প্রতি বছরই ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দেওয়া হয়। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের জন্য ফ্লু টিকার ক্ষেত্রে এসেছে নতুন একটি প্রযুক্তি। দেশটিতে প্রথমবারের মতো অনুমোদন পেয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিভিত্তিক ফ্লু টিকা। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য তৈরি এই টিকার নাম ‘এমফ্লুসিভা’ (mFlusiva)।
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য এই টিকার অনুমোদন দেয়। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৩ হাজারের বেশি স্থানে এখন এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সব জায়গায় এর সরবরাহ সমান নয়।
এমআরএনএ প্রযুক্তি নতুন নয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই প্রযুক্তির টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ফ্লুর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এবারই প্রথম। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নীতিগত টানাপোড়েনের পর টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে।
এমআরএনএ ফ্লু টিকা কীভাবে কাজ করে
সাধারণ ফ্লু টিকায় নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করা ভাইরাস কিংবা ভাইরাসের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ফ্লু ভাইরাসকে চিনতে শেখে এবং ভবিষ্যতে ভাইরাস শরীরে ঢুকলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তুতি নেয়।
এমআরএনএ টিকার পদ্ধতিটি কিছুটা আলাদা। এতে ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহনকারী বার্তাবাহক আরএনএ বা এমআরএনএ শরীরে দেওয়া হয়। শরীর সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে ভাইরাসের ওই প্রোটিনের একটি অনুলিপি তৈরি করে। এরপর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সেটিকে চিনে ভবিষ্যতে আসল ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এই প্রযুক্তির অন্যতম সম্ভাব্য সুবিধা হলো দ্রুত টিকা তৈরি করার ক্ষমতা।
ফ্লু টিকার ক্ষেত্রে কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ফ্লু ভাইরাস নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই প্রতি বছর কোন ধরনের ভাইরাস বেশি ছড়াতে পারে, তা অনুমান করে টিকার জন্য নির্দিষ্ট ধরন বেছে নিতে হয়।
বর্তমান প্রচলিত ফ্লু টিকার ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের ধরন বাছাই সাধারণত ফেব্রুয়ারির দিকে করতে হয়। কারণ টিকা তৈরি, পরীক্ষা এবং সরবরাহের জন্য বেশ কয়েক মাস সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাস ডিম বা কোষে বাড়িয়ে টিকা তৈরি করা হয়।
ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম শ্যাফনারের মতে, বিজ্ঞানীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও টিকায় থাকা ভাইরাসের ধরন এবং সেই মৌসুমে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো ভাইরাসের মধ্যে কখনও কখনও পার্থক্য থেকে যায়। টিকা ও ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের এই মিল-অমিলের ওপর টিকার কার্যকারিতাও কিছুটা নির্ভর করে।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা ও নীতিকেন্দ্রের পরিচালক ড. মাইকেল অস্টারহোম বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে দ্রুত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এমআরএনএ প্রযুক্তি এখানে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। কারণ এই প্রযুক্তিতে টিকা তুলনামূলক দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। ফলে ফ্লুর কোন ধরনটি টিকায় রাখা হবে, সেটি ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মে মাসের কাছাকাছি সময়ে নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
এর ফলে ওই মৌসুমে মানুষের মধ্যে যে ভাইরাসের ধরন বেশি ছড়াচ্ছে, তার সঙ্গে টিকার মিল আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হবে।
৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য নিয়মিত অনুমোদন
মডার্নার নতুন টিকাটি ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদিত হলেও ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের ধরন এক নয়।
৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য টিকাটি নিয়মিত অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য এটি দ্রুত অনুমোদন বা ‘অ্যাক্সিলারেটেড অ্যাপ্রুভাল’ পদ্ধতিতে অনুমোদিত হয়েছে।
এর পেছনে রয়েছে টিকা পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে এফডিএর সঙ্গে মডার্নার দীর্ঘ আলোচনা।
মডার্নার গবেষণায় ৫০ বছরের বেশি বয়সী মানুষকে প্রচলিত সাধারণ মাত্রার ফ্লু টিকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণ মাত্রার টিকার বদলে তুলনামূলক বেশি কার্যকর বা উন্নত ধরনের ফ্লু টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
নিউইয়র্কের অ্যাট্রিয়া রিসার্চ অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক ড. গ্রেগরি পোল্যান্ডের মতে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নতুন টিকাকে তুলনামূলক দুর্বল টিকার সঙ্গে তুলনা করা যথেষ্ট নয়। বরং এই বয়সীদের জন্য যে টিকাগুলো বিশেষভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন।
গবেষণায় কতটা কার্যকর পাওয়া গেছে
মডার্নার গবেষণায় ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। ২০২৪-২৫ সালের ফ্লু মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রচলিত সাধারণ মাত্রার ফ্লু টিকার তুলনায় এমআরএনএ টিকাটি প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি কার্যকর ছিল।
তবে গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
এমআরএনএ টিকা নেওয়ার পর সাধারণ ফ্লু টিকার তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এর মধ্যে টিকা দেওয়ার জায়গায় ব্যথা, পেশি ও জোড়ায় ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, জ্বর, মাথাব্যথা এবং কাঁপুনি ছিল।
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার এবং কয়েক দিনের মধ্যে চলে গেছে।
গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার দুই ধরনের টিকা নেওয়া মানুষের মধ্যেই কম এবং প্রায় একই রকম ছিল। গবেষণায় দেখা গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই টিকার কারণে হয়েছে বলে মনে করা হয়নি।
৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে আরও তথ্য প্রয়োজন
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য টিকাটির অনুমোদন দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য আশাব্যঞ্জক হলেও আরও গবেষণার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মডার্নাকে চলতি ফ্লু মৌসুমে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ওপর আরও একটি গবেষণা করতে হবে। সেখানে এমফ্লুসিভার বাস্তব ক্লিনিক্যাল সুবিধা বয়স্কদের জন্য ব্যবহৃত উন্নত ফ্লু টিকার তুলনায় কতটা বেশি, তা যাচাই করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি বাস্তবে ফ্লু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি কতটা কমায়—সেটিই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. শ্যাফনার মনে করেন, অতিরিক্ত গবেষণার শর্তে দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়েছে। কারণ অন্য কিছু টিকার ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
কারা এই টিকা নিতে পারবেন না
যাদের টিকার কোনো উপাদানে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এই টিকা নেওয়া উচিত নয়। একইভাবে অতীতে ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর যাদের গিলিয়ান-ব্যারে সিনড্রোম হয়েছিল, তাদেরও এই টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে টিকা নেওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও আগের টিকার প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স্কদের জন্য ফ্লু টিকা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লুতে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বয়স্কদের মধ্যে ফ্লুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি, জটিলতা এবং মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লুজনিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ছিল ৫০ বছরের বেশি। অথচ ফ্লুজনিত উপসর্গে আক্রান্ত মোট মানুষের মধ্যে এই বয়সীদের অংশ ছিল ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
আর ফ্লুজনিত মৃত্যুর ৭০ দশমিক ৬ শতাংশই ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে। অথচ মোট ফ্লু আক্রান্তের মধ্যে এই বয়সীদের অংশ ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে ফ্লুর গুরুতর পরিণতির ঝুঁকি যে অনেক বেড়ে যায়, এই পরিসংখ্যান সেটিই স্পষ্ট করে।
টিকার উদ্দেশ্য শুধু ফ্লু ঠেকানো নয়
ফ্লুর টিকা নিলেই যে কেউ আর কখনও ফ্লুতে আক্রান্ত হবেন না—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে টিকার বড় উদ্দেশ্য হলো গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো।
ড. পোল্যান্ডের মতে, টিকা নেওয়ার পর কারও হালকা মাত্রার ফ্লু হতে পারে। কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বা কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের প্রয়োজন না হওয়াও টিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ফ্লুতে আনুমানিক ১২ হাজার থেকে ৫২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। কোন মৌসুমে ভাইরাস কতটা তীব্রভাবে ছড়াচ্ছে, তার ওপর মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই নির্ভর করে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. রোনাল্ড জি. নাহাসের মতে, মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুরক্ষা নেওয়া। তার ভাষায়, যে ফ্লু টিকাই পাওয়া যায়, সেটি নেওয়া উচিত। এমআরএনএ টিকাটিও নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন এবং প্রাথমিক কিছু তথ্য অনুযায়ী এটি আরও কার্যকরও হতে পারে।
ফ্লু, কোভিড ও আরএসভির টিকা এক নয়
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—এই টিকা শুধু ফ্লুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। কোভিড-১৯ এবং আরএসভি বা শ্বাসতন্ত্রের আরেকটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি সুরক্ষা দেয় না।
এই দুটি রোগের জন্য আলাদা টিকা রয়েছে।
ইউরোপে কোভিড ও ফ্লুর জন্য একটি যৌথ এমআরএনএ টিকাও অনুমোদন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো সেই যৌথ টিকা পাওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নেওয়ার সময় কখন
চিকিৎসকেরা সাধারণত অক্টোবরের শেষ হওয়ার আগেই ফ্লুর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকদের মধ্যে একটি প্রচলিত কথাও রয়েছে—‘ফ্লু বিফোর বু’, অর্থাৎ হ্যালোউইনের আগেই ফ্লুর টিকা নিয়ে নেওয়া।
তবে অক্টোবরের আগে নেওয়া সম্ভব না হলেও ফ্লু মৌসুমে পরবর্তী সময়ে টিকা নেওয়া উপকারী হতে পারে।
টিকা নেওয়ার পর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত অক্টোবরের দিকে ফ্লু মৌসুম শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হতে পারে। কোনো কোনো বছর মার্চ পর্যন্তও সংক্রমণ বেশি থাকতে পারে।
নতুন টিকার সরবরাহ এখনো সীমিত
এমফ্লুসিভা অনুমোদন পেলেও চলতি মৌসুমে এর প্রভাব হয়তো খুব বড় হবে না। কারণ বেশির ভাগ ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক বছরের শুরুতেই ফ্লুর টিকার অর্ডার দেয়। নতুন টিকাটি পরে বাজারে আসায় এর সরবরাহ তুলনামূলক সীমিত থাকতে পারে।
ওয়ালগ্রিনস জানিয়েছে, তারা সীমিত পরিমাণে এই টিকা দেবে। সিভিএসও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অনুরোধের ভিত্তিতে টিকাটি দিচ্ছে। তবে কোন এলাকায় পাওয়া যাবে, তা ভিন্ন হতে পারে।
মডার্না জানিয়েছে, তাদের টিকা খুঁজে পাওয়ার জন্য কোম্পানির ভ্যাকসিন ফাইন্ডার ব্যবহার করা যাবে। বড় বড় ওষুধের দোকানের চেইনে নতুন টিকাটি পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
বিমা কি টিকার খরচ দেবে
নতুন টিকাটি নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন হলো এর খরচ বিমা দেবে কি না।
মডার্নার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা এবং মেডিকেয়ার পার্ট বি-তে এই টিকার খরচ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের টিকাদান নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও পরামর্শক কমিটির বৈঠক না হওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, টিকা নেওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে ভালো।
শেষ কথা
এমআরএনএ প্রযুক্তির ফ্লু টিকার অনুমোদন ফ্লু প্রতিরোধে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে ভাইরাসের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে টিকার ধরন নির্ধারণ ও উৎপাদন আরও দ্রুত করার সম্ভাবনা এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নতুন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে আরও বাস্তবভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নত ফ্লু টিকার সঙ্গে তুলনা করে এই টিকা গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর ঝুঁকি কতটা কমাতে পারে, তা আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
তবু বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা খুব সহজ—ফ্লু থেকে সুরক্ষার জন্য টিকা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এমআরএনএ টিকা হোক বা প্রচলিত টিকা, উপযুক্ত বয়স ও শারীরিক অবস্থার মানুষের জন্য ফ্লুর টিকা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।












