সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত। মদিনায় ড্রোন হামলার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করেছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যেকোনো আগ্রাসন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১১ মিনিটে ড্রোনটি তাইবাহ কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে যায়, তবে সামগ্রিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি। তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুথিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছে জোট। হুথিরা অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।
তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরব লীগ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আরব লীগ একে অগ্রহণযোগ্য সীমালঙ্ঘন ও বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে। এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছিল সৌদি আরব। হুথিরা সেটিও অস্বীকার করেছিল।
সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। প্রতিবছর লাখো বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ পালনে মক্কা ও মদিনায় যান। তাই সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়লে বাংলাদেশের উদ্বেগও বাড়ে। এর মধ্যে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মদিনায় ড্রোন হামলার পর সেই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।












