০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
কিছুই ঘটবে না—এই বাজি কি ফেডের জন্য বিপজ্জনক? থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সহিংস ভিডিও দেখত, বলছে পুলিশ ডলারের রাজত্বে ফাটল, নিজেদের মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে আফ্রিকা ইউক্রেনের জন্য শীত এখন যুদ্ধের নতুন অস্ত্র, মিত্রদের আরও শক্তভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শেয়ারে ধস, তরুণ বিনিয়োগ পরিচালকের ৬৭ শতাংশ পতনে বড় প্রশ্ন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই: অভিযান বাড়ছে, নিরাপত্তা ফিরছে না যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিচ্ছে চীন, নৌশক্তির পেছনে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের বিশাল শক্তি হরমুজ ও লোহিত সাগরের ঝুঁকি বাড়তেই বিশ্বজুড়ে তেল পাইপলাইনে বিনিয়োগের হিড়িক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কা সামলে টিকে আছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত চীন-আমেরিকার নৌযুদ্ধের নেপথ্যে আসল শক্তি জাহাজ নির্মাণ: কেন ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আইনি সহায়তায় ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতে মামলার জোয়ার

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 9

ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দায়ের করা মামলার সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে যে পুরো বিচারব্যবস্থায় নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একসময় বছরে অল্প কয়েকটি আবেদন আসত এমন একটি জরুরি আইনি ব্যবস্থায় এখন মাসে মাসে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে। এর ফলে প্রকৃত অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কর্মীরাও ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়ছেন।

বছরে ২০ থেকে মাসে কয়েকশ আবেদন

ব্রিটিশ কর্মসংস্থান আইনে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার’ নামে একটি জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মনে হলে বিচারক প্রতিষ্ঠানকে তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা অন্তত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

সাধারণত এই ব্যবস্থা খুব কম ব্যবহার করা হতো। ব্রিটেনজুড়ে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালগুলোতে বছরে প্রায় ২০টি আবেদন আসত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

২২ জুন প্রকাশিত এক স্মারকে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যারি ক্লার্ক ও সুসান ওয়াকার জানান, এখন দেশটির ১২টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিটিতে মাসে প্রায় ২০টি করে আবেদন জমা পড়ছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় এই ধরনের আবেদনের হার শতগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বেশির ভাগ আবেদন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে সেগুলোর জন্য জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে অন্যান্য মামলার শুনানিও পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিচারকদের ধারণা, এই আকস্মিক বিস্ফোরণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

আইনজীবীর বদলে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কর্মীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিনামূল্যের আইনি সহায়তা প্রথম দেখায় ইতিবাচক বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমস্যার সৃষ্টি করছে।

যেসব কর্মীর সত্যিই অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার পেতে এখন আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের প্রকৃত অভিযোগের পাশাপাশি ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত অভিযোগের বিরুদ্ধেও আইনজীবী নিয়োগ করে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

অর্থাৎ ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা এখন অতিরিক্ত প্রবেশাধিকারের চাপেই বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

কর্মীরা আইনজীবীর বদলে এখন বড় ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সাহায্যে নিজেদের নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা সাজাচ্ছেন। অভিযোগের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মামলাগুলোও হয়ে উঠছে আরও জটিল। বর্তমানে কোনো মামলা দায়ের করলে সেটির শুনানি ২০৩০ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

Image

মামলার সংখ্যা ৩৯ শতাংশ বেড়েছে

ব্রিটেনে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কর্মীদের দায়ের করা মামলার সংখ্যা ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মামলা নিষ্পত্তি বা খারিজ হওয়ার হার কমেছে।

মামলাগুলোও আগের তুলনায় জটিল হচ্ছে। যৌন হয়রানি, বয়সভিত্তিক বৈষম্যসহ নানা ধরনের অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত ‘ওপেন ট্র্যাক’ মামলার অংশ ২০২০-২১ সালে ৩৩ শতাংশ থাকলেও গত বছর তা বেড়ে ৬১ শতাংশ হয়েছে।

এই ধরনের মামলা এমনিতেই আদালতের বেশি সময় নেয়। এখন সেগুলো আরও দীর্ঘায়িত হওয়ায় এক বছরে নিষ্পত্তি না হওয়া ব্যক্তিগত মামলার সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণত কর্মক্ষেত্রের বিরোধ বাড়ায়। কিন্তু এবার তেমন কোনো স্পষ্ট অর্থনৈতিক কারণ দেখা যাচ্ছে না। আদালতে বিচারকের সংখ্যা এবং বিচারকাজের দিনও মহামারির আগের সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে আইনজীবীদের বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই মামলার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

কয়েকটি অভিযোগ থেকে শত শত পৃষ্ঠা

আইনজীবী ছাড়া নিজের মামলা পরিচালনা করা ব্যক্তিদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছে। কেউ একটি অস্পষ্ট অভিযোগ লিখে দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার জন্য মামলার আবেদন, আইনি যুক্তি, সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার জবাব এবং জেরার সময় কীভাবে উত্তর দিতে হবে—এসবও তৈরি করে দিতে পারে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন বিপদ।

এক পরীক্ষায় কাল্পনিক এক আবেদনকারী বলেছিলেন, কর্মক্ষেত্রে তাকে হয়রানি করা হয়েছে কারণ তিনি রাশিচক্রে বিশ্বাস করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাকে জানায়, এই বিশ্বাস এখনো বৈষম্য আইনে সুরক্ষিত নয়। তবে নিরামিষভিত্তিক জীবনযাপন সুরক্ষিত বিশ্বাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এরপর যন্ত্রটি এমন কিছু আবেগপূর্ণ ভাষাও যোগ করে দেয়, যা আবেদনকারী নিজে কখনো বলেননি।

ফলে একটি সাধারণ অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে দীর্ঘ ও ভারী আইনি নথিতে পরিণত হতে পারে।

বিচারকদের বিরক্তি বাড়ছে

ব্রিটেনের শীর্ষ বিচারকরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরোধী নন। বিচারব্যবস্থায় অনুবাদ, শুনানির সময়সূচি তৈরি এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত করার ক্ষেত্রে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিচার বিভাগের প্রধান লেডি কার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারকদের এমন কিছু কাজ থেকে মুক্ত করতে পারে, যা তাদের মূল বিচারিক দায়িত্বের বাইরে। তার বক্তব্যের সারকথা হলো—যন্ত্র যদি প্রশাসনিক কাজ সামলায়, তাহলে বিচারকরা বিচার করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে বেশি মন দিতে পারবেন।

কিন্তু কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রতিক কিছু মামলায় বিচারকদের বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিচারকরা সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও তথ্যভিত্তিক আবেদন চান। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অনেক মামলা শত শত পৃষ্ঠার হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক আইনি ধারা এবং এমন আইনও সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

একজন আইনজীবীর ভাষায়, আদালতে কখনো কখনো এমন সব আইনি দলিল হাজির হচ্ছে যেখানে ম্যাগনা কার্টা থেকে শুরু করে মানবাধিকারবিষয়ক ইউরোপীয় সনদ—সবকিছুই একসঙ্গে টেনে আনা হচ্ছে।

Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো বাদীকে ভুল আত্মবিশ্বাস দেয়

একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ২৮২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছিলেন। সেখানে ছিল ৬৭টি অভিযোগ। বিচারক যখন জানতে চান তিনি কোন অভিযোগগুলোর ওপর নির্ভর করবেন, তখন তিনি জানান, মোট অভিযোগের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করবেন। কিন্তু কোনগুলো ব্যবহার করবেন, সেটিই তিনি জানতেন না।

আরেক কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মামলা তৈরি করেছিলেন। বিচারকের কাছে তার সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হয় যে তিনি এমন একটি মামলা করছেন, যার প্রকৃতি তিনি নিজেই ভালোভাবে বোঝেন না এবং প্রশ্ন করা হলে ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষে যুক্তিও দিতে পারবেন না।

এমনকি এক উগ্র ডানপন্থী কর্মী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে শত শত গোপন রেকর্ডিং জমা দেন। কিন্তু আদালত দেখতে পায়, সেগুলোর অধিকাংশই শোনা যায় না। তারপরও ওই ব্যক্তি নিজের মামলার দুর্বলতা বুঝতে পারছিলেন না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন ব্যক্তিদেরও বারবার মামলা করার সক্ষমতা দিয়েছে, যারা আগে হয়তো এত সহজে আদালতে যেতেন না।

কর্মসংস্থান আদালত কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ

ব্রিটেনের কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল অন্য অনেক আদালতের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত মামলার ঢেউয়ের কাছে বেশি সংবেদনশীল।

এই আদালতগুলো মূলত সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও কম খরচের বিচারব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এখানে মামলা করতে কোনো ফি লাগে না। সাধারণ দেওয়ানি আদালতের মতো পরাজিত পক্ষকে সাধারণত প্রতিপক্ষের আইনি খরচ বহন করতে হয় না।

ফলে কেউ দুর্বল মামলা করলেও তাকে বড় আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয় না। এটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বড় সমস্যা তৈরি করছে।

বিচারকরাও শুধু কোনো আবেদন খারাপভাবে লেখা হয়েছে বলে তা বাতিল করতে পারেন না। এর মধ্যে প্রকৃত অভিযোগ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই বিচারকদের অনেক সময় পুরো মামলাটি খুলে দেখে তার প্রকৃত ভিত্তি খুঁজে বের করতে হয়।

নতুন আইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের নতুন কর্মসংস্থান অধিকার আইন পরিস্থিতিকে আরও বদলে দিতে যাচ্ছে।

১৯৬০-এর দশক থেকে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার কারণ ১০০টিরও বেশি হয়েছে। নতুন আইনে আরও প্রায় ২৫টি কারণ যোগ হচ্ছে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কোনো কর্মী মাত্র ছয় মাস চাকরি করার পরও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ আনতে পারবেন। বর্তমানে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দুই বছর চাকরির শর্ত রয়েছে।

এ ছাড়া অধিকাংশ মামলায় ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৪৩ পাউন্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থাৎ মামলা করার সুযোগ বাড়ছে, সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কেউ নিজের সম্ভাব্য জয়ের পরিমাণ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারণা পেতে পারেন।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী নতুন আইনের ফলে আইনি বিরোধ ১৭ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে অনেক আইনজীবীর ধারণা, প্রকৃত বৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হবে।

Image

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই কি সমস্যার সমাধান করবে

বর্তমান পরিস্থিতির একটি অদ্ভুত দিক হলো—যে প্রযুক্তি আদালতে অগোছালো ও দুর্বল মামলা বাড়াচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তিই হয়তো সেগুলো কমিয়ে আনতে পারে।

বিশেষায়িত আইনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কিছু ক্ষেত্রে মানব আইনজীবীদের চেয়েও ভালোভাবে নথি তৈরি করতে পারছে। চলতি বছর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান একজন মানব আইনজীবীর কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সফল মামলা প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থা কোনো কর্মীকে মামলা করার আগেই বলতে পারবে—তার অভিযোগের আইনি ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং মামলায় জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু।

এ জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ নির্ভরযোগ্য পুরোনো মামলার তথ্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফেলিক্স স্টেফেকের দল ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার পুরোনো মামলার তথ্য নিয়ে এমন একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে।

আসল পরিবর্তন হতে পারে ক্ষমতার ভারসাম্যে

যদি এই প্রযুক্তি সত্যিই সফল হয়, তাহলে কর্মসংস্থান আইনে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

আজ একজন সাধারণ কর্মীর পক্ষে একজন দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে তার হাতের মুঠোয় এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীর মতো করে মামলা সাজিয়ে দিতে সক্ষম।

তখন বর্তমানের দুর্বল ও অগোছালো মামলার বন্যা হয়তো কমে গিয়ে তার জায়গায় আসতে পারে আরও শক্তিশালী এবং সফল মামলার ঢেউ।

ব্রিটিশ সরকারের নতুন কর্মসংস্থান আইন মূলত নিয়োগকর্তার তুলনায় কর্মীদের ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ক্ষমতার ভারসাম্যকে সরকারের ধারণার চেয়েও দ্রুত এবং অনেক দূর পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিছুই ঘটবে না—এই বাজি কি ফেডের জন্য বিপজ্জনক?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আইনি সহায়তায় ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতে মামলার জোয়ার

০৫:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দায়ের করা মামলার সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে যে পুরো বিচারব্যবস্থায় নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একসময় বছরে অল্প কয়েকটি আবেদন আসত এমন একটি জরুরি আইনি ব্যবস্থায় এখন মাসে মাসে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে। এর ফলে প্রকৃত অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কর্মীরাও ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়ছেন।

বছরে ২০ থেকে মাসে কয়েকশ আবেদন

ব্রিটিশ কর্মসংস্থান আইনে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার’ নামে একটি জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মনে হলে বিচারক প্রতিষ্ঠানকে তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা অন্তত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

সাধারণত এই ব্যবস্থা খুব কম ব্যবহার করা হতো। ব্রিটেনজুড়ে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালগুলোতে বছরে প্রায় ২০টি আবেদন আসত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

২২ জুন প্রকাশিত এক স্মারকে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যারি ক্লার্ক ও সুসান ওয়াকার জানান, এখন দেশটির ১২টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিটিতে মাসে প্রায় ২০টি করে আবেদন জমা পড়ছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় এই ধরনের আবেদনের হার শতগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বেশির ভাগ আবেদন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে সেগুলোর জন্য জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে অন্যান্য মামলার শুনানিও পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিচারকদের ধারণা, এই আকস্মিক বিস্ফোরণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

আইনজীবীর বদলে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কর্মীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিনামূল্যের আইনি সহায়তা প্রথম দেখায় ইতিবাচক বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমস্যার সৃষ্টি করছে।

যেসব কর্মীর সত্যিই অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার পেতে এখন আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের প্রকৃত অভিযোগের পাশাপাশি ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত অভিযোগের বিরুদ্ধেও আইনজীবী নিয়োগ করে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

অর্থাৎ ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা এখন অতিরিক্ত প্রবেশাধিকারের চাপেই বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

কর্মীরা আইনজীবীর বদলে এখন বড় ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সাহায্যে নিজেদের নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা সাজাচ্ছেন। অভিযোগের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মামলাগুলোও হয়ে উঠছে আরও জটিল। বর্তমানে কোনো মামলা দায়ের করলে সেটির শুনানি ২০৩০ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

Image

মামলার সংখ্যা ৩৯ শতাংশ বেড়েছে

ব্রিটেনে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কর্মীদের দায়ের করা মামলার সংখ্যা ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মামলা নিষ্পত্তি বা খারিজ হওয়ার হার কমেছে।

মামলাগুলোও আগের তুলনায় জটিল হচ্ছে। যৌন হয়রানি, বয়সভিত্তিক বৈষম্যসহ নানা ধরনের অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত ‘ওপেন ট্র্যাক’ মামলার অংশ ২০২০-২১ সালে ৩৩ শতাংশ থাকলেও গত বছর তা বেড়ে ৬১ শতাংশ হয়েছে।

এই ধরনের মামলা এমনিতেই আদালতের বেশি সময় নেয়। এখন সেগুলো আরও দীর্ঘায়িত হওয়ায় এক বছরে নিষ্পত্তি না হওয়া ব্যক্তিগত মামলার সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণত কর্মক্ষেত্রের বিরোধ বাড়ায়। কিন্তু এবার তেমন কোনো স্পষ্ট অর্থনৈতিক কারণ দেখা যাচ্ছে না। আদালতে বিচারকের সংখ্যা এবং বিচারকাজের দিনও মহামারির আগের সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে আইনজীবীদের বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই মামলার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

কয়েকটি অভিযোগ থেকে শত শত পৃষ্ঠা

আইনজীবী ছাড়া নিজের মামলা পরিচালনা করা ব্যক্তিদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছে। কেউ একটি অস্পষ্ট অভিযোগ লিখে দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার জন্য মামলার আবেদন, আইনি যুক্তি, সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার জবাব এবং জেরার সময় কীভাবে উত্তর দিতে হবে—এসবও তৈরি করে দিতে পারে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন বিপদ।

এক পরীক্ষায় কাল্পনিক এক আবেদনকারী বলেছিলেন, কর্মক্ষেত্রে তাকে হয়রানি করা হয়েছে কারণ তিনি রাশিচক্রে বিশ্বাস করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাকে জানায়, এই বিশ্বাস এখনো বৈষম্য আইনে সুরক্ষিত নয়। তবে নিরামিষভিত্তিক জীবনযাপন সুরক্ষিত বিশ্বাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এরপর যন্ত্রটি এমন কিছু আবেগপূর্ণ ভাষাও যোগ করে দেয়, যা আবেদনকারী নিজে কখনো বলেননি।

ফলে একটি সাধারণ অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে দীর্ঘ ও ভারী আইনি নথিতে পরিণত হতে পারে।

বিচারকদের বিরক্তি বাড়ছে

ব্রিটেনের শীর্ষ বিচারকরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরোধী নন। বিচারব্যবস্থায় অনুবাদ, শুনানির সময়সূচি তৈরি এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত করার ক্ষেত্রে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিচার বিভাগের প্রধান লেডি কার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারকদের এমন কিছু কাজ থেকে মুক্ত করতে পারে, যা তাদের মূল বিচারিক দায়িত্বের বাইরে। তার বক্তব্যের সারকথা হলো—যন্ত্র যদি প্রশাসনিক কাজ সামলায়, তাহলে বিচারকরা বিচার করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে বেশি মন দিতে পারবেন।

কিন্তু কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রতিক কিছু মামলায় বিচারকদের বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিচারকরা সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও তথ্যভিত্তিক আবেদন চান। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অনেক মামলা শত শত পৃষ্ঠার হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক আইনি ধারা এবং এমন আইনও সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

একজন আইনজীবীর ভাষায়, আদালতে কখনো কখনো এমন সব আইনি দলিল হাজির হচ্ছে যেখানে ম্যাগনা কার্টা থেকে শুরু করে মানবাধিকারবিষয়ক ইউরোপীয় সনদ—সবকিছুই একসঙ্গে টেনে আনা হচ্ছে।

Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো বাদীকে ভুল আত্মবিশ্বাস দেয়

একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ২৮২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছিলেন। সেখানে ছিল ৬৭টি অভিযোগ। বিচারক যখন জানতে চান তিনি কোন অভিযোগগুলোর ওপর নির্ভর করবেন, তখন তিনি জানান, মোট অভিযোগের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করবেন। কিন্তু কোনগুলো ব্যবহার করবেন, সেটিই তিনি জানতেন না।

আরেক কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মামলা তৈরি করেছিলেন। বিচারকের কাছে তার সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হয় যে তিনি এমন একটি মামলা করছেন, যার প্রকৃতি তিনি নিজেই ভালোভাবে বোঝেন না এবং প্রশ্ন করা হলে ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষে যুক্তিও দিতে পারবেন না।

এমনকি এক উগ্র ডানপন্থী কর্মী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে শত শত গোপন রেকর্ডিং জমা দেন। কিন্তু আদালত দেখতে পায়, সেগুলোর অধিকাংশই শোনা যায় না। তারপরও ওই ব্যক্তি নিজের মামলার দুর্বলতা বুঝতে পারছিলেন না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন ব্যক্তিদেরও বারবার মামলা করার সক্ষমতা দিয়েছে, যারা আগে হয়তো এত সহজে আদালতে যেতেন না।

কর্মসংস্থান আদালত কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ

ব্রিটেনের কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল অন্য অনেক আদালতের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত মামলার ঢেউয়ের কাছে বেশি সংবেদনশীল।

এই আদালতগুলো মূলত সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও কম খরচের বিচারব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এখানে মামলা করতে কোনো ফি লাগে না। সাধারণ দেওয়ানি আদালতের মতো পরাজিত পক্ষকে সাধারণত প্রতিপক্ষের আইনি খরচ বহন করতে হয় না।

ফলে কেউ দুর্বল মামলা করলেও তাকে বড় আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয় না। এটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বড় সমস্যা তৈরি করছে।

বিচারকরাও শুধু কোনো আবেদন খারাপভাবে লেখা হয়েছে বলে তা বাতিল করতে পারেন না। এর মধ্যে প্রকৃত অভিযোগ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই বিচারকদের অনেক সময় পুরো মামলাটি খুলে দেখে তার প্রকৃত ভিত্তি খুঁজে বের করতে হয়।

নতুন আইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের নতুন কর্মসংস্থান অধিকার আইন পরিস্থিতিকে আরও বদলে দিতে যাচ্ছে।

১৯৬০-এর দশক থেকে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার কারণ ১০০টিরও বেশি হয়েছে। নতুন আইনে আরও প্রায় ২৫টি কারণ যোগ হচ্ছে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কোনো কর্মী মাত্র ছয় মাস চাকরি করার পরও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ আনতে পারবেন। বর্তমানে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দুই বছর চাকরির শর্ত রয়েছে।

এ ছাড়া অধিকাংশ মামলায় ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৪৩ পাউন্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থাৎ মামলা করার সুযোগ বাড়ছে, সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কেউ নিজের সম্ভাব্য জয়ের পরিমাণ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারণা পেতে পারেন।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী নতুন আইনের ফলে আইনি বিরোধ ১৭ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে অনেক আইনজীবীর ধারণা, প্রকৃত বৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হবে।

Image

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই কি সমস্যার সমাধান করবে

বর্তমান পরিস্থিতির একটি অদ্ভুত দিক হলো—যে প্রযুক্তি আদালতে অগোছালো ও দুর্বল মামলা বাড়াচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তিই হয়তো সেগুলো কমিয়ে আনতে পারে।

বিশেষায়িত আইনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কিছু ক্ষেত্রে মানব আইনজীবীদের চেয়েও ভালোভাবে নথি তৈরি করতে পারছে। চলতি বছর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান একজন মানব আইনজীবীর কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সফল মামলা প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থা কোনো কর্মীকে মামলা করার আগেই বলতে পারবে—তার অভিযোগের আইনি ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং মামলায় জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু।

এ জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ নির্ভরযোগ্য পুরোনো মামলার তথ্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফেলিক্স স্টেফেকের দল ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার পুরোনো মামলার তথ্য নিয়ে এমন একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে।

আসল পরিবর্তন হতে পারে ক্ষমতার ভারসাম্যে

যদি এই প্রযুক্তি সত্যিই সফল হয়, তাহলে কর্মসংস্থান আইনে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

আজ একজন সাধারণ কর্মীর পক্ষে একজন দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে তার হাতের মুঠোয় এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীর মতো করে মামলা সাজিয়ে দিতে সক্ষম।

তখন বর্তমানের দুর্বল ও অগোছালো মামলার বন্যা হয়তো কমে গিয়ে তার জায়গায় আসতে পারে আরও শক্তিশালী এবং সফল মামলার ঢেউ।

ব্রিটিশ সরকারের নতুন কর্মসংস্থান আইন মূলত নিয়োগকর্তার তুলনায় কর্মীদের ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ক্ষমতার ভারসাম্যকে সরকারের ধারণার চেয়েও দ্রুত এবং অনেক দূর পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।