সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, খুব শিগগিরই দেশটির ওপর উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুথিরা একযোগে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য মিলেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব তৎপরতার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তত্ত্বাবধান রয়েছে।
কর্মকর্তাটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নড়াচড়া নজরে
সৌদি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকে সমন্বিত অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সৌদি আরব প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে দেশটির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এর জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরাকের সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
বর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিয়েছে। এই উদ্যোগকে অঞ্চলটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নি মুসলিম দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা
সৌদি কর্মকর্তার মতে, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ একই সময়ে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এগোচ্ছে। ইরানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও ইতিবাচক পথে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার মতে, এই সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্য চলমান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনাও এগিয়ে চলেছে বলে আঞ্চলিক পর্যায়ে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
হুথি হামলায় আহত ১১ বেসামরিক
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুথিদের এক হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক আহত হন। আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হুথি বা ইরানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে হুথিরা নজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং নৌ চলাচল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
একই দিনে ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত অঞ্চলে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৭ জন সরকারি সেনাকে হত্যার দাবিও উঠেছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সৌদি-হুথি সংঘাত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথিদের তৎপরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের সর্বশেষ সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সৌদি আরবের দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















