গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত নেপালকে পুনর্গঠনে প্রায় ৪৭৮ কোটি বা ৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ত্রাণে ছয় মাসের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, বাকি প্রায় ৪৭১ কোটি ডলার ব্যয় হবে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে।
জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে শুধু ভবন ক্ষতির পরিমাণই ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যদিও মোট ক্ষয়ক্ষতি এর চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট কর্দমপ্রবাহে নেপালে অন্তত ১ হাজার ৩৮৫ জন নিহত এবং প্রায় ৫ হাজার ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতেও নিহত হয়েছেন ৪৩ জন, নিখোঁজ ৫১৯ জন, ফলে দুই অঞ্চল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।
এই কর্দমপ্রবাহে ধ্বংস হয়ে গেছে বারোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভেসে গেছে একাধিক গ্রাম। ত্রিশূলী নদী উপত্যকা ঘিরে বাণিজ্যপথ, সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই বিপর্যয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তিনি বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন চলছে। নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই বিপর্যয়কে ধনী দেশগুলোর যৌথ দায় হিসেবে দেখা উচিত, কারণ হিমালয়ের হিমবাহ গলনের গতি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও চীন দুই দিক থেকেই ত্রাণ ও পুনর্গঠন সহায়তা পাঠিয়েছে, আর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে জলবায়ু-জনিত বিপর্যয় মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হিমালয়ের কোলে যে গ্রামগুলো একদিন সবুজে ঢাকা ছিল, আজ সেখানে হিসাব চলছে কেবল বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি আর হাজারো নিখোঁজ মানুষের নামের তালিকায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















