০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
এশিয়ায় শরীরচর্চার নতুন জোয়ার, প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে বাড়ছে হাইরক্সের জনপ্রিয়তা আদালতের ভাষা বদলালেই কি বদলাবে যৌন সহিংসতার বিচার? রপ্তানিকারকদের চাপে ইউয়ানের গতি কমাচ্ছে চীন খাদ্যপণ্যে কর কমানো নিয়ে জাপানের ক্ষমতাসীন দলে তীব্র বিরোধ, চাপে তাকাইচি তৃণমূলের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রপতির দৌড়ে মির্জা ফখরুল, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে সর্বোচ্চ পদে লিঙ্গসমতার প্রতিশ্রুতি কি আজও সুরক্ষিত? মরুভূমি থেকে তৃণভূমি, গরুর পাল বাড়িয়ে মাংসের বাজারে চীন অঢেল অর্থের মানুষের অসম্ভব ইচ্ছা পূরণ করাই অলিভিয়া ফার্নির কাজ মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের নদীদূষণ চুক্তি কি সংকট ঠেকাতে পারবে? খনি দূষণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ রাজধানী ছাড়ার বিশ্বজোড়া প্রবণতার বিপরীতে টোকিও-সিউল, কেন মানুষ ছুটছে এই দুই শহরে?

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী নুসান্তারা মুগ্ধ করছে পর্যটকদের, তবে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে গড়ে তোলা নতুন রাজধানী নুসান্তারা তার আধুনিক স্থাপত্য, সবুজ পরিবেশ ও দৃষ্টিনন্দন সরকারি ভবনের কারণে পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। কিন্তু পর্যটকদের চোখে যতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে শহরটি, বিনিয়োগকারীদের কাছে ততটাই বড় হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার প্রশ্ন। প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে ব্যবসায়ীরা এখন আরও স্পষ্ট নীতিমালা, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চাইছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

আলো ঝলমলে প্রাসাদে মুগ্ধ পর্যটক

জুলাইয়ের শেষ দিকে এক সন্ধ্যায় নুসান্তারার কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয় একদল পর্যটক। সূর্য ডোবার পর আলোয় ঝলমল করছিল গরুড়ার আকৃতিতে নির্মিত বিশাল গরুড়া প্রাসাদ। ভবনটির নকশা ও আলোকসজ্জা দেখে পর্যটকেরা ছবি তুলছিলেন এবং নতুন রাজধানীর সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন।

নুসান্তারা ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো রাজধানী জাকার্তার বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যৎমুখী একটি রাজধানী। বিশাল পরিসরে সড়ক, সরকারি ভবন, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

তবে চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যের আড়ালে প্রকল্পটির সামনে রয়েছে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বিনিয়োগকারীদের বড় প্রশ্ন নিশ্চয়তা

নুসান্তারা নির্মাণে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছে।

ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ী মহলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু বড় প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখছেন না। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, সরকারের ধারাবাহিক নীতি এবং বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের ভাষায়, প্রকল্পের আকার যত বড়ই হোক, বাস্তবায়ন নিয়ে যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাহলে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা কঠিন।

২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে চাপ

নুসান্তারা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। এত বড় অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না। তাদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্থিরতা এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য পরিষ্কার নিয়মকানুন।

এই নিশ্চয়তা না থাকলে অনেক বিনিয়োগকারী অপেক্ষা করার পথ বেছে নিতে পারেন। ফলে রাজধানী নির্মাণের গতি এবং শহরটিকে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা—দুটিই চাপের মুখে পড়তে পারে।

পর্যটনের আকর্ষণ বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা

নুসান্তারা ইতিমধ্যে পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ত এলাকা এবং ভবিষ্যৎ নগরীর পরিকল্পনা দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

কিন্তু একটি রাজধানী শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে সফল হলেই যথেষ্ট নয়। সেখানে সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এ কারণে নুসান্তারার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শহরটি কত দ্রুত একটি জীবন্ত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে তার ওপর।

Indonesia's new capital Nusantara awes tourists but faces uncertain future  - Nikkei Asia

জাকার্তার বিকল্প গড়ার কঠিন পরীক্ষা

ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে জাকার্তার অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট, ভূমি ধস ও পরিবেশগত সমস্যার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব সমস্যা কমানোর লক্ষ্যেই নতুন রাজধানী নুসান্তারা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু নতুন রাজধানী নির্মাণের মতো বিশাল প্রকল্পে সময়, অর্থ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পরিকল্পনায় পরিবর্তন বা বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে প্রকল্পটির গতি কমে যেতে পারে।

নুসান্তারার সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু সুন্দর একটি শহর নির্মাণ নয়; বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রেখে সেটিকে একটি কার্যকর রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

সামনে কী

পর্যটকদের চোখে নুসান্তারা ইতিমধ্যে ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখাচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কাছে ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। শহরের দৃষ্টিনন্দন ভবন যতটা আশাবাদ তৈরি করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা ততটাই সতর্ক করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী মহলকে।

সরকার যদি বিনিয়োগের পরিবেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে নুসান্তারা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায়, এটি হয়তো দৃষ্টিনন্দন একটি নতুন শহর হিসেবেই পরিচিত থাকবে—কিন্তু প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে আরও অনেক সময় লাগবে।

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী এখন তাই একদিকে পর্যটকদের বিস্মিত করছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে—স্বপ্নের এই নগরী বাস্তবে কতটা সফল হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী নুসান্তারা পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ায় শরীরচর্চার নতুন জোয়ার, প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে বাড়ছে হাইরক্সের জনপ্রিয়তা

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী নুসান্তারা মুগ্ধ করছে পর্যটকদের, তবে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ

০৫:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে গড়ে তোলা নতুন রাজধানী নুসান্তারা তার আধুনিক স্থাপত্য, সবুজ পরিবেশ ও দৃষ্টিনন্দন সরকারি ভবনের কারণে পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। কিন্তু পর্যটকদের চোখে যতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে শহরটি, বিনিয়োগকারীদের কাছে ততটাই বড় হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার প্রশ্ন। প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে ব্যবসায়ীরা এখন আরও স্পষ্ট নীতিমালা, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চাইছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

আলো ঝলমলে প্রাসাদে মুগ্ধ পর্যটক

জুলাইয়ের শেষ দিকে এক সন্ধ্যায় নুসান্তারার কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয় একদল পর্যটক। সূর্য ডোবার পর আলোয় ঝলমল করছিল গরুড়ার আকৃতিতে নির্মিত বিশাল গরুড়া প্রাসাদ। ভবনটির নকশা ও আলোকসজ্জা দেখে পর্যটকেরা ছবি তুলছিলেন এবং নতুন রাজধানীর সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন।

নুসান্তারা ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো রাজধানী জাকার্তার বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যৎমুখী একটি রাজধানী। বিশাল পরিসরে সড়ক, সরকারি ভবন, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

তবে চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যের আড়ালে প্রকল্পটির সামনে রয়েছে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বিনিয়োগকারীদের বড় প্রশ্ন নিশ্চয়তা

নুসান্তারা নির্মাণে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছে।

ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ী মহলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু বড় প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখছেন না। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, সরকারের ধারাবাহিক নীতি এবং বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের ভাষায়, প্রকল্পের আকার যত বড়ই হোক, বাস্তবায়ন নিয়ে যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাহলে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা কঠিন।

২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে চাপ

নুসান্তারা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। এত বড় অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না। তাদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্থিরতা এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য পরিষ্কার নিয়মকানুন।

এই নিশ্চয়তা না থাকলে অনেক বিনিয়োগকারী অপেক্ষা করার পথ বেছে নিতে পারেন। ফলে রাজধানী নির্মাণের গতি এবং শহরটিকে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা—দুটিই চাপের মুখে পড়তে পারে।

পর্যটনের আকর্ষণ বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা

নুসান্তারা ইতিমধ্যে পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ত এলাকা এবং ভবিষ্যৎ নগরীর পরিকল্পনা দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

কিন্তু একটি রাজধানী শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে সফল হলেই যথেষ্ট নয়। সেখানে সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এ কারণে নুসান্তারার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শহরটি কত দ্রুত একটি জীবন্ত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে তার ওপর।

Indonesia's new capital Nusantara awes tourists but faces uncertain future  - Nikkei Asia

জাকার্তার বিকল্প গড়ার কঠিন পরীক্ষা

ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে জাকার্তার অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট, ভূমি ধস ও পরিবেশগত সমস্যার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব সমস্যা কমানোর লক্ষ্যেই নতুন রাজধানী নুসান্তারা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু নতুন রাজধানী নির্মাণের মতো বিশাল প্রকল্পে সময়, অর্থ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পরিকল্পনায় পরিবর্তন বা বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে প্রকল্পটির গতি কমে যেতে পারে।

নুসান্তারার সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু সুন্দর একটি শহর নির্মাণ নয়; বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রেখে সেটিকে একটি কার্যকর রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

সামনে কী

পর্যটকদের চোখে নুসান্তারা ইতিমধ্যে ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখাচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কাছে ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। শহরের দৃষ্টিনন্দন ভবন যতটা আশাবাদ তৈরি করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা ততটাই সতর্ক করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী মহলকে।

সরকার যদি বিনিয়োগের পরিবেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে নুসান্তারা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায়, এটি হয়তো দৃষ্টিনন্দন একটি নতুন শহর হিসেবেই পরিচিত থাকবে—কিন্তু প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে আরও অনেক সময় লাগবে।

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী এখন তাই একদিকে পর্যটকদের বিস্মিত করছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে—স্বপ্নের এই নগরী বাস্তবে কতটা সফল হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী নুসান্তারা পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।