১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মন্টি ডনের উত্তরসূরি হতে হবে বাগানের মানুষ, টেলিভিশনের ‘চরিত্র’ নয় চিপ প্রযুক্তি রক্ষায় গুপ্তচরবৃত্তি আইন কঠোর করল দক্ষিণ কোরিয়া আনোয়ারকে চ্যালেঞ্জ জাহিদের, মালয়েশিয়ায় জোট ভাঙার হুমকি রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকারদের হাতে এআই, নতুন প্রতিবেদনে উদ্বেগ জার্মানিতে উগ্র ডানের বিরুদ্ধে পথে দেড় লাখ মানুষ ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে ১০ লাখ হংকং ডলার খোয়ালেন শিক্ষার্থী অন্ধকার সুড়ঙ্গে ১০ দিন, নেপালি শ্রমিকের ফিরে আসার গল্প জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোয় ফাঁক বন্ধ হোক ছয় বছর পর নিজের দেশে ফিরে বুঝলেন, আসলেই কি ‘বাড়ি’ বদলে গেছে? চীনে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘অবসর শ্রেণি’, কাজের চেয়ে জীবন উপভোগে আগ্রহী মধ্যবিত্ত

জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোয় ফাঁক বন্ধ হোক

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থাগুলো শক্তিশালী করার এবং নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর ফাঁক বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ এই দাবি তোলেন। দিনটি ছিল ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির পরদিন।

জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তরের নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো প্রচারণা, নিয়োগ ও অর্থায়নের পদ্ধতি দ্রুত বদলে ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচারণা এখন সংগঠনগুলোর কাঠামোর ভেতরেই মিশে গেছে। এআই, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিকল্প অনলাইন পরিসর ব্যবহার করে তরুণদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কৌশল ও সরকারের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, প্রতিবেদনে তাকে বলা হয়েছে অ্যাক্সিলারেশন গ্যাপ।

প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আরও উল্লেখ রয়েছে জেএনআইএম, আল শাবাব, আইএসআইএল-কে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের। পাকিস্তান জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদে দেশটিতে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত তিন বছরেই নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৭০০ জন। জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩৭৩ নম্বর প্রস্তাবের কথা বৈঠকে বারবার এসেছে।

আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল ওয়াল্টজ, ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস এলমোর এবং ফ্রান্সের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ। এলমোর মনে করিয়ে দেন, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক দুই কারণে। প্রথমত, অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণার ধরন বদলাচ্ছে এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম এখানেও তরুণদের কাছে জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোর হলে দেশের ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স খাতে তার প্রতিফলন পড়ে। প্রতিবেদনটি যে ব্যবধানের কথা বলছে, সেটি পূরণের দায়িত্ব কার, নিরাপত্তা পরিষদ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্টি ডনের উত্তরসূরি হতে হবে বাগানের মানুষ, টেলিভিশনের ‘চরিত্র’ নয়

জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোয় ফাঁক বন্ধ হোক

০৮:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থাগুলো শক্তিশালী করার এবং নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর ফাঁক বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ এই দাবি তোলেন। দিনটি ছিল ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির পরদিন।

জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তরের নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো প্রচারণা, নিয়োগ ও অর্থায়নের পদ্ধতি দ্রুত বদলে ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচারণা এখন সংগঠনগুলোর কাঠামোর ভেতরেই মিশে গেছে। এআই, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিকল্প অনলাইন পরিসর ব্যবহার করে তরুণদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কৌশল ও সরকারের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, প্রতিবেদনে তাকে বলা হয়েছে অ্যাক্সিলারেশন গ্যাপ।

প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আরও উল্লেখ রয়েছে জেএনআইএম, আল শাবাব, আইএসআইএল-কে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের। পাকিস্তান জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদে দেশটিতে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত তিন বছরেই নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৭০০ জন। জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩৭৩ নম্বর প্রস্তাবের কথা বৈঠকে বারবার এসেছে।

আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল ওয়াল্টজ, ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস এলমোর এবং ফ্রান্সের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ। এলমোর মনে করিয়ে দেন, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক দুই কারণে। প্রথমত, অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণার ধরন বদলাচ্ছে এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম এখানেও তরুণদের কাছে জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোর হলে দেশের ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স খাতে তার প্রতিফলন পড়ে। প্রতিবেদনটি যে ব্যবধানের কথা বলছে, সেটি পূরণের দায়িত্ব কার, নিরাপত্তা পরিষদ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেয়নি।