ইন্দোনেশিয়ায় উত্তাল সাগরে ফেরি ডুবে যাওয়ার কয়েক দিন পরও চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। দেশটির উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা দীর্ঘ কয়েক দিনের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও আরও ৮৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের ১৩ সেপ্টেম্বর। ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমানতানের বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। ফেরিটিতে মোট ২৪৩ জন ছিলেন।
যাত্রাপথে ফেরিটি জাভা সাগরে প্রবল ঢেউ ও খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে। ওই সময় সমুদ্রের ঢেউ প্রায় ৩ মিটার বা ১০ ফুট পর্যন্ত উঁচু ছিল। ফেরিটি একদিকে কাত হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ফেরিটি জাভা সাগরের মারাসালেম্বু দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকায় ডুবে গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকারীরা ১০৮ জনকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন। তবে বহু যাত্রী নিখোঁজ থাকায় ডুবুরিদের নিয়ে পানির নিচে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধারকারীরা ডুবে যাওয়া ফেরিটির ভেতরে প্রবেশের জন্য এর জানালা ভেঙে ফেলেন। এরপর বিভিন্ন কেবিন ও অংশে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক দিনের এই অভিযানে মোট ৫২টি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে শুক্রবার কর্মকর্তারা জানান।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে তাদের হাতে থাকা সব ধরনের সম্পদ ও সরঞ্জাম কাজে লাগানো হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান মুহাম্মদ শাফি বলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি পরিণতি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
তবে উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। কর্তৃপক্ষ ফেরিটির ধ্বংসাবশেষও উদ্ধারের পরিকল্পনা করছে। প্রায় ৩০ মিটার গভীর পানিতে থাকা জাহাজটির অবশিষ্টাংশ তুলে আনার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০৮ জন, নিহত ৫২ জন এবং নিখোঁজ ৮৩ জন—এই সংখ্যা মিলিয়ে মোট ২৪৩ জনের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য ফেরি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা। দেশটির বিস্তীর্ণ সমুদ্রপথে খারাপ আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের মধ্যে নৌযান চলাচল কখনো কখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এবারের দুর্ঘটনাও সেই ঝুঁকির ভয়াবহ দিকটি সামনে এনেছে।










