মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কম্বোডিয়া গেছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শুক্র ও শনিবার নমপেনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত তাকে অভ্যর্থনা জানান।
চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের চতুর্থ আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রে কূটনৈতিক সফর। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী এই জেনারেল জানুয়ারিতে সম্পন্ন হওয়া একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে, মিন অং হ্লাইং একাধিক নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন। প্রাক্তন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ২০২৪ সালে আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের নিপীড়নের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই পরোয়ানার আবেদন করেছিলেন। সংস্থাটি রোম সংবিধির অধীনে কম্বোডিয়ার
আসিয়ানের ঐকমত্য ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত
২০২১ সালের এপ্রিলে আসিয়ান মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে পাঁচ দফা ঐকমত্যে পৌঁছালেও তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর অক্টোবর থেকে জোটটি মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের সম্
বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ যখন চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে নতুন আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর এবং তাকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ আঞ্চলিক কূটনীতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে। আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন মিয়ানমার সংকটের যেকোনো সমাধান প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের করা আবেদনটি এখনো বিচারাধীন। মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৭ সালের সহিংসতার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যে সহিংসতার জেরেই বারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে কম্বোডিয়ার এই ধরনের অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আপ্যায়নের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
আসিয়ানের কূটনৈতিক দ্বিধা
২০২১ সাল থেকে আসিয়ান মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংগঠনের উচ্চপর্যা
চতুর্থ ASEAN সফরের তাৎপর্য
জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিন অং হ্লাইং একের পর এক আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র সফর করে নিজের সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। প্রতিটি সফরই জান্তা সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার একেকটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও পশ্চিমা দেশগুলো এখনো সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















