পশতু সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সুফি চিন্তাবিদ সৈয়দ তাহির বুখারি বাচা মারা গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৯৬ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কিংবদন্তি পশতু কবি আমির হামজা খান শিনওয়ারি, যিনি ‘হামজা বাবা’ নামে পরিচিত, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মনোনীত আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি ছিলেন তাহির বুখারি বাচা। হামজা বাবার সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার নিজ গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাহিত্যিক, আধ্যাত্মিক অনুসারী, ভক্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে স্বাবি জেলার নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া তাহির বুখারি বাচা জীবনের প্রায় আট দশক পশতু সাহিত্য, সুফিবাদ এবং আঞ্চলিক সংস্কৃতির বিকাশে ব্যয় করেছেন। হামজা বাবার ঘনিষ্ঠজন ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সুফি মানবতাবাদী দর্শন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন।
তাহির বুখারি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ছোটগল্প, গদ্য ও সমালোচনামূলক প্রবন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য রচনা করেছেন তিনি। তার কথাসাহিত্যে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সুফি দর্শনের গভীর ভাবনার মেলবন্ধন দেখা যায়। পশতুন সমাজের বাস্তবতা, সংগ্রাম, সহনশীলতা ও আধ্যাত্মিকতার নানা দিক উঠে এসেছে তার লেখায়।
সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি আধুনিক পশতু গজল এবং ধ্রুপদি সুফি দর্শনের দার্শনিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনাও করেছেন তিনি। এসব কাজ পশতু সাহিত্য ও সুফি দর্শন নিয়ে গবেষণায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাহির বুখারি তরুণ লেখক ও গবেষকদের কাছে একজন সহজপ্রাপ্য শিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পেশোয়ার, লান্ডি কোটাল ও উপজাতীয় এলাকাগুলোতে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলন, একাডেমিক সেমিনার এবং বার্ষিক কবিতা পাঠের আসরে নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি।
সাহিত্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সম্প্রীতি এবং শান্তির পক্ষে তিনি সবসময় কথা বলেছেন। তার লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও এসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ছিল।
তার মৃত্যুতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক জানিয়েছে। সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা তার প্রয়াণকে পশতু সাহিত্য ও সুফি ঐতিহ্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, তার সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখক, গবেষক ও পাঠকদের দীর্ঘদিন পথ দেখাবে।
তাহির বুখারি বাচা রেখে গেছেন সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম, অসংখ্য অনুসারী এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার সাংস্কৃতিক পরিসরে গভীর এক উত্তরাধিকার। তার মৃত্যু হলেও পশতু সাহিত্য ও সুফি চিন্তায় তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












