১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২, ইউরোপজুড়ে তাপদাহে বাড়ছে দুর্যোগ ভারত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বাজারের বিকল্প নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে? অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু, সতর্কতা জারি চীনের অর্থনৈতিক নীতিতে ‘লাল দাগ’, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার আগে কঠোর বার্তা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের নতুন গন্তব্য জাপান, দেশে চাকরির সংকটে বাড়ছে বিদেশমুখিতা অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কর্মকর্তার সাক্ষাৎ, অভ্যুত্থানের পর প্রথম প্রকাশ্য বিদেশি যোগাযোগ চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমছে শিক্ষার্থী, সংকটে শত শত স্কুল যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে লাগতে পারে ১ লাখ ডলার! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: সোমবার শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, নেই কোনো সময়সীমা

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৭ শতাংশ, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ

এক বছরে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে বড় পতন

বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বেড়েছে আগের বছরের তুলনায়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাথমিক তথ্য বলছে, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমলেও চলমান প্রকল্পগুলোর অর্থছাড় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন প্রতিশ্রুতি প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে।

এই পতনের মূল কারণ প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়া। সর্বশেষ অর্থবছরে ঋণ হিসেবে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৫ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান হিসেবে এসেছে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগের অর্থবছরে ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ছিল ৩৮ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থ উপদেষ্টা |  The Daily Campus

দুই অর্থবছরেই খাদ্য সহায়তার নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

অর্থছাড়ে বড় ধাক্কা লাগেনি

নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড় হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ছাড় হয়েছে ৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। খাদ্য সহায়তা অপরিবর্তিত থেকে ৫ কোটি ডলারে স্থির ছিল।

বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় আরও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

হঠাৎ বেড়ে গেলো ডলারের দাম, কারণ কী

এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে আসল পরিশোধ ছিল ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ ছিল ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

টাকার অঙ্কেও বেড়েছে চাপ

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৪৯ হাজার ৩৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সরকারের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিদেশি সহায়তা বাজেট ও হিসাব শাখা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি, অর্থছাড় এবং ঋণ পরিশোধের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৭ শতাংশ, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ

১১:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

এক বছরে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে বড় পতন

বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বেড়েছে আগের বছরের তুলনায়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাথমিক তথ্য বলছে, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমলেও চলমান প্রকল্পগুলোর অর্থছাড় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন প্রতিশ্রুতি প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে।

এই পতনের মূল কারণ প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়া। সর্বশেষ অর্থবছরে ঋণ হিসেবে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৫ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান হিসেবে এসেছে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগের অর্থবছরে ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ছিল ৩৮ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থ উপদেষ্টা |  The Daily Campus

দুই অর্থবছরেই খাদ্য সহায়তার নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

অর্থছাড়ে বড় ধাক্কা লাগেনি

নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড় হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ছাড় হয়েছে ৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ছিল প্রায় ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। খাদ্য সহায়তা অপরিবর্তিত থেকে ৫ কোটি ডলারে স্থির ছিল।

বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় আরও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

হঠাৎ বেড়ে গেলো ডলারের দাম, কারণ কী

এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে আসল পরিশোধ ছিল ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ ছিল ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

টাকার অঙ্কেও বেড়েছে চাপ

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৪৯ হাজার ৩৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সরকারের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিদেশি সহায়তা বাজেট ও হিসাব শাখা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি, অর্থছাড় এবং ঋণ পরিশোধের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।