সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া প্রতারকের ফাঁদে পড়ে প্রায় ১০ লাখ হংকং ডলার খুইয়েছেন এক শিক্ষার্থী। ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণ মূল ভূখণ্ড চীনের নাগরিক এবং হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী। খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ ডলার।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারক নিজেকে মূল ভূখণ্ডের একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, তিনি মূল ভূখণ্ডের একটি ফৌজদারি মামলার সঙ্গে জড়িত। জামানত হিসেবে অর্থ পরিশোধের দাবি করা হয়। ভয় পেয়ে শিক্ষার্থী ধাপে ধাপে অর্থ পাঠাতে থাকেন। রোববার ভোররাত একটা সাত মিনিটে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাটি প্রতারণা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ভুক্তভোগী ছদ্মবেশী ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিক ফোন পেয়েছিলেন যেখানে অর্থ দাবি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি স্বীকার করে শিক্ষার্থীকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে প্রতারণার এই ধরন হংকংয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বারবার দেখা যাচ্ছে।
কৌশলটির সাফল্যের মূল উপাদান একাকিত্ব। পরিবার থেকে দূরে থাকা তরুণ শিক্ষার্থী আইনি ভাষা শোনামাত্র আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কাউকে জিজ্ঞেস করার আগেই প্রতারক তাকে গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দেন। ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারাই, যাদের যাচাই করার মতো কেউ কাছে নেই।
বাংলাদেশেও ডিবি, দুদক বা শুল্ক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে অর্থ আদায়ের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা একই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, বিশেষত প্রথম সেমিস্টারে। ১৯ বছরের এক শিক্ষার্থী এক ফোনকলে দশ লাখ হংকং ডলার পাঠিয়েছেন, অথচ কোনো সরকারি সংস্থা কখনো ফোনে জামানত চায় না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















