০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
নিখোঁজ রুশ-ইসরায়েলি ইতিহাসবিদকে নিয়ে নীরব ইসরায়েল, মস্কোর জবাব চাওয়া লাওসে চীনের বিরল মাটির খনি প্রকল্পে ধাক্কা, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মুনাফার জোয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে শীর্ষে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্ভারে বড় বাজি, তাইওয়ান-ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা বাড়াচ্ছে কমপাল অবসরপ্রাপ্ত সামরিক জনবলকে শিক্ষায় কাজে লাগাতে পারে ভারত জাপানে রেকর্ড সংখ্যক ইজাকায়া বন্ধ, বদলে যাচ্ছে পানাহারের সংস্কৃতি এআইয়ের দাপটে ডেটা সেন্টার বীমার বাজার ১০ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে পুলিশের গাফিলতি স্বীকার, পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কাবেরী জলবণ্টন বিরোধে বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর আবেদন শুনবে সুপ্রিম কোর্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এক নম্বর শি ইউ ছির মুখোমুখি আয়ুশ, ‘এটা আরেকটি ম্যাচ’

লোকসভার হট্টগোলে বিতর্ক ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল পাস

ভারতের লোকসভায় বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেই কোনো আলোচনা ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন করা হয়। বিলটির লক্ষ্য বিভিন্ন জাতীয় ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিশন গঠন করা।

লোকসভায় বিলটি পাসের সময় বিরোধী সদস্যরা দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে প্রতিবাদ করছিলেন। ফলে সংসদে স্বাভাবিক আলোচনা সম্ভব হয়নি। বিলটির ওপর আলোচনার জন্য বিরোধী সদস্যরা নোটিশ দিলেও শেষ পর্যন্ত হট্টগোলের মধ্যে তারা বক্তব্য দেননি।

গঠিত হবে জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন

বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইন বাতিল হবে। নতুন আইনের অধীনে নয়াদিল্লিতে জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠন করা হবে।

প্রস্তাবিত কমিশনে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য। চার সদস্যের মধ্যে দুজন বিচার বিভাগীয় এবং দুজন কারিগরি সদস্য থাকবেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অথবা কোনো উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য হবেন।

আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি উপস্থাপন করে বলেন, ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিন্নতা আনা এবং এর কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কোনো ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন করবে না। সরকারের বৃহত্তর সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপট

ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যক্রম ও নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইনের কয়েকটি বিধান বাতিল করে দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ওই বিধানগুলোর কিছু অংশ ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের নিয়োগ, মেয়াদ ও কার্যক্রম নিয়ে আগের রায়ের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।

পরে সুপ্রিম কোর্ট পেশাদার দক্ষতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়।

নিয়োগ থেকে চাকরির শর্ত—সবই কমিশনের আওতায়

প্রস্তাবিত আইনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, নির্বাচন ও নিয়োগের পাশাপাশি তাদের বেতন, ভাতা, মেয়াদ, পদত্যাগ, অপসারণ এবং অন্যান্য চাকরির শর্ত নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, একটি কেন্দ্রীয় কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

তবে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস হওয়ায় এর সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক একটি আইনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা না হওয়ায় বিরোধীরা ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও আপত্তি তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজ রুশ-ইসরায়েলি ইতিহাসবিদকে নিয়ে নীরব ইসরায়েল, মস্কোর জবাব চাওয়া

লোকসভার হট্টগোলে বিতর্ক ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল পাস

০৬:১৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের লোকসভায় বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেই কোনো আলোচনা ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন করা হয়। বিলটির লক্ষ্য বিভিন্ন জাতীয় ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিশন গঠন করা।

লোকসভায় বিলটি পাসের সময় বিরোধী সদস্যরা দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে প্রতিবাদ করছিলেন। ফলে সংসদে স্বাভাবিক আলোচনা সম্ভব হয়নি। বিলটির ওপর আলোচনার জন্য বিরোধী সদস্যরা নোটিশ দিলেও শেষ পর্যন্ত হট্টগোলের মধ্যে তারা বক্তব্য দেননি।

গঠিত হবে জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন

বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইন বাতিল হবে। নতুন আইনের অধীনে নয়াদিল্লিতে জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠন করা হবে।

প্রস্তাবিত কমিশনে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য। চার সদস্যের মধ্যে দুজন বিচার বিভাগীয় এবং দুজন কারিগরি সদস্য থাকবেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অথবা কোনো উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য হবেন।

আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি উপস্থাপন করে বলেন, ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিন্নতা আনা এবং এর কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কোনো ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন করবে না। সরকারের বৃহত্তর সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপট

ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যক্রম ও নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইনের কয়েকটি বিধান বাতিল করে দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ওই বিধানগুলোর কিছু অংশ ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের নিয়োগ, মেয়াদ ও কার্যক্রম নিয়ে আগের রায়ের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।

পরে সুপ্রিম কোর্ট পেশাদার দক্ষতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়।

নিয়োগ থেকে চাকরির শর্ত—সবই কমিশনের আওতায়

প্রস্তাবিত আইনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, নির্বাচন ও নিয়োগের পাশাপাশি তাদের বেতন, ভাতা, মেয়াদ, পদত্যাগ, অপসারণ এবং অন্যান্য চাকরির শর্ত নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, একটি কেন্দ্রীয় কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

তবে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস হওয়ায় এর সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক একটি আইনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা না হওয়ায় বিরোধীরা ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও আপত্তি তুলতে পারে।