ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শুরু হতে পারে। মাটিতে লড়বে সৌদি তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনী, আকাশ থেকে সহায়তা দেবে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে দুটি বিকল্প বিবেচনায় আছে।
একটি বিকল্প লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে সীমিত হামলা। অন্যটি আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ একাধিক ফ্রন্টে একযোগে বড় অভিযান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে, যেখান থেকে প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সৌদি আরবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও বেড়েছে। বড় পরিসরের অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা ব্যবহার হতে পারে। শুক্রবারও আসির অঞ্চলের খামিস মুশাইতের দিকে হুথিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ভূপাতিত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আহাদ রাফিদা এলাকায় এক এশীয় প্রবাসী আহত হয়েছেন। তার জাতীয়তা জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব এই অভিযানে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়াশিংটন সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে অভিযান সমস্যায় পড়লে অবস্থান বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ফোন করে পরিকল্পনা জানিয়েছেন। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি মনে করেন, অভিযানটি হবে সীমিত, ২০১৫ সালের সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের চেয়ে অনেক ছোট পরিসরে।
হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য, সেখানে কাজ করেন লাখো বাংলাদেশি। সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়লে তাদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এ বছর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে উপসাগরীয় শ্রমবাজার আগেও ধাক্কা খেয়েছে, আর সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স নেমেছে ১১ মাসের সর্বনিম্নে। ইউরোপগামী বাণিজ্যের বড় অংশও লোহিত সাগর দিয়ে যায়। এর মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে আগস্টে জানিয়েছিলেন মন্ত্রীরা।
সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক আলী শিহাবি সতর্ক করেছেন, যেকোনো অভিযানের ফল নির্ভর করবে মাটিতে লড়া বাহিনীর সক্ষমতার ওপর। হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে, নাকি সংঘাত আরও ছড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।












