রাষ্ট্রসমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযানে এআই ব্যবহারের বিস্তারিত চিত্র প্রকাশ করেছে অ্যানথ্রপিক। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হুমকি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে রুশ ও চীনা ভাষাভাষী একাধিক গোষ্ঠীর কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। সময়কাল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট।
প্রতিবেদনে জিটিজি-২০০০৬ নামে চিহ্নিত রুশ রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীটি ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেছে। তারা এআই দিয়ে অনুসন্ধান, ফিশিং অবকাঠামো তৈরি এবং ম্যালওয়্যার শনাক্ত হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে নেওয়ার কাজ করেছে। হোটেলের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক দখল করে অতিথিদের লক্ষ্য করার ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার একটি অভিযানে ৩ লাখের বেশি জাতীয় পরিচয় নথি এবং ৫ লাখের বেশি বাণিজ্যিক নিবন্ধন রেকর্ড চুরি হয়।
চীনা ভাষাভাষী জিটিজি-১০০০৭ গোষ্ঠীটি প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেছে। তারা নিরাপত্তা পণ্যের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় দুর্বলতা অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং এক মাসেই এক ডজনের বেশি অজানা ত্রুটি বের করেছে। একটি শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকশ মেগাবাইট শিক্ষার্থীর তথ্য সরানো হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি সরকারি ব্যবস্থা থেকে নাগরিকদের নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। এআই গুপ্তচরবৃত্তির এই ধরন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বয়ংক্রিয়।
প্রতিবেদনে ভুয়া সংবাদমাধ্যম দিয়ে প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্কও উঠে এসেছে। একটি বাণিজ্যিক অভিযানে ৭০টি বানানো সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রায় ২০টি ভাষায় ৮ হাজার ৯১৩টি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে, সঙ্গে ছিল ২৫০টিরও বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট। মালয়েশিয়ার নির্বাচনকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযানে প্রায় এক হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয়েছে এবং মালয়েশিয়া পালস নামে একটি বানানো সংবাদমাধ্যম চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের ভাষায়, এআই খরচের ভার আক্রমণকারীর কাঁধ থেকে রক্ষাকারীর কাঁধে সরিয়ে দিয়েছে। আগে নতুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বসিয়ে আক্রমণের গতি কমানো যেত, এখন সক্ষম প্রতিপক্ষ তা দ্রুত এড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে ব্যাংক, এনআইডি ও টেলিকম তথ্যভান্ডার নিয়ে যে উদ্বেগ, এআই গুপ্তচরবৃত্তির এই মানচিত্র তাকে নতুন মাত্রা দেয়। প্রতিবেদনে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নাম আছে, দক্ষিণ এশিয়ার নাম নেই, আর অনুপস্থিতি নিরাপত্তার প্রমাণ নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















