চীনের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২১তম কংগ্রেসে দেশটির পরবর্তী পাঁচ বছরের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারিত হওয়ার কথা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শি জিনপিংয়ের অবস্থান নিয়ে বড় কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তবে তাঁর নিচের কয়েকশ গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসবেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
আগামী কয়েক মাসে কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে ধারাবাহিক বৈঠক ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর একটি হবে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর। এ সময় প্রায় ৩৭০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বৈঠকে বসবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের আলোচ্য হবে ‘দলীয় আত্মশাসনকে পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর করা’। তবে এর আড়ালে চীনা রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনও বড় একটি বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
চীনের প্রাদেশিক রাজনীতিতে ইতোমধ্যে যেসব অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তা দ্রুত উঠে আসছেন, তাদের অনেককেই সম্ভাব্য ‘সপ্তম প্রজন্মের’ নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের প্রজন্মের তুলনায় তাদের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা।
১৯৮০-এর দশকের সন্তানরা
সপ্তম প্রজন্মের নেতাদের বড় অংশের জন্ম ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০-এর দশকে। অর্থাৎ চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের (১৯৬৬-৭৬) ভয়াবহ সময় তাদের শৈশব ও কৈশোরের পুরোটা জুড়ে ছিল না। তাদের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল ১৯৮০-এর দশক—যখন চীন বিশ্ব অর্থনীতির দিকে দ্রুত উন্মুক্ত হচ্ছিল, নতুন ধরনের উদার চিন্তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল এবং বাজারভিত্তিক অর্থনীতির নানা উপাদান গ্রহণ করা হচ্ছিল।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই প্রজন্মের অভিজ্ঞতার পার্থক্য এখানেই সবচেয়ে স্পষ্ট। শি ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া তথাকথিত পঞ্চম প্রজন্মের নেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মাও সে তুংয়ের যুগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে সপ্তম প্রজন্মের নেতারা মূলত মাও-পরবর্তী চীনের পরিবেশে গড়ে উঠেছেন।
শি এখন ৭৩ বছর বয়সী। তাঁর বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীরাও খুব বেশি তরুণ নন। ফলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ করতে অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে চীনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে যাওয়ার মতো কেউ উঠে আসতে পারেন।
কীভাবে নির্ধারিত হয় ‘প্রজন্ম’?
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বকে প্রজন্ম দিয়ে ভাগ করার ইতিহাস কিছুটা জটিল। মাও সে তুংকে প্রথম প্রজন্মের নেতা বলা হয়। সংস্কারপন্থী নেতা দেং শিয়াওপিংকে দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও তিনি সরাসরি মাওয়ের পর ক্ষমতায় আসেননি।
শি জিনপিং ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার সময় পঞ্চম প্রজন্মের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিতে তাঁর এক দশক পর অর্থাৎ ২০২২ সালে ষষ্ঠ প্রজন্মের কোনো নেতার কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল।
কিন্তু তা হয়নি। শি প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা তুলে দিয়ে ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট পদে মেয়াদসীমা পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে শির ক্ষমতার আরও গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক—সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট পদের মতো একই মেয়াদসীমার অধীন নয়।
এদিকে শির দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ষষ্ঠ প্রজন্মের অনেক কর্মকর্তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অনেক সম্ভাব্য নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ কেউ পদ হারিয়েছেন বা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় কমিটির ভোটাধিকারী সদস্যদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুদ্ধি অভিযানের আওতায় পড়েছেন বলে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ষষ্ঠ প্রজন্মের নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর যে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশ দুর্বল হয়েছে। সেই জায়গাতেই সপ্তম প্রজন্মের কর্মকর্তাদের উত্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কারা এগিয়ে আসছেন?
২০২৬ সালের আগস্টে ৫৪ বছর বয়সী ঝু ঝোংমিং সাংহাইয়ের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন। ভবিষ্যতে তিনি সাংহাইয়ের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পদে গেলে ক্ষমতাসীন পলিটব্যুরোর সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম লিউ জিয়ে। ৫৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা পূর্বাঞ্চলের সমৃদ্ধ প্রদেশ ঝেজিয়াংয়ের গভর্নর। শি জিনপিংও একসময় ঝেজিয়াংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন।
৫৫ বছর বয়সী আ দংও নজরে রয়েছেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির যুব সংগঠন কমিউনিস্ট ইয়ুথ লীগের প্রথম সচিব। এই পদে থাকা তাঁর দুই পূর্বসূরি পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।
তবে চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় এসব কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
অবসরের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে
চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে সাধারণত কোনো জাতীয় কংগ্রেসের সময় ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবসরে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে। পলিটব্যুরোর সদস্যদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সাধারণত ৬৮ বছর হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২২ সালে শি জিনপিং এই প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হন। সামরিক নেতৃত্বেও ব্যতিক্রমের নজির দেখা গেছে। ৭৬ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়াকে ২১ সেপ্টেম্বর ‘রাজনৈতিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগে দল ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বর্তমান বয়সের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে আগামী কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসরে যেতে পারেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সপ্তম প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বর্তমানের প্রায় ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষায় এগিয়ে নতুন প্রজন্ম
সপ্তম প্রজন্মের নেতাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাদের শিক্ষাগত পটভূমি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের অনেক নেতার শিক্ষা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সপ্তম প্রজন্মের কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লি চেংয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তম প্রজন্মের শীর্ষ প্রায় ১০০ কর্মকর্তার অর্ধেকেরও বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাও জনপ্রিয় শিক্ষাক্ষেত্র।
কিছু কর্মকর্তার বিদেশে কাজ বা পড়াশোনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। বেইজিংয়ের ৫৭ বছর বয়সী মেয়র ইন ইয়ং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ফুজিয়ানের উদীয়মান কর্মকর্তা ৫৬ বছর বয়সী গুও নিংনিং কয়েক বছর হংকং ও সিঙ্গাপুরে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে কাজ করেছেন।
আরেকটি পার্থক্য হলো পেশাগত অভিজ্ঞতা। পুরোনো প্রজন্মের নেতারা সাধারণত পার্টি, সরকার ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই পুরো কর্মজীবন কাটিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও কাজ করেছেন।
১৯৮৯-এর তিয়েনআনমেনের ছায়া
তবে ১৯৮০-এর দশকের রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন প্রজন্মের মানসিক গঠনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর ১৯৮০-এর দশকে চীনে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত হয়েছিল। সেন্সরশিপ কিছুটা শিথিল হয় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও অপেক্ষাকৃত নতুন ও সূক্ষ্মভাবে ভিন্নধারার অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো।
কিন্তু ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনের মধ্য দিয়ে সেই সময়ের রাজনৈতিক উন্মুক্ততার বড় অংশের অবসান ঘটে। সপ্তম প্রজন্মের অনেক নেতা তখন এমন বয়সে ছিলেন, যখন তারা ওই আন্দোলন ও তার পরিণতি প্রত্যক্ষভাবে দেখার মতো অবস্থায় ছিলেন।
এ কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই প্রজন্মের মধ্যে কি তুলনামূলক উদার চিন্তার কেউ দলীয় নেতৃত্বে উঠে আসছেন?
তবে সরাসরি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ খুব সীমিত। তিয়েনআনমেন আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত দলীয় সদস্যদের অনেকে পরে শুদ্ধি অভিযানের শিকার হন। শি জিনপিংয়ের সময়কার কঠোর রাজনৈতিক ও আদর্শিক যাচাই-বাছাইও দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উ গুয়োগুয়াংয়ের মতে, চীনের কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পৌঁছানোর আগেই দলীয় আদর্শ ও প্রশিক্ষণের মধ্যে গভীরভাবে সামাজিকীকৃত হন। ফলে ১৯৮০-এর দশকের তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানেই রাজনৈতিকভাবে উদার হয়ে ওঠা—এমন সরল সম্পর্ক তৈরি করা যায় না।
বরং চীন ও যুক্তরাজ্যের গবেষকদের গত বছরের একটি জরিপে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া চীনা নাগরিকেরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমর্থনের ক্ষেত্রে তাদের বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় কম আগ্রহী। অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মকে আরও উদার হবে—এমন ধারণারও সরল ভিত্তি নেই।
শির উত্তরসূরি কি সপ্তম প্রজন্ম থেকে?
চীনের ক্ষমতার শীর্ষে রয়েছে পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটি। শি জিনপিং ছাড়া বর্তমান ছয় সদস্যের প্রায় সবাই আগামী কংগ্রেসের সময় অবসরের বয়সে পৌঁছে যাবেন।
তাত্ত্বিকভাবে সপ্তম প্রজন্মের কোনো নেতা তখনই স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ঢোকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে শি এখনই এত তরুণ কাউকে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনবেন কি না, তা অনিশ্চিত।
কারণ কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে আগেভাগে তুলে ধরা হলে তার রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত শি জিনপিং কোনো স্পষ্ট উত্তরসূরি নির্ধারণে তাড়াহুড়া করছেন—এমন প্রকাশ্য ইঙ্গিত নেই। চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার এই স্তরে এখন পর্যন্ত কোনো নারীও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হননি।
তবে ২০৩২ সালের কংগ্রেসের সময় শির বয়স হবে ৭৯ বছর। তখন সপ্তম প্রজন্মের নেতারা মূলত ৫০ ও ৬০-এর কোঠায় থাকবেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের প্রশ্নে এই প্রজন্মের কাউকে সামনে আনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখানেই নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। শি যদি অপেক্ষাকৃত তরুণ কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন, সেই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠার সময় কম থাকতে পারে।
চীনের ইতিহাসেও উত্তরসূরি নির্ধারণ সবসময় সরল ছিল না। মাও সে তুং ও দেং শিয়াওপিং—দুজনের আমলেই একাধিক সম্ভাব্য উত্তরসূরি সামনে এসেছেন এবং পরে তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
ফলে চীনের রাজনীতিতে এখন যে পরিবর্তনটি সামনে আসছে, তা শুধু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি প্রজন্মের পরিবর্তন—মাও-পরবর্তী সংস্কার ও উন্মুক্ততার দশকে বেড়ে ওঠা কর্মকর্তাদের ক্রমশ ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে আসা।
আগামী কংগ্রেসে সপ্তম প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়লে চীনের রাজনৈতিক কাঠামোতে বয়সের ভারসাম্য বদলাবে। তবে সেই পরিবর্তন নীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তারা ভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাগত পরিবেশে বেড়ে উঠলেও, ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছাতে তাদেরও একই দলীয় কাঠামো, আদর্শিক প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।










