ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনার কাজ চলছে। এসব চুক্তির সংখ্যা ১০১টি এবং পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
চিফ হুইপ বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে যেকোনো সম্পর্ক ও চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে কিছু ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমন কিছু চুক্তি করা হয়েছিল, যার আওতায় একই সময়ে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজ ও বাংলাদেশের জাহাজ বন্দরে এলে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে বিদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছ থেকে নেওয়া ঋণে একটি সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশকে সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ ওই সড়ক বাংলাদেশের যানবাহন ব্যবহার করতে পারছে না।
চিফ হুইপ বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। তার ভাষায়, বাংলাদেশের কোনো শত্রু নেই; সবাই বন্ধু। তবে বন্ধুত্বের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ সুরক্ষাই প্রথম বিষয়।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ছয় বিল পাস
১৩তম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয় কার্যদিবস চলার পর শেষ হয়েছে। এই অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যদের মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আইনে জীবদ্দশায় সন্তানদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করলেও বাবা-মায়ের ওই সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা দুঃখ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, নতুন ৫০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে অন্তত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে।
দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ এ খাতে আগের সরকারের করা ক্ষতিপূরণ বা ইনডেমনিটি-সংক্রান্ত ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
Sarakhon Report 

























