেরিনটির পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ সক্ষমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে যতটুকু তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা মূলত আইএসপিআরের ঘোষণার মধ্যেই সীমিত।












