ঢাকার বিভিন্ন বাজারে আটা, ময়দা ও সুগন্ধি চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সময়ে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অব্যাহত থাকায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বেকারি, বিরিয়ানি ব্যবসা এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, রামপুরা, বাড্ডা ও শাহজাদপুরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা আটা কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দার দামও বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হয়েছে; আগে এর দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
সুগন্ধি চালে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি
সুগন্ধি চালের দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেক করার পরও দাম কমেনি। বর্তমানে ভালো মানের খোলা সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০ টাকা। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম ২২০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতারা বলছেন, এক মাস আগেও একই ধরনের সুগন্ধি চাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।
সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি
এক সপ্তাহের বেশি আগে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও বাজারে সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বেশিরভাগ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক ক্রেতাকে তুলনামূলক বেশি দামে রাইস ব্র্যান বা সূর্যমুখী তেল কিনতে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল সরবরাহের জন্য কোম্পানি ও ডিলারদের বারবার অনুরোধ করেও তারা সাড়া পাচ্ছেন না। এর মধ্যে প্রতি লিটারে তাদের কমিশনও কমেছে বলে দাবি করেছেন তারা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি সয়াবিন তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্য পণ্যও সঙ্গে অর্ডার করার শর্ত দিচ্ছে। এতে বাজারে তেলের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
দাম বাড়াতে বাধ্য হওয়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের
আটা-ময়দার দাম বাড়ায় বেকারি ও বিরিয়ানি ব্যবসার খরচও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যের দাম আরও বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প থাকবে না।
বাড্ডার মা বিরিয়ানির ব্যবস্থাপক আনোয়ার জানান, আগে প্রতি প্যাকেট চিকেন পোলাও ১২০ টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন সেটির দাম ১৫০ টাকা। তবে খরচ বাড়তে থাকলে এই দামও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
রামপুরার আদিব লাইভ বেকারির মালিক আদিব রহমান বলেন, ময়দাভিত্তিক সব পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য বেকারি মালিকদের সংগঠন থেকে সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, দাম না বাড়ালে মুনাফা কমে যায়, আবার দাম বাড়ালে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা থাকে।
বাজার পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
ক্রেতাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি বাজার তদারকির ঘাটতিও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাদের মতে, সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আটা-ময়দার অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রামপুরার বাজারের ক্রেতা আফসানা বলেন, শুধু লোক দেখানো বাজার মনিটরিং করে লাভ নেই। বড় কোম্পানিগুলো কেন বাজারে তেল সরবরাহ করছে না, সেটির জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরেক ক্রেতা ইমদাদ বলেন, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় প্রতি মাসেই তাদের নিত্যপণ্যের খরচ বাড়ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের বাড়তি খরচ যোগ হয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। জুলাইয়ের তুলনায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে সেই স্বস্তি দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
ঢাকার বাজারে আটা-ময়দা, সুগন্ধি চাল ও সয়াবিন তেলের সংকটে নিত্যপণ্যের খরচ আরও বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব বেকারি ও খাবারের দামেও পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















