জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা তীব্র গরম গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের জন্য ক্রমেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এ বিষয়ে সতর্ক করতে যাচ্ছেন জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ফিজির নাদিতে শুরু হওয়া প্রাক-কপ সম্মেলনে স্টিয়েল এ বিষয়ে কথা বলবেন। তিনি এমন একটি নতুন জরিপের তথ্য তুলে ধরবেন, যেখানে পাঁচ মহাদেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী গত পাঁচ বছরে তীব্র গরমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
স্টিয়েল বলবেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে সময়ের আগে সন্তান জন্ম, মৃত সন্তান প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং মায়ের বিভিন্ন জটিলতার সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত গরমের প্রভাব যত বাড়ছে, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানও বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির জায়গা হয়ে উঠছে। এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই পরিস্থিতি যেন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্ভোগ, বৈষম্য ও অন্যায়ের আরও গভীর কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হচ্ছে এবং আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপ থেকে সাহেল অঞ্চল এবং মধ্য আমেরিকা পর্যন্ত প্রায় ৩৩টি দেশে রেকর্ড রাখার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই দেখা গেছে।
গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ওপর অতিরিক্ত গরমের প্রভাব নিয়ে জরিপটি করেছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওয়েলকাম। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও জিম্বাবুয়ের ১ হাজার ধাত্রী ও চিকিৎসকের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় সব ধাত্রী ও চিকিৎসকই এমন মা বা শিশুর চিকিৎসা করেছেন, যারা তীব্র গরমের প্রভাবে অসুস্থতা বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়েছেন।
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশু, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, শিশুকে খাওয়াতে সমস্যা, পানিশূন্যতা কিংবা গরমজনিত অসুস্থতার ঘটনা দেখেছেন। এসব সমস্যার পেছনে তীব্র গরমের ভূমিকা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
ওয়েলকামের চেয়ারওম্যান ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মা ও শিশুরা ক্রমেই বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরম একটি নীরব ঘাতক। তবে গর্ভবতী নারীদের এই ঝুঁকির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও সমাধানের পথ এখন বিশ্বনেতাদের হাতে রয়েছে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
স্টিয়েল প্রাক-কপ সম্মেলনে আরও বলবেন, গর্ভাবস্থা স্বাভাবিকভাবে আশা ও আনন্দের সময় হওয়ার কথা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দৈনন্দিন জীবনে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি করায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই সময়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
ফিজিতে অনুষ্ঠিত প্রাক-কপ৩১ সম্মেলন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত প্রবাল দ্বীপ তুভালুতে আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে সামনের সারিতে থাকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু সংকটে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকিগুলো বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই সম্মেলন আগামী মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের বৃহত্তর জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে কাজ করছে।












