২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর বিমান ভ্রমণ ও বিমানবন্দর নিরাপত্তার চিত্র আমূল বদলে যায়। যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি থেকে শুরু করে ককপিটের নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে প্রবেশের নিয়ম এবং উড়োজাহাজে ধারালো বস্তু বহনের বিধিনিষেধ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আনা হয় বড় পরিবর্তন।
নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। ২০০১ সালের নভেম্বরে গঠন করা হয় পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন বা টিএসএ।
হামলার আগে বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলো স্থানীয় বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করত। নতুন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সংস্থার হাতে চলে আসে। বর্তমানে এই সংস্থায় প্রায় ৬৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার সরাসরি যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশির কাজে নিয়োজিত।
ধারালো বস্তু বহনে কড়াকড়ি
বিমানবন্দরে ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্র ও এক্স-রে মেশিন ১৯৭০-এর দশক থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে নিয়ম ও প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে শিথিল ছিল।
৯/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পকেট ছুরি ও বাক্স কাটার বহন করেছিলেন বলে জানা যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর অধিকাংশ ধারালো বস্তু কেবিনের হাতব্যাগে বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এসব বস্তু সাধারণত নিবন্ধিত লাগেজে রাখার নিয়ম করা হয়।&imwidth=800&imheight=600&format=webp&quality=medium)
টিকিট ও পরিচয়পত্র ছাড়া নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশ বন্ধ
৯/১১-এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাত্রী ছাড়া অন্যরাও যেতে পারতেন। ফলে স্বজন বা বন্ধুরা যাত্রীকে বিদায় জানাতে কিংবা অভ্যর্থনা জানাতে গেট পর্যন্ত যেতে পারতেন।
২০০২ সাল থেকে এই নিয়ম বদলে যায়। বৈধ টিকিট ও পরিচয়পত্র ছাড়া সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা এলাকার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে একা ভ্রমণকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবককে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বুলেট প্রতিরোধী ককপিট দরজা
হামলার আগে ককপিটে যাত্রীদের প্রবেশ তুলনামূলক সহজ ছিল। এমনকি ফ্লাইট চলাকালে বিমানসেবীরা শিশুদের ককপিট দেখার সুযোগ দিতেন।
বিমান ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন বা এফএএ বিমান সংস্থাগুলোকে বুলেট প্রতিরোধী ককপিট দরজা স্থাপনের নির্দেশ দেয়। ২০০৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে সব বিমান সংস্থা এই নিয়ম মেনে নেয়। এখনো কিছু বিমান সংস্থায় উড্ডয়নের আগে বা অবতরণের পর ককপিট দেখার সুযোগ থাকতে পারে, তবে তা পুরোপুরি পাইলটের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
কমে যায় বিমান ভ্রমণের চাহিদা
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিমানযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ স্থগিত করায় এর একটি অংশ কমলেও সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিমান ভ্রমণ নিয়ে ঝুঁকির ধারণা তৈরি হয়।
এর ফলে বিমান সংস্থাগুলোর আয় ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং বড় ধরনের ছাঁটাই শুরু হয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ২০০২ সালের ডিসেম্বরে দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করে। সামগ্রিকভাবে মার্কিন বিমান পরিবহন খাতের পুনরুদ্ধারে অন্তত ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগে।
৯/১১-এর পর বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়, সেগুলো পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার ব্যবস্থাপনাতেও প্রভাব ফেলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















