০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা মাদুরো পতনের পর ওয়াশিংটনের ছায়ায় ভেনেজুয়েলা, ক্ষমতার কেন্দ্রে দেলসি রদ্রিগেজ পাইথনের সহজতা আর সি-এর গতি—দুই জগতকে এক করতে পারে জুলিয়া? শিশুরা পড়তে পারে, কিন্তু বুঝতে পারছে তো? শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট চীনের পাঠশালা থেকে জীবনের পাঠ: এক শিক্ষকের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি আবারও আলোচনায় আফ্রোম্যান, ফিরছে পুরোনো এক সাংস্কৃতিক উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, হাসিনার প্রত্যর্পণে দিল্লিকে তাগিদ

নারী ফুটবল দলের কোচ হয়ে ফিরেও কেন ব্যর্থ টেড ল্যাসো?

তিন বছর পর আবার ফিরেছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘টেড ল্যাসো’। একসময় আমেরিকান ফুটবলের এক অদ্ভুতুড়ে কোচ হয়ে ইংল্যান্ডের একটি পিছিয়ে থাকা ফুটবল ক্লাবকে ঘুরে দাঁড় করানো টেড ল্যাসো চরিত্রটি দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিল আশাবাদ, মানবিকতা ও পুরুষত্বের নতুন এক প্রতীক। কিন্তু চতুর্থ মৌসুমে সেই পরিচিত টেডকে নতুন বাস্তবতায় বসাতে গিয়ে গল্পটি যেন নিজের শক্তিটাই হারিয়ে ফেলেছে।

তৃতীয় মৌসুমের শেষে টেড নিজের ছেলে হেনরির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে ফিরে গিয়েছিলেন। মনে হয়েছিল, সেখানেই তার গল্পের স্বাভাবিক সমাপ্তি। কিন্তু জনপ্রিয় চরিত্রকে খুব বেশি দিন দর্শকের কাছ থেকে দূরে রাখা যায়নি। তাই আবারও তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইংল্যান্ডে। এবার অবশ্য পুরুষদের দল নয়, এএফসি রিচমন্ডের নতুন নারী দল ‘লেডি গ্রেহাউন্ডস’-এর দায়িত্ব নিতে।

সমস্যা হলো, টেডকে এই নতুন দলে যতটা স্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা, বাস্তবে ততটাই বেমানান লাগে।

কানসাস থেকে আবার লন্ডনে

চতুর্থ মৌসুমের শুরুতেই দেখা যায়, টেড একটি সুপারমার্কেটের ক্যাশ কাউন্টারে কাজ করছেন। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ছেলের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। কিন্তু পুরোনো বস রেবেকা, সহকর্মী কিলি ও হিগিন্স যখন লন্ডন থেকে এসে তাকে নতুন নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন টেডের জীবনে আবার পরিবর্তনের দরজা খুলে যায়।

টেডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ফুটবল সম্পর্কে তার জ্ঞান এখনও খুব সীমিত। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—একজন নারী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার চেয়ে যোগ্য নারী কোচ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকেই বেছে নেওয়া হবে?

তার সাবেক স্ত্রী মিশেলও সহজেই লন্ডনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ছেলে হেনরিকেও সঙ্গে নিয়ে টেড আবার পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। অর্থাৎ গল্পের সবকিছু যেন আবারও টেডের সুবিধামতো সাজানো হয়।

পুরোনো মুখ, নতুন দল

পুরোনো চরিত্রগুলোর বেশির ভাগই ফিরে এসেছে। রয় কেন্ট এখন পুরুষ দলের কোচ হিসেবে টেডের জায়গা নিয়েছেন। তার পাশে এখনও আছেন বিয়ার্ড। তবে টেডের অনুপস্থিতিতে বিয়ার্ড যেন অনেকটাই নিজের খোলস থেকে বেরিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

রেবেকা ও কিলি এবার লড়ছেন নারী দলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক বাধার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে টেডকে সামলাতে হচ্ছে সহকারী কোচ অ্যালিসকে। অ্যালিসকেই মূল কোচ হওয়ার জন্য উপেক্ষা করা হয়েছিল।

অ্যালিস চরিত্রটি তাই টেডের ফিরে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যালোচনার জন্য পাওয়া প্রথম চারটি পর্বে টেডের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের প্রত্যাশিত ঘনিষ্ঠতা খুব একটা তৈরি হয়নি। ফলে যে মানুষটি একসময় পুরো একটি দলকে আবেগ ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে বদলে দিয়েছিলেন, এবার তাকেই যেন গল্পের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

যে গল্প ছিল পুরুষত্ব নিয়ে

‘টেড ল্যাসো’র মূল শক্তি কখনোই মাঠের ফুটবল ছিল না। বরং এটি ছিল পুরুষদের নিজেদের আবেগ, ব্যর্থতা, সম্পর্ক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার গল্প।

টেড ছিলেন সেই পরিবর্তনের অনুঘটক। তার সহজ-সরল হাসি, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি বিশ্বাস একের পর এক কঠিন পুরুষ চরিত্রকে নিজেদের ভেতরের দুর্বলতার মুখোমুখি হতে সাহায্য করেছিল।

বিশেষ করে বাবাকে ঘিরে মানসিক ক্ষত এবং সেই ক্ষত কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষদের আচরণে প্রভাব ফেলে—ধারাবাহিকটি সেই বিষয়টিকে বেশ যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেছিল। শেষ পর্যন্ত টেডের নিজের ছেলের কাছে ফিরে যাওয়া সেই দীর্ঘ যাত্রারই পরিণতি ছিল।

কিন্তু নারী দলের কোচ হিসেবে টেডের পুরোনো ‘বাবার মতো’ ভূমিকা এবার জটিল হয়ে উঠেছে।

Ted Lasso' Recap Season 2, Episode 5: Rom-Communism - The New York Times

টেডের মানবিকতা এবার কেন অস্বস্তিকর?

নারী খেলোয়াড়দের সামনে টেড যদি সবসময় জ্ঞান বিতরণ করেন, তাহলে তার আচরণ সহজেই পুরুষের পক্ষ থেকে নারীদের শেখানোর প্রবণতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। আবার তিনি যদি অতিরিক্তভাবে পিছিয়ে থাকেন এবং সব সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন, তাহলেও তাকে কৃত্রিমভাবে নিজেকে প্রগতিশীল প্রমাণ করতে চাওয়া একজন পুরুষ হিসেবে মনে হতে পারে।

এই দ্বিধা থেকেই ধারাবাহিকটি টেডকে অনেকটা পেছনে সরিয়ে দিয়েছে।

নারী দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, দলগত বিভাজন, বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন অ্যালিস ও রিচমন্ডের মনোচিকিৎসক শ্যারন। কিন্তু এর ফলে টেড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই আবেগঘন সম্পর্কটি তৈরি হচ্ছে না, যা পুরোনো মৌসুমগুলোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল।

নারী চরিত্রগুলোও কি যথেষ্ট শক্তিশালী?

আরেকটি দুর্বলতা নারী চরিত্রগুলোর নির্মাণে। রেবেকা ও কিলির মতো শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় চরিত্র থাকলেও তাদের ব্যবসায়িক গল্প অনেক সময় এমনভাবে এগোয়, যেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক পেশাজীবী না হয়ে এখনও কিশোরী বন্ধুর মতো আচরণ করছে।

চতুর্থ মৌসুমে নারী লেখক ও পরিচালক যুক্ত থাকলেও অ্যালিসই এমন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যাকে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির ছাঁকনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয় না।

এখানেই ধারাবাহিকটির সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ। নারী খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করে নতুন গল্প তৈরি করার সুযোগ তৈরি হলেও পুরোনো পুরুষ চরিত্রটিকেই তার কেন্দ্রে রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না।

টেড ল্যাসো কি তাহলে শেষ?

পুরোপুরি নয়। নতুন মৌসুমে এখনও আগের ধারাবাহিকটির কোমলতা, মানবিকতা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে যৌনবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কিছুটা দেখা যায়। রয় ও কিলিকে নিয়ে দর্শকের পুরোনো আবেগও এখানে কাজে লাগানো হয়েছে।

তবে সমস্যা হলো, টেড ল্যাসো এখন আর আগের মতো গল্পের প্রয়োজনীয় কেন্দ্রবিন্দু নন। নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আরও অনেক গল্প অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেই গল্প বলতে হলে হয়তো এমন একজন কোচের প্রয়োজন, যিনি এই নতুন জগতের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানানসই।

টেড ল্যাসো একসময় পুরুষদের শেখাতে পেরেছিলেন কীভাবে আরও ভালো মানুষ হওয়া যায়। কিন্তু নারী ফুটবল দলের সামনে দাঁড়িয়ে সেই একই ভূমিকা তার জন্য আর স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।

তাই নতুন মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো নারী দলটি কতটা সফল হবে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—টেড ল্যাসো কি নিজের তৈরি গল্পের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছেন?

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে

নারী ফুটবল দলের কোচ হয়ে ফিরেও কেন ব্যর্থ টেড ল্যাসো?

০৬:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

তিন বছর পর আবার ফিরেছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘টেড ল্যাসো’। একসময় আমেরিকান ফুটবলের এক অদ্ভুতুড়ে কোচ হয়ে ইংল্যান্ডের একটি পিছিয়ে থাকা ফুটবল ক্লাবকে ঘুরে দাঁড় করানো টেড ল্যাসো চরিত্রটি দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিল আশাবাদ, মানবিকতা ও পুরুষত্বের নতুন এক প্রতীক। কিন্তু চতুর্থ মৌসুমে সেই পরিচিত টেডকে নতুন বাস্তবতায় বসাতে গিয়ে গল্পটি যেন নিজের শক্তিটাই হারিয়ে ফেলেছে।

তৃতীয় মৌসুমের শেষে টেড নিজের ছেলে হেনরির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে ফিরে গিয়েছিলেন। মনে হয়েছিল, সেখানেই তার গল্পের স্বাভাবিক সমাপ্তি। কিন্তু জনপ্রিয় চরিত্রকে খুব বেশি দিন দর্শকের কাছ থেকে দূরে রাখা যায়নি। তাই আবারও তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইংল্যান্ডে। এবার অবশ্য পুরুষদের দল নয়, এএফসি রিচমন্ডের নতুন নারী দল ‘লেডি গ্রেহাউন্ডস’-এর দায়িত্ব নিতে।

সমস্যা হলো, টেডকে এই নতুন দলে যতটা স্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা, বাস্তবে ততটাই বেমানান লাগে।

কানসাস থেকে আবার লন্ডনে

চতুর্থ মৌসুমের শুরুতেই দেখা যায়, টেড একটি সুপারমার্কেটের ক্যাশ কাউন্টারে কাজ করছেন। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ছেলের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। কিন্তু পুরোনো বস রেবেকা, সহকর্মী কিলি ও হিগিন্স যখন লন্ডন থেকে এসে তাকে নতুন নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন টেডের জীবনে আবার পরিবর্তনের দরজা খুলে যায়।

টেডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ফুটবল সম্পর্কে তার জ্ঞান এখনও খুব সীমিত। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—একজন নারী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার চেয়ে যোগ্য নারী কোচ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকেই বেছে নেওয়া হবে?

তার সাবেক স্ত্রী মিশেলও সহজেই লন্ডনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ছেলে হেনরিকেও সঙ্গে নিয়ে টেড আবার পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। অর্থাৎ গল্পের সবকিছু যেন আবারও টেডের সুবিধামতো সাজানো হয়।

পুরোনো মুখ, নতুন দল

পুরোনো চরিত্রগুলোর বেশির ভাগই ফিরে এসেছে। রয় কেন্ট এখন পুরুষ দলের কোচ হিসেবে টেডের জায়গা নিয়েছেন। তার পাশে এখনও আছেন বিয়ার্ড। তবে টেডের অনুপস্থিতিতে বিয়ার্ড যেন অনেকটাই নিজের খোলস থেকে বেরিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

রেবেকা ও কিলি এবার লড়ছেন নারী দলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক বাধার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে টেডকে সামলাতে হচ্ছে সহকারী কোচ অ্যালিসকে। অ্যালিসকেই মূল কোচ হওয়ার জন্য উপেক্ষা করা হয়েছিল।

অ্যালিস চরিত্রটি তাই টেডের ফিরে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যালোচনার জন্য পাওয়া প্রথম চারটি পর্বে টেডের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের প্রত্যাশিত ঘনিষ্ঠতা খুব একটা তৈরি হয়নি। ফলে যে মানুষটি একসময় পুরো একটি দলকে আবেগ ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে বদলে দিয়েছিলেন, এবার তাকেই যেন গল্পের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

যে গল্প ছিল পুরুষত্ব নিয়ে

‘টেড ল্যাসো’র মূল শক্তি কখনোই মাঠের ফুটবল ছিল না। বরং এটি ছিল পুরুষদের নিজেদের আবেগ, ব্যর্থতা, সম্পর্ক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার গল্প।

টেড ছিলেন সেই পরিবর্তনের অনুঘটক। তার সহজ-সরল হাসি, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি বিশ্বাস একের পর এক কঠিন পুরুষ চরিত্রকে নিজেদের ভেতরের দুর্বলতার মুখোমুখি হতে সাহায্য করেছিল।

বিশেষ করে বাবাকে ঘিরে মানসিক ক্ষত এবং সেই ক্ষত কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষদের আচরণে প্রভাব ফেলে—ধারাবাহিকটি সেই বিষয়টিকে বেশ যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেছিল। শেষ পর্যন্ত টেডের নিজের ছেলের কাছে ফিরে যাওয়া সেই দীর্ঘ যাত্রারই পরিণতি ছিল।

কিন্তু নারী দলের কোচ হিসেবে টেডের পুরোনো ‘বাবার মতো’ ভূমিকা এবার জটিল হয়ে উঠেছে।

Ted Lasso' Recap Season 2, Episode 5: Rom-Communism - The New York Times

টেডের মানবিকতা এবার কেন অস্বস্তিকর?

নারী খেলোয়াড়দের সামনে টেড যদি সবসময় জ্ঞান বিতরণ করেন, তাহলে তার আচরণ সহজেই পুরুষের পক্ষ থেকে নারীদের শেখানোর প্রবণতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। আবার তিনি যদি অতিরিক্তভাবে পিছিয়ে থাকেন এবং সব সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন, তাহলেও তাকে কৃত্রিমভাবে নিজেকে প্রগতিশীল প্রমাণ করতে চাওয়া একজন পুরুষ হিসেবে মনে হতে পারে।

এই দ্বিধা থেকেই ধারাবাহিকটি টেডকে অনেকটা পেছনে সরিয়ে দিয়েছে।

নারী দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, দলগত বিভাজন, বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন অ্যালিস ও রিচমন্ডের মনোচিকিৎসক শ্যারন। কিন্তু এর ফলে টেড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই আবেগঘন সম্পর্কটি তৈরি হচ্ছে না, যা পুরোনো মৌসুমগুলোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল।

নারী চরিত্রগুলোও কি যথেষ্ট শক্তিশালী?

আরেকটি দুর্বলতা নারী চরিত্রগুলোর নির্মাণে। রেবেকা ও কিলির মতো শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় চরিত্র থাকলেও তাদের ব্যবসায়িক গল্প অনেক সময় এমনভাবে এগোয়, যেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক পেশাজীবী না হয়ে এখনও কিশোরী বন্ধুর মতো আচরণ করছে।

চতুর্থ মৌসুমে নারী লেখক ও পরিচালক যুক্ত থাকলেও অ্যালিসই এমন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যাকে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির ছাঁকনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয় না।

এখানেই ধারাবাহিকটির সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ। নারী খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করে নতুন গল্প তৈরি করার সুযোগ তৈরি হলেও পুরোনো পুরুষ চরিত্রটিকেই তার কেন্দ্রে রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না।

টেড ল্যাসো কি তাহলে শেষ?

পুরোপুরি নয়। নতুন মৌসুমে এখনও আগের ধারাবাহিকটির কোমলতা, মানবিকতা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে যৌনবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কিছুটা দেখা যায়। রয় ও কিলিকে নিয়ে দর্শকের পুরোনো আবেগও এখানে কাজে লাগানো হয়েছে।

তবে সমস্যা হলো, টেড ল্যাসো এখন আর আগের মতো গল্পের প্রয়োজনীয় কেন্দ্রবিন্দু নন। নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আরও অনেক গল্প অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেই গল্প বলতে হলে হয়তো এমন একজন কোচের প্রয়োজন, যিনি এই নতুন জগতের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানানসই।

টেড ল্যাসো একসময় পুরুষদের শেখাতে পেরেছিলেন কীভাবে আরও ভালো মানুষ হওয়া যায়। কিন্তু নারী ফুটবল দলের সামনে দাঁড়িয়ে সেই একই ভূমিকা তার জন্য আর স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।

তাই নতুন মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো নারী দলটি কতটা সফল হবে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—টেড ল্যাসো কি নিজের তৈরি গল্পের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছেন?