মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের লোহিত সাগরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথও এখন বড় ঝুঁকির মুখে। এর মধ্যে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি গত মাসে অন্তত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করলেও সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড়ে মাত্র ১৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০টি। বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করে প্রণালির মধ্য দিয়ে তেল পরিবহন চালু রাখার চেষ্টা করছে। তবে এ কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জুলাই ও আগস্টে ওমানের কাছে জলপথে অন্তত ২৩টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২২ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
লোহিত সাগরেও বাড়ছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ
হরমুজের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি ব্যবহার করছিল। কিন্তু শুক্রবার ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। সেখানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর কয়েক দিন আগে দক্ষিণ সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয় এবং ৭৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। ফলে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরপথেও নিরাপদে তেল পরিবহনের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
সৌদি পাইপলাইনেও হামলা
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন আগের দিন একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছিল।

লোহিত সাগর দিয়ে তেল পাঠানোর আরেকটি সুযোগ রয়েছে সৌদি আরবের। দেশটি সুয়েজ খালের কাছে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তর দিকে তেল পাঠাতে পারে। তবে এই পথে এশিয়ায় তেল পৌঁছাতে বেশি খরচ হয় এবং কয়েক সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় লাগে। সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল ক্রেতাই এশিয়ায়।
জ্বালানি বাজারে বাড়ছে চাপ
যুদ্ধের আগে তুলনায় আগস্টে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে শুক্রবার তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে ওঠে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ ডলারের বেশি। ডিজেলের গড় দাম ছাড়িয়েছে ৬ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের দৃশ্যমান পথ না থাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















