রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভবন ধ্বংসের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, তাদের কাছে কখন খবর পৌঁছেছিল এবং কেন হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানো যায়নি—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানায়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেন্টারের ভবনগুলোও ভেঙে ফেলা হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আসক জানায়, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল সেন্টারে প্রবেশ করে। তারা সেখানে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে। পরে একটি স্থায়ী ও তিনটি আধা-পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়।
১৯৭৪ সাল থেকে ওই সেন্টারটি মিরপুর এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো সেখানে।
ভবন ধ্বংসের ফলে এসব জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আসক। সংগঠনটির মতে, একটি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় নারী, শিশু ও নিম্নআয়ের মানুষ।
ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি। আসক জানিয়েছে, রাড্ডা সেন্টারটি একটি পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি অবস্থিত। হামলা ও ভাঙচুর চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে।
এ অবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর বের করার দাবি জানিয়েছে আসক। কখন পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছিল, পুলিশ তখন কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে থাকা সত্ত্বেও কেন লুটপাট ও ভবন ধ্বংস ঠেকানো সম্ভব হয়নি—এসব বিষয় তদন্তে স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসক বলেছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনার পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা ও পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ধরনের অবহেলা বা নিষ্ক্রিয়তা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে দ্রুত রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আসক। স্থানীয় নারী, শিশু ও অন্যান্য বাসিন্দার স্বাস্থ্যসেবায় যেন দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে সংগঠনটি।
আসকের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের বিষয় নয়; এটি আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।












