মহালয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার, ১০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীতে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সপ্তমী ১৮, অষ্টমী ১৯ এবং নবমী ২০ অক্টোবর। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপিত হবে।
দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে নিরাপত্তা সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মণ্ডপের এই সংখ্যা জানান। তার ভাষ্য, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় দেড় হাজার মণ্ডপ বেড়েছে। তিনি একে রেকর্ডসংখ্যক মণ্ডপ বলে উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম জেলাতেই এবার ২ হাজার ৪৮৫টির বেশি মণ্ডপ হবে বলে জানিয়েছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। কোনো সতর্কবার্তা বা ঝুঁকির তথ্যও নেই। জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপ এবার পূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে। প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা থানায় যাচাই করে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আয়োজকদের জেনারেটর প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।
এবার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। পূজার সরকারি ছুটিও বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে কার্যত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা। স্থানীয় পঞ্জিকাভেদে পূজার কোনো কোনো আনুষ্ঠানিকতার সময়ে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, চূড়ান্ত সূচি জানাবে পূজা উদযাপন পরিষদ।
মহালয়ার আর ছয় দিন বাকি। মণ্ডপের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁলেও উৎসব নির্বিঘ্ন রাখাই এখন প্রশাসন ও আয়োজকদের প্রধান কাজ। দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে মণ্ডপ কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ই হবে মূল ভরসা।












