রাজীব ভট্টাচার্যদূর থেকেই পোড়া মাংস ও হাড়ের দুর্গন্ধে বমি বমি লাগছিল। বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ছিন্নভিন্ন ও পুড়ে যাওয়া মানুষের দেহের অংশ। যে জায়গায় একসময় আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষের প্রয়োজন মেটানো একটি জমজমাট বাজার ছিল, সেখান থেকে তখন ধোঁয়া উঠছিল।
২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পন্নাগিউন টাউনশিপের ইয়ো ন্গু গ্রামে বোমা হামলার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিবেশ ছিল ভীতিকর। ছয়জনের একটি ছোট দল ছাড়া পুরো গ্রামই ছিল জনশূন্য। ওই ব্যক্তিরা জ্বলন্ত মশাল হাতে লাঠি ও বেলচা দিয়ে ছাই আর পোড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজছিলেন।
পুরুষরা সড়কের পাশে বাজারসংলগ্ন একটি জায়গায় মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একত্র করছিলেন। যেখানে আগুন তখনো পুরোপুরি নেভেনি, সেখানে এক ব্যক্তি বালতি দিয়ে পানি ঢালছিলেন। বাজারের এক কোণে বসে দুই নারী, যারা তাঁদের স্বজন হারিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাঁদছিলেন।
“সকালে আবার কাজ শুরু করি,” এক বৃদ্ধ চিৎকার করে বললেন। “অন্ধকারে আর কিছু বের করা সম্ভব হবে না।” মরদেহ ও দেহের অংশগুলো একটি হাতগাড়িতে তুলে কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইয়ো ন্গু গ্রামের একটি বাজারে ৫০০ পাউন্ডের দুটি বোমা ফেলে। ঘটনাস্থলেই প্রায় ১৭ জন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিল ৬ বছরের একটি মেয়ে, দুই কিশোর, চার নারী এবং পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন একটি দগ্ধ মরদেহ।
আহতদের প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ম্রাউক উ শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৫ বছরের এক মেয়েসহ আটজনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। আহত এক মধ্যবয়সী পোলট্রি খামারি দুই দিন পর মারা যান।

বোমা হামলার ঘটনাস্থলে মৃতদেহ সংগ্রহ কিংবা নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে প্রায় এক ডজন মানুষ ছিলেন। গ্রামের সব বাসিন্দা ১ থেকে ২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বিভিন্ন জায়গায় সরে গিয়েছিলেন। অনেকে খোলা মাঠে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের ভয় ছিল, সেদিন রাতেও আবার বিমান হামলা হতে পারে।
গ্রামের উত্তর প্রান্তে মহাসড়ক থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের ধানখেতে ১৯টি পরিবার বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সিত্তওয়ে থেকে বাস্তুচ্যুত ৩২ জনও ছিলেন। গত বছরের শুরুতে সামরিক বাহিনীর লাগাতার গোলাবর্ষণের কারণে তাঁদের গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল। তাঁরা ভেবেছিলেন ইয়ো ন্গুতে নিরাপদে থাকতে পারবেন। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলার পর গ্রামের বাইরে আশ্রয় নেওয়া ইয়ো ন্গুর একটি পরিবার।
“গত বছর সিত্তওয়ে থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে হয়েছিল। আমরা আবার সেই পরিস্থিতিতে ফিরে গেছি,” বললেন হ্লা থেইন তুন। বিমান হামলায় মাথায় একাধিক বোমার স্প্লিন্টার আঘাত করায় তাঁর বোন ঘটনাস্থলেই মারা যান। “আমরা জানি না, আর কত দিন এখানে থাকতে পারব।”
কিয়াউকফিউ থেকে আসা আরেকজন পুরুষ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি বাজারে নিহত হন এবং আরও দুজন সামান্য আহত হন। তাঁরা গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাসিন্দার মধ্যে থাকা প্রায় ৮৫০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের অংশ ছিলেন।
গ্রামে ফিরে যেতে না পারা পর্যন্ত এসব মানুষকে মাঠেই থাকতে হবে। খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতে তাঁদের গ্রামে যেতে হয়। বৃদ্ধ, শিশু এবং বিশেষ করে অসুস্থ মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেশি, কারণ তাঁদের বাড়তি যত্ন ও সহায়তা প্রয়োজন।
“আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো এখন শীতকাল চলছে। মাঠগুলো শুকনো, তাই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কম,” সাত সদস্যের পরিবারের সঙ্গে মাঠের একটি খড়ের ঘরের বাইরে বসে থাকা থান তুন বললেন। “কিন্তু এখানেও বিমান হামলা হতে পারে।”
তাঁর আশঙ্কা অমূলক ছিল না। ২৭ জুলাই ইয়ো ন্গু গ্রাম থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরের কাছে আবার বিমান হামলা হয়। এতে এক কিশোরী সামান্য আহত হয়।
পন্নাগিউন টাউনশিপের ইয়ে ইয়ে পিয়িন গ্রামের বাসিন্দারা বিমান হামলার ধাতব খণ্ড প্রদর্শন করছেন।

সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা বাড়ানোর কারণ
গত বছর সামরিক বাহিনী ছেড়ে আসা মেজর মিইন্ট জাও থান ২৫ ফেব্রুয়ারি রাখাইন রাজ্যে দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, আগামী কয়েক মাসে রাখাইনের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা আরও বাড়বে। তাঁর ব্যাখ্যা, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সিত্তওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং—এই তিনটি টাউনশিপ রক্ষার প্রয়োজন থেকেই হামলা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৪টি টাউনশিপ আরাকান আর্মি বা এএ-এর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
মিইন্ট জাও থান বলেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ বাড়তে থাকলে সামরিক বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা উন্নত করে। তিনি বলেন, “এখন তারা ব্যাপকভাবে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে, যা পাঁচ বছর আগে ছিল না। নজরদারি ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।”
এএ-এর কাছ থেকে হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখল করা গত এক বছরে সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
এর আগে অন্যান্য অঞ্চলে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সামরিক বাহিনী স্থল অভিযানে সহায়তার জন্য বিমান হামলা চালাত। বর্তমানে রাখাইনসহ যেসব অঞ্চল মূলত জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে, সেখানে বিমান হামলা আলাদা একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাখাইন রাজ্যের কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকের মতে, সশস্ত্র প্রতিরোধ দুর্বল করা, বেসামরিক জনগণের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য বিমান শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, ৪ সেপ্টেম্বর সামরিক বাহিনী রাখাইন এবং এর সংলগ্ন ম্যাগওয়ে ও আয়েয়াওয়াদি অঞ্চলের কয়েকটি টাউনশিপজুড়ে ‘অপারেশন ৪৯২৬’ নামে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করার পর বিমান হামলা আরও বাড়তে পারে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের হতাহতের প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা। এতে অন্তত ৯৮২ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ২৩২ জন শিশু। ২০২৪ সালের তুলনায় হতাহতের সংখ্যা ৫২ শতাংশ বেশি।

আইএসপি-মিয়ানমারের ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি ট্র্যাকার ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাখাইনে অন্তত ২২২টি বিমান হামলা হয়েছে। দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ৫৮৩টি বিমান হামলার মধ্যে ম্যাগওয়েতে সবচেয়ে বেশি ৩২২টি হামলা হয়েছে।
বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা বাড়ছে বলেও আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট বা এসিএলইডি উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, মার্চে নতুন সামরিক প্রধান ইয়ে উইন উ দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক কমান্ড পুনর্গঠন করা হয় এবং নতুন সামরিক কৌশলের কারণে হামলা বেড়েছে।
সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঞ্চলে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ থাকা একটি সীমান্ত অঞ্চল। এসিএলইডি বলেছে, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী নিয়মিত দুই থেকে পাঁচটি জেট যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত “বিশেষায়িত দল” মোতায়েন করছে, যারা একই লক্ষ্যবস্তুতে বারবার হামলা চালায়।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার বা আইআইএমএম-এর এক প্রতিবেদনেও এসিএলইডির এসব তথ্যের প্রতিফলন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার ও জাইরোকপ্টারের মতো কম খরচের উড়োজাহাজের ব্যবহার বাড়ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, সামরিক বাহিনীর ‘ডাবল-ট্যাপ’ বিমান হামলার ব্যবহার বাড়ায় বেসামরিক হতাহতের মাত্রা আরও তীব্র হচ্ছে। এ ধরনের হামলায় প্রথম হামলার পর দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়, যা দৃশ্যত “উদ্ধারকর্মী, আহতদের সাহায্য করতে আসা মানুষ এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের” লক্ষ্য করে করা হয়।
বিমান হামলা বাড়ার বিষয়ে এএ-এর প্রধান তুয়ান ম্রাত নাইং ২ মার্চ দ্য ডিপ্লোম্যাটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সামরিক সরকার শক্তির অবস্থান থেকে কথা বলতে চায়। কিন্তু আমরা এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।”
ম্রাউক উ হাসপাতালে বিমান হামলা

রাখাইন রাজ্যে বেসামরিক মানুষের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর একটি ছিল ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ম্রাউক উ ডিভিশন হাসপাতালে চালানো হামলা। এতে ৩৩ জন নিহত এবং ৮০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে হাসপাতালের সাত কর্মীও ছিলেন। হাসপাতালটির ধারণক্ষমতা ছিল ২৫০ শয্যার, তবে হামলার সময় সেখানে ১৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।
আহত কর্মীদের মধ্যে ছিলেন সোয়ে নাইং তুন। হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। হাসপাতালের ওপর গোলা পড়া এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তিনি নিজের চোখে দেখেছেন।
“দুটি হামলাই রাত ৯টা ১৫ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে হয়েছিল। প্রথম হামলাটি বারান্দার পাশের একটি কক্ষে আঘাত হানে, যেখানে থাকা সব রোগী নিহত হন। সৌভাগ্যক্রমে দ্বিতীয়টি সামনের মাঠে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিল, প্রচণ্ড শব্দে যেন মূল ভবনে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছে,” স্মরণ করে বলেন সোয়ে নাইং তুন। তিনি জানান, নিহত ও আহত রোগীদের বেশির ভাগই পন্নাগিউন, কিয়াউকতাও ও ম্রাউক উ টাউনশিপের বাসিন্দা ছিলেন।
সোয়ে নাইং জানান, হামলার পর পুরো হাসপাতাল চত্বর অন্ধকার হয়ে যায় এবং আংশিকভাবে আগুনে পুড়ছিল। এরপর “যারা সামান্য আহত হয়েছিলেন বা একেবারেই আহত হননি, তাঁরা খুঁড়িয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ মৃত বা গুরুতর আহত মানুষদের বহন করছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর এএ-এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের দুই ডজন কর্মকর্তা এবং একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা দুটি গাড়ি নিয়ে সেখানে আসেন এবং আহতদের অন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।”
আগুন নেভানো, মরদেহ বের করা এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত কেউ পড়ে আছেন কি না তা পরীক্ষা করার কাজ ভোর পর্যন্ত চলে। নিহতদের অনেকের দেহ পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। স্বজনদের শনাক্ত করার জন্য মরদেহগুলো ভবনের বাইরে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। দুই চিকিৎসক মরদেহ পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক, যিনি হামলার দিন ছুটিতে ছিলেন, হামলার কারণ সম্পর্কে তাঁর কোনো সন্দেহ ছিল না। তিনি বলেন, “এই হাসপাতাল আরাকানের মুক্ত অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। দূরদূরান্তের মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সামরিক বাহিনী ধারণা করেছিল, এএ-এর অনেক কর্মকর্তা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”
হাসপাতালটি এমন প্রত্যন্ত এলাকাতেও মোবাইল স্বাস্থ্যদল পাঠায়, যেখানে সড়ক বা যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখানে অসুস্থ রোগীদের পরীক্ষা করে ওষুধ দেওয়া হয়। হাসপাতালটিতে বিমান হামলা চালানোর ফলে এসব সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার কৌশল সামরিক বাহিনী ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেছে। এক হিসাব অনুযায়ী, গত বছর মিয়ানমারজুড়ে সামরিক বাহিনী অন্তত ১১০ বার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে ৩৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৩৩ জন গ্রেপ্তার হন।
ম্রাউক উ ডিভিশন হাসপাতালের হামলায় কোনো চিকিৎসক বা নার্স নিহত বা আহত না হলেও প্রায় পুরো ওষুধের মজুত পুড়ে যায় এবং অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়। তিন সপ্তাহ পর হাসপাতালটি সীমিত অবকাঠামো, ওষুধ ও কর্মীর সংকট নিয়ে অন্য একটি স্থানে আবার চালু হয়। তবে পরবর্তী তিন মাসে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। মানুষের আশঙ্কা ছিল, সামরিক বাহিনী আবারও হাসপাতালে হামলা চালাতে পারে।
“ভয় সবসময় আছে, কিন্তু কোনো বিকল্প নেই”
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত রাখাইনে ভ্রমণের সময় আমি অনেক জনশূন্য ও আংশিকভাবে পুড়ে যাওয়া গ্রাম, বোমায় বিধ্বস্ত স্থাপনা এবং বাড়ির ভেতরে খোঁড়া পরিখা দেখেছি। মানুষকেও পরিখা খুঁড়তে দেখেছি। ২০২৪ সালে ওই অঞ্চলে আমার আগের সফরের তুলনায় এবার মানুষের মধ্যে বিমান হামলার ভয় অনেক গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে হয়েছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠত। কিয়াউকতাওয়ে সামরিক বাহিনীর একটি সাবেক অতিথিশালার পাশে চায়ের দোকানের মালিক শান শোয়ে অং বলেন, “সাধারণ ধারণা হলো, দিনের চেয়ে রাতে বেশি বোমা হামলা হয়েছে। তাই অন্ধকার নামার পর মানুষ বাড়িতে এবং পরিখার কাছাকাছি থাকতে চায়।”
বিকেল গড়িয়ে গেলেই দোকানিরা দিনের ব্যবসা শেষ করার প্রস্তুতি নেন এবং দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। রাস্তার বিক্রেতারা পণ্য গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। রাস্তাঘাটও দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কিছু রেস্তোরাঁ গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকলেও সেগুলো ছিল ব্যতিক্রম। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রাতের খাবার দ্রুত খেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়।
পন্নাগিউন, রাথেদাউং, কিয়াউকতাও ও পাউকতাও টাউনশিপে ভয় আরও তীব্র ছিল। মংডু ও পালেতওয়ার তুলনায় এসব এলাকায় বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বেশি ঘটেছে।
মানুষ এমন এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে, যেখানে দুই বছর আগের মতো বিমান হামলা আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিপদ নয়; বরং তা এখন সার্বক্ষণিক হুমকি। মানুষ এই বিপদের সঙ্গে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে যে এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ এবং সম্মিলিত চেতনার অংশ হয়ে গেছে।
বুথিডাউং শহরের বাসিন্দা থাজিন খাইং বলেন, “প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর আগে আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি—আজ আকাশ কি নিরাপদ থাকবে? বিকেলে সে বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি না।” তিনি তাঁর দোতলা বাড়ির উঠানে খোঁড়া একটি পরিখা দেখিয়ে বলেন, “এখানে বিমান হামলা তুলনামূলক কম হয়েছে। কিন্তু জেট যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনলেই আমরা পরিখায় নেমে যাই।”

পন্নাগিউন টাউনশিপে বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া থুজার মিইন্ট ডান কানে আঘাত ও পরবর্তী শ্রবণশক্তি হ্রাসে ভুগছেন।
অধিকাংশ বাড়িতেই পরিখা রয়েছে, তবে কিছু বাড়িতে নেই। জায়গা ও অর্থের অভাবে অনেক পরিবার নিজেদের সুরক্ষার জন্য পরিখা তৈরি করতে পারে না। এসব পরিবারের বেশির ভাগই নিম্নআয়ের এবং দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পন্নাগিউন টাউনশিপের ওল্ড ক্রান খুন শিবিরের মতো বড় বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরেও একই চিত্র দেখা যায়।
ম্রাউক উ শহরের উপকণ্ঠে এমন একটি এলাকায় গিয়েছিলাম, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বেশি হওয়ায় বাসিন্দাদের পানিতে ভরা পরিখায় আশ্রয় নিতে হয়। বর্ষাকালে অন্যান্য টাউনশিপেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
তবু বিমান হামলা থেকে পরিখা কোনো নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা দিতে পারে না। পালেতওয়ার এক বাসিন্দা, যিনি এই ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়েছিলেন, বলেন, সেখানে কোনো আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই। প্রথম হামলার পরই মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরিখার দিকে ছুটতে শুরু করে। কিন্তু প্রথম হামলাতেই প্রায়ই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কিয়াউকতাও টাউনশিপের থায়েত তা পিন গ্রামে দুটি বিমান হামলা হয়। প্রথম হামলাটি রাত ১টা ১৫ মিনিটে একটি ছাত্রাবাসে চালানো হয়, যেখানে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকত। ঘটনাস্থলেই ২০ জন নিহত হন এবং আরও দুজন শহরের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। অন্তত ২৬ জন আহত হন। দ্বিতীয় হামলাটি একটি খোলা জায়গায় চালানো হয়। এতে বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং কাছের দুটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিহতদের মধ্যে ছিল ১৫ বছর বয়সী তুন মুর্ন থান্ট। দুই বছর আগে সিত্তওয়ে থেকে ওই গ্রামে এসে সে দাদা-দাদি, বোন ও মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিল। ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তার দাদি খিন মার ই বলেন, “আমরা বিমানের শব্দ শুনেছিলাম এবং প্রায় ১০ সেকেন্ড পর হামলা হয়। পরিখায় আশ্রয় নেওয়ার সময়ই ছিল না।”
তিনি বলেন, প্রথম হামলার প্রায় এক মিনিট পর দ্বিতীয় হামলা হলে গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা পরিখায় আশ্রয় নেন বা গ্রাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিমান হামলার শিকার অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাও আরও হামলার আশঙ্কায় কয়েক দিনের জন্য গ্রামের বাইরে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
গ্রামের এক বাসিন্দা উ তিন ন্যুন্ট বলেন, “ভয় সবসময় আছে, কিন্তু কোনো বিকল্প নেই। বোমা হামলার হুমকি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।” বিমান হামলার পর তিনি এক সপ্তাহ গ্রামের বাইরে একটি তাঁবুতে ছিলেন।
বাস্তুচ্যুতি, বিপর্যয় ও হতাশা

সমুদ্র ও নদীর তীরে অথবা সিত্তওয়ের সামরিক স্থাপনার গোলাবর্ষণের আওতায় থাকা শহর ও গ্রামগুলো বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ—দুই ধরনের আঘাতই সহ্য করেছে। এর ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে এবং পুরো গ্রামগুলোর মানুষকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যের সিত্তওয়ে জেলার রাথেদাউং শহর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের ধ্বংসযজ্ঞের একটি উদাহরণ। কালাদান নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর এবং আশপাশের গ্রামগুলো এএ শহরটি দখল করার প্রায় তিন মাস আগে থেকেই ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ এএ শহরটি দখল করার আগে সেখানে ১ হাজার ১৮ জন মানুষ বসবাস করতেন। এখন ছয়টি পরিবারের মাত্র প্রায় ৩০ জন সেখানে আছেন। বাকিরা অন্য টাউনশিপ, গ্রাম ও বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে ছড়িয়ে পড়েছেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি শহরটি পরিদর্শনের সময় আমি উপড়ে যাওয়া ও ভাঙা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বোমার গর্তে ক্ষতবিক্ষত রাস্তা, বিধ্বস্ত বাড়ি ও মঠ দেখতে পাই। বসতির পূর্ব প্রান্তে বাঁশের বেড়া দেওয়া ছিল, যাতে বাসিন্দারা স্থলমাইনে পা না দেন।
রাথেদাউংয়ের সাবেক আইনজীবী উ থার জান বিপদের মধ্যেও শহর ছেড়ে যাননি। তিনি বলেন, “শহর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩০ বার বিমান হামলা হয়েছে এবং কালাদান নদীতে অবস্থানরত সামরিক নৌযান থেকে এর চেয়েও বহুবার গোলাবর্ষণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে ছয় নারী ও দুই শিশু। আহত হয়েছেন ২৮ জন।”
রাথেদাউং শহরের চেয়েও পাউকতাও ও পন্নাগিউনের পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। দুটি শহরই সামরিক ঘাঁটির গোলাবর্ষণের আওতায় ছিল এবং বাসিন্দারা প্রায় পুরোপুরি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
পন্নাগিউন শহরে আমি মাত্র পাঁচজন বাসিন্দাকে দেখতে পেয়েছিলাম। পাউকতাওয়ে কোনো বাসিন্দা ছিল না। সেখানে কেবল কয়েকজন এএ যোদ্ধা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো ও পরিখার আড়ালে অবস্থান করছিলেন। অধিকাংশ বাসিন্দা পন্নাগিউন টাউনশিপের বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে অথবা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তা ও জীবিকার সন্ধানে মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত চলে গেছেন।
ইউএলএর দাবি, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাখাইনজুড়ে বিমান হামলায় ৫৬৫ জন নিহত ও ১ হাজার ২৬১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গোলাবর্ষণে ২৬৮ জন নিহত এবং ৭২৯ জন আহত হন। বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে প্রায় ৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউ—এই দুই জেলায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নতুন এলাকায় চলে যাওয়ার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা তাঁদের জীবিকা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের জমি চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যবসায়ী, দোকানি, জেলে ও উদ্যোক্তারা তাঁদের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন এবং নতুন আশ্রয়স্থলে যে কোনো ধরনের জীবিকার পথ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
পন্নাগিউন টাউনশিপের কায় থোয়ে গ্রামের পাঁচ একর জমির কৃষক ন্যিন ন্যিন তুন গত বছর বাস্তুচ্যুত হন। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষায়, “বিশেষ করে সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউতে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে মনে হচ্ছে আরাকানের মধ্যাঞ্চলে তা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।”

কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিমান হামলার মানবিক পরিণতিও ভয়াবহ। মুক্ত অঞ্চলের সব বড় স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ছোট ছোট বাড়িতে পরিখা তৈরি করে সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।
স্কুলের আশপাশে বিমান হামলা হলে বহু সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। কখনো কখনো, কিয়াউকতাওয়ের থায়েত তা পিন গ্রামের বিমান হামলার পর যেমন হয়েছিল, শিক্ষকদের অভিভাবকদের তাঁদের সন্তানদের আবার স্কুলে পাঠাতে রাজি করাতে অতিরিক্ত চেষ্টা করতে হয়েছে। ওই ঘটনার ছয় মাস পরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তওয়ে জেলার জনশূন্য পাউকতাও শহর।
স্কুলগুলোর মতোই প্রত্যন্ত এলাকায় সেবা দেওয়া মোবাইল স্বাস্থ্যদল এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া বেসরকারি সংস্থাগুলোও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইউএলএর অধীন ম্রেবন টাউনশিপের জেলা চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. থান তুন বলেন, চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রায় ২৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে সরে গেছেন। একাধিক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের শিকার অন্যান্য টাউনশিপের চিকিৎসকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন।
সব বয়সী মানুষ বিভিন্ন মাত্রার মানসিক আঘাতের সঙ্গে লড়ছেন বলে জানা গেছে। সব টাউনশিপেই কিছু নারী ও শিশুর মধ্যে উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং বিচ্ছিন্নতাজনিত সমস্যার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলায় অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া, গুরুতর আহত হওয়া অথবা একাধিক স্বজন হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যার দেখা গেছে।
বিদ্যমান স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা খুবই সীমিত বা প্রায় নেই। এক চিকিৎসকের ভাষায়, “যুদ্ধের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেঁচে থাকা এবং যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা।”












