০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া শিক্ষায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর ও চীন, বৈশ্বিক গড় স্কোরে রেকর্ড পতন উত্তর কোরিয়ায় বিনোদনে জোর কিম জং উনের, বাড়ছে বিলাসী জীবনযাত্রা ইরানের হামলার পর এআই ডেটা সেন্টার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে আমিরাত মোখা বিমানবন্দরে সৌদি হামলা, বাব আল-মানদাবে কৌশলগত দ্বীপ দখল হুতিদের ট্রাম্পকে সামনে রেখে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বাজি, উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরাও মালয়েশিয়ায় আগাম নির্বাচনের ডাক উমনোর, ক্ষমতাসীন জোটে ফাটলের শঙ্কা চশমাতেই এআই, অনুবাদ ও ৩০৭ ইঞ্চির পর্দা—রায়নিওর নতুন চমক ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: শোক, স্মৃতি আর প্রজন্মজুড়ে বয়ে চলা ক্ষত ঢাকার বাজারে বাড়ল আটা-ময়দা ও সুগন্ধি চালের দাম, তীব্র সয়াবিন তেল সংকট

ইরানের হামলার পর এআই ডেটা সেন্টার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে আমিরাত

ইরানের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি আবুধাবিতে বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যতম বৃহৎ এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, সেটি এখন নতুন করে সাজানোর কথা বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবুধাবিতে প্রায় ১০ বর্গমাইল বা ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিশাল এআই ডেটা সেন্টার কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় পুরো অবকাঠামো একটি জায়গায় না রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডেটা সেন্টার ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট চারজনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের নতুন নকশায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে স্থাপনাগুলো রক্ষার ব্যবস্থাও জোরদার করা হতে পারে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির নিচে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আমিরাতের বৈশ্বিক এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এই প্রকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই এআই ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পটি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে গিয়ে দেশটিকে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আমিরাতি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান জি৪২। প্রতিষ্ঠানটি আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত এআই প্রযুক্তি ও এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক এআই চিপ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার বিনিময়ে আমিরাত চীনের সঙ্গে এআই-সম্পর্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটি স্টারগেট উদ্যোগের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্টারগেট হলো ওপেনএআই, ওরাকল ও সফটব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য বড় পরিসরে এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এবং প্রকল্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত কয়েকজন শিল্পখাতের কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

তবে আমিরাতের নতুন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার কাজ কতদূর এগিয়েছে, কিংবা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ও সময়সূচিতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়।

৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রথম ধাপ

প্রকল্পটির প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ গত বছর শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই ধাপে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম ‘স্টারগেট ইউএই’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর এর প্রথম ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা চালু হওয়ার কথা।

ওরাকলের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ল্যারি এলিসনের মতে, পুরো প্রকল্প সম্পন্ন হলে এর সক্ষমতা এতটাই বড় হবে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার মতো কম্পিউটিং সুবিধা তৈরি হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে জি৪২ জানিয়েছে, এআই ক্যাম্পাসের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। তবে নিরাপত্তা, স্থিতিস্থাপকতা ও বড় পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিচালন মান অনুযায়ী প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ওপেনএআইও জানিয়েছে, আমিরাতের এআই-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা দেশটির সঙ্গে কাজ করছে এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতে অগ্রগতি হচ্ছে।

প্রকল্পের অন্য অংশীদার এনভিডিয়া, ওরাকল, সিসকো এবং আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সফটব্যাংকও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।UAE revises AI data center project after Iranian attacks | UA.NEWS

ইরানের হামলায় প্রযুক্তি অবকাঠামোও ঝুঁকিতে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পরপরই আমিরাত তার এআই অবকাঠামো পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করে।

মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের দুটি ডেটা সেন্টার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইনেও কোম্পানিটির একটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও ওই অঞ্চলে অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় বিঘ্ন থাকার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এপ্রিল মাসে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘স্টারগেট ইউএই’কে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়। ভিডিওতে প্রকল্পটির অবস্থান দেখানোর দাবি করা একটি মানচিত্রও ছিল। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, স্থাপনাটি তাদের নজরের বাইরে নয়।

প্রকল্পটির অবস্থান আবুধাবির আল ধাফরা বিমানঘাঁটির কাছাকাছি বলে দুইজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন। এতদিন এই অবস্থানটি প্রকাশ্যে জানা যায়নি। ওই বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা রয়েছে এবং যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটিও হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

এক জায়গায় নয়, ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে ডেটা সেন্টার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে আরব উপদ্বীপবিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড্যানিয়েল বেনাইম বলেছেন, সংঘাতটি উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে তুলে ধরেছে।

তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশই ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ আপাতত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের একজন কর্মকর্তা ও প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত আরেক ব্যক্তি। তবে হামলা থেকে সুরক্ষা বাড়াতে এই অংশেও কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

অন্যদিকে, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু মাটির নিচে স্থাপনা তৈরিই নয়, সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য কিছু স্থাপনা পাহাড়ের ভেতর নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত তথ্যের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসব স্থাপনায় রাখা হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের কিছু এলাকায় পরিত্যক্ত খনি, শীতল যুদ্ধের সময়কার ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার কিংবা গুহার মধ্যেও ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটির অধিকাংশ এলাকা সমতল মরুভূমি। যদিও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাস আল খাইমাহ ও ফুজাইরাহ আমিরাতে পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা

প্রকল্পের নতুন নকশায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনজনের মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক সংকেত বিঘ্নিত করার প্রযুক্তি এতে যুক্ত হতে পারে।

এ ছাড়া বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কংক্রিট ব্যবহার, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং বিকল্প শীতলীকরণ ব্যবস্থা রাখার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় এআই অবকাঠামো প্রকল্পটির নকশা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন স্থিতিস্থাপকতার ওপরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইরানের হামলার পর আমিরাতের এই পুনর্বিবেচনা দেখিয়ে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য নিরাপত্তা এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়। এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া

ইরানের হামলার পর এআই ডেটা সেন্টার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে আমিরাত

০৮:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি আবুধাবিতে বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যতম বৃহৎ এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, সেটি এখন নতুন করে সাজানোর কথা বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবুধাবিতে প্রায় ১০ বর্গমাইল বা ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিশাল এআই ডেটা সেন্টার কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় পুরো অবকাঠামো একটি জায়গায় না রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডেটা সেন্টার ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট চারজনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের নতুন নকশায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে স্থাপনাগুলো রক্ষার ব্যবস্থাও জোরদার করা হতে পারে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির নিচে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আমিরাতের বৈশ্বিক এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এই প্রকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই এআই ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পটি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে গিয়ে দেশটিকে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আমিরাতি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান জি৪২। প্রতিষ্ঠানটি আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত এআই প্রযুক্তি ও এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক এআই চিপ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার বিনিময়ে আমিরাত চীনের সঙ্গে এআই-সম্পর্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটি স্টারগেট উদ্যোগের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্টারগেট হলো ওপেনএআই, ওরাকল ও সফটব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য বড় পরিসরে এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এবং প্রকল্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত কয়েকজন শিল্পখাতের কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

তবে আমিরাতের নতুন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার কাজ কতদূর এগিয়েছে, কিংবা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ও সময়সূচিতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়।

৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রথম ধাপ

প্রকল্পটির প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ গত বছর শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই ধাপে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম ‘স্টারগেট ইউএই’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর এর প্রথম ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা চালু হওয়ার কথা।

ওরাকলের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ল্যারি এলিসনের মতে, পুরো প্রকল্প সম্পন্ন হলে এর সক্ষমতা এতটাই বড় হবে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার মতো কম্পিউটিং সুবিধা তৈরি হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে জি৪২ জানিয়েছে, এআই ক্যাম্পাসের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। তবে নিরাপত্তা, স্থিতিস্থাপকতা ও বড় পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিচালন মান অনুযায়ী প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ওপেনএআইও জানিয়েছে, আমিরাতের এআই-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা দেশটির সঙ্গে কাজ করছে এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতে অগ্রগতি হচ্ছে।

প্রকল্পের অন্য অংশীদার এনভিডিয়া, ওরাকল, সিসকো এবং আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সফটব্যাংকও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।UAE revises AI data center project after Iranian attacks | UA.NEWS

ইরানের হামলায় প্রযুক্তি অবকাঠামোও ঝুঁকিতে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পরপরই আমিরাত তার এআই অবকাঠামো পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করে।

মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের দুটি ডেটা সেন্টার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইনেও কোম্পানিটির একটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও ওই অঞ্চলে অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় বিঘ্ন থাকার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এপ্রিল মাসে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘স্টারগেট ইউএই’কে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়। ভিডিওতে প্রকল্পটির অবস্থান দেখানোর দাবি করা একটি মানচিত্রও ছিল। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, স্থাপনাটি তাদের নজরের বাইরে নয়।

প্রকল্পটির অবস্থান আবুধাবির আল ধাফরা বিমানঘাঁটির কাছাকাছি বলে দুইজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন। এতদিন এই অবস্থানটি প্রকাশ্যে জানা যায়নি। ওই বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা রয়েছে এবং যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটিও হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

এক জায়গায় নয়, ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে ডেটা সেন্টার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে আরব উপদ্বীপবিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড্যানিয়েল বেনাইম বলেছেন, সংঘাতটি উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে তুলে ধরেছে।

তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশই ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ আপাতত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের একজন কর্মকর্তা ও প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত আরেক ব্যক্তি। তবে হামলা থেকে সুরক্ষা বাড়াতে এই অংশেও কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

অন্যদিকে, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু মাটির নিচে স্থাপনা তৈরিই নয়, সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য কিছু স্থাপনা পাহাড়ের ভেতর নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত তথ্যের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসব স্থাপনায় রাখা হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের কিছু এলাকায় পরিত্যক্ত খনি, শীতল যুদ্ধের সময়কার ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার কিংবা গুহার মধ্যেও ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটির অধিকাংশ এলাকা সমতল মরুভূমি। যদিও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাস আল খাইমাহ ও ফুজাইরাহ আমিরাতে পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা

প্রকল্পের নতুন নকশায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনজনের মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক সংকেত বিঘ্নিত করার প্রযুক্তি এতে যুক্ত হতে পারে।

এ ছাড়া বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কংক্রিট ব্যবহার, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং বিকল্প শীতলীকরণ ব্যবস্থা রাখার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় এআই অবকাঠামো প্রকল্পটির নকশা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন স্থিতিস্থাপকতার ওপরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইরানের হামলার পর আমিরাতের এই পুনর্বিবেচনা দেখিয়ে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য নিরাপত্তা এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়। এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে।