ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বরং আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে।
বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে দ্বিপক্ষীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর কোনো বহুপক্ষীয় সফর হতে পারে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সফরের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
গত এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য আঞ্চলিক জোট বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ এই দায়িত্ব পালন করছে।
বিমসটেকের সদস্য বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ
ভারত জানিয়েছে, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও রয়েছে।
তবে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া আমন্ত্রণকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর সমতুল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ফলে সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন
ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জাতিসংঘের ভারতীয় কার্যালয় জানিয়েছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মানবতাই প্রথম’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভাপতির দায়িত্বে ভারতের কার্যক্রম
ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর ব্রিকসের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, দেশটির ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারত ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম। এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনবার জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে দেশটি। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। একই বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ করছে।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হলো যে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় পর্যায়েই আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















