ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে ঘিরে ব্রিটেনের মাটিতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সাদা ভ্যান, পাঁচ ব্যক্তির গ্রেপ্তার এবং পরে তাদের জামিনে মুক্তি—পুরো ঘটনাটি ঘিরে এখনো কাটেনি রহস্য।
ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও এখনো তদন্তাধীন। ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ঘটনাটির পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা তেহরানের অন্য কোনো সামরিক কাঠামোর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে। ইংল্যান্ডের গ্রামীণ ও শান্ত একটি এলাকার মধ্য দিয়ে তিনটি সাদা ভ্যান ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল। ওই ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বড় আকারের বোমারু বিমান পরিচালনা করছে।
ঠিক কী কারণে ভ্যানগুলোর এক ব্যক্তি জরুরি সেবায় ফোন করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সেই ফোন পাওয়ার পরই ব্রিটিশ পুলিশ দ্রুত সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে।

পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ঝাপসা ছবিতে দেখা যায়, পাঁচজনকে রাস্তার পাশে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের হাত পেছনে বাঁধা। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার পর ৮৫টি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের একটি রোবট ভ্যানগুলো তল্লাশি করে। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠকও করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পরে তিনি বলেন, ঘটনাটিতে ইরানের ভূমিকা থাকার বিষয়ে ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন—ইরানের ভূমিকা থাকলে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা চলছিল?
তল্লাশির পর ভ্যানগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। কিছু পেট্রোল পাওয়া গেলেও হামলার জন্য ব্যবহারের মতো বিস্ফোরক মজুতের প্রমাণ মেলেনি। আরও বিস্ময়করভাবে, গ্রেপ্তারের এক দিনের মধ্যেই পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে বিরল। ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, তারা কঠোর শর্তের অধীনে রয়েছেন এবং তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা লরেন্স টেলর বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় হুমকি প্রথমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে। কখনো কখনো জড়িত ব্যক্তিদের মূল উদ্দেশ্য সন্ত্রাসবাদ নয়, বরং দ্রুত অর্থ উপার্জনও হতে পারে।
এ কারণেই তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই পাঁচ ব্যক্তি আসলে কী করতে যাচ্ছিলেন?
আগেই ছিল সতর্কবার্তা
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ব্রিটেনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সম্ভাব্য ইরান-সমর্থিত হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা এমন গোয়েন্দা তথ্য পান, যাতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব তথ্যের উৎস হিসেবে আটক করা যোগাযোগ, মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা উপাত্তের কথা বলা হয়েছে।

ইসরায়েলও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য ইরান-সমর্থিত হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে। তবে সে সময় নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা হামলার তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছিল, কোনো হামলা হলে পরবর্তী পর্যায়ে ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে।
ফলে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ঘাঁটির আশপাশের বাসিন্দারাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ডম মরিস জানান, ঘাঁটির নিরাপত্তা ও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে—এমন আলোচনা স্থানীয়দের মধ্যে চলছিল।
১৬ সেপ্টেম্বর, ঘটনার ১১ দিন আগে, একটি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে একজন বাসিন্দা দাবি করেন, রাতের দিকে তিনি বালাক্লাভা পরা এক ব্যক্তিকে গ্রামে দৌড়াতে দেখেছেন। আরও কয়েকজন বাসিন্দাও কালো পোশাক ও মুখ ঢাকা একজন ব্যক্তিকে দেখার কথা জানান।
তবে তারা একই ব্যক্তিকে দেখেছিলেন কি না, কিংবা ওই ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে আদৌ জড়িত ছিলেন কি না—তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ইউরোপজুড়েও বাড়ছিল উদ্বেগ
ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার আগে ইউরোপের অন্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল জার্মানিকে সতর্ক করেছিল যে দেশটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে স্প্যাংডাহলেম ও রামস্টেইন ঘাঁটির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২৩ সেপ্টেম্বর ইরান-সমর্থিত একটি গণমাধ্যমে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক প্রধান কমান্ডার ইয়াহিয়া রহিম সাফাভির বক্তব্য প্রকাশিত হয়। সেখানে ইউরোপকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের ‘লজিস্টিক কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র যেসব ইউরোপীয় বিমানঘাঁটি ব্যবহার করছে, সেগুলোর মধ্যে জার্মানির রামস্টেইন, ইতালির আভিয়ানো এবং ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ডের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে তখনও গোয়েন্দাদের হাতে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ছিল না। ফলে নিরাপত্তা বাড়ানো ছাড়া কর্তৃপক্ষের হাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল।
তিন ভ্যান থেকে সন্দেহ আরও ঘনীভূত
২৭ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় এক কৃষক বাড়ি ফেরার সময় নিজের প্রবেশপথে তিনটি সাদা ভ্যান দেখতে পান। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।
তার দাবি, তিনি মুখ ঢাকা আট থেকে ১০ জন মানুষকে দৌড়াতে দেখেছিলেন। রাত ১টা ৩৬ মিনিটে তিনি ব্রিটেনের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।
তিনি পরে ধারণা করেন, তার ফোনের কারণেই হয়তো সম্ভাব্য কোনো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
তবে পুলিশি সময়রেখা অনুযায়ী, ওই কৃষকের ফোনের প্রায় ৫০ মিনিট আগেই ভ্যানের এক ব্যক্তি জরুরি সেবায় ফোন করেছিলেন। ফলে কৃষক যাদের দেখেছিলেন, তারা আসলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ছিলেন, নাকি পুলিশের অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মী—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের উপসহকারী কমিশনার ভিকি ইভান্স ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল ও বড় পরিসরের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পুলিশের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।

কেন জামিনে মুক্তি?
তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো পাঁচ সন্দেহভাজনের দ্রুত জামিন।
সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে আটক করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাদের চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। অর্থাৎ মুক্তি পেলেও তারা তদন্তের বাইরে চলে যাননি।
কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন, তারা আসলে কার নির্দেশে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তাদের কাজের উদ্দেশ্য কী ছিল।
একটি সম্ভাবনা হলো, তারা ইরানের হয়ে কাজ করা নিম্নপর্যায়ের লোক, যারা নিজেরাই পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন না। আরেকটি সম্ভাবনা হলো, তাদের ব্যবহার করে পুলিশকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যস্ত রাখা হয়েছিল, যখন অন্য কোথাও বড় কোনো পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
আবার তদন্তকারীদের কেউ কেউ মনে করছেন, পাঁচজন হয়তো সাধারণ অপরাধী ছিলেন। কাজটি যে গুরুতর হতে পারে তা বুঝতে পেরে তাদের একজন ভয় পেয়ে পুলিশকে ফোন করেছিলেন।
এমনকি পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি ও প্রচারণার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিটেনে ইরান-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার পুরোনো অভিযোগ
ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা এমআই৫ বহু বছর ধরেই ইরান-সমর্থিত তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করে আসছে। সংস্থাটির সাবেক প্রধান কেন ম্যাককালাম ২০২৪ সালে বলেছিলেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলো বিভিন্ন দেশে প্রক্সি হিসেবে অপরাধীদের ব্যবহার করে থাকে।
ব্রিটেনে ইরানি সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি দেওয়া এবং তাদের ওপর হামলার অভিযোগও অতীতে উঠেছে।
এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটির ব্যবহার দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুরুতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চালানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্রিটেন ‘আকাশ থেকে সরকার পরিবর্তনের’ অভিযানে অংশ নেবে না।
পরে অবশ্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। এরপর ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বি-৫২ ও বি-১ বোমারু বিমান ইরানের দিকে উড়তে শুরু করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এই নীতি অব্যাহত রেখেছেন।
এর পর ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত প্রক্সিদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। লন্ডনে একটি ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চারটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া এবং কয়েকটি উপাসনালয়ে রাতে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

তবে ফেয়ারফোর্ডের মতো একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা হলে তা পরিস্থিতিকে অনেক বেশি গুরুতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
তদন্ত চলছে, রহস্যও রয়ে গেছে
গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ ফেয়ারফোর্ডের আশপাশের ৮৫টি বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে ফিরে গেছেন। তিন ভ্যানকে ঘিরে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে বিমানঘাঁটির প্রবেশপথে নতুন করে কংক্রিটের ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে। অর্থাৎ তদন্ত শেষ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়। তাকেও পরে জামিন দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফেয়ারফোর্ডের তিন ভ্যানের ঘটনা এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তরহীন গল্প। কে ওই ব্যক্তিদের সেখানে পাঠিয়েছিল, তারা আসলে কী করতে যাচ্ছিলেন, জরুরি নম্বরে ফোন করার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ইরানের সঙ্গে তাদের কোনো বাস্তব যোগাযোগ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তকারীদের হাতে পুরোপুরি নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগে থেকেই গোয়েন্দা সতর্কতা ছিল। কিন্তু সেই সতর্কতার সঙ্গে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটির সরাসরি সম্পর্ক কতটা, সেটিই এখন ব্রিটিশ ও মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সামনে বড় প্রশ্ন।
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি নিছক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী পরিকল্পনা, নাকি আরও বড় কোনো নিরাপত্তা কৌশলের অংশ—তার চিত্র পরিষ্কার হওয়ার কথা।












