নাইজেরিয়ায় স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার যে স্বপ্ন ছয় দশক ধরে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হয়ে আছে, তার বাস্তব চিত্র এখন অত্যন্ত কঠিন। দেশটির শিল্পনীতির ব্যর্থতা কোনো একটি সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা বিচ্ছিন্ন কোনো নীতিগত ত্রুটির ফল নয়। বরং বিদ্যুৎ সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অপ্রতুলতা, দুর্নীতি, দুর্বল অবকাঠামো এবং অকার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ফলাফল আজ শিল্পখাতকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে স্থানীয় উৎপাদকদের পক্ষে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাই কঠিন।
চীনা ব্যবসায়ীরা যখন পাইকারি বাণিজ্য থেকে সরাসরি খুচরা বাজারে প্রবেশ করছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্রেতা নেটওয়ার্কও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে, তখন ঘটনাটিকে শুধু বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রাসন হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি মূলত এমন একটি অর্থনীতির পরিণতি, যেখানে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সেই শূন্যস্থান স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলকভাবে সস্তা, দ্রুত ও বেশি মূলধনসমৃদ্ধ বিদেশি ব্যবসা পূরণ করছে।
বিদ্যুৎ সংকটেই শিল্পের প্রথম পরাজয়
নাইজেরিয়ার শিল্পখাতের দুর্দশার কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হয় মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। উৎপাদিত বিদ্যুতের ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত প্রতিদিন অপচয় হয়। প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে।

এই বাস্তবতায় একজন সাধারণ কারিগর বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার উৎপাদন খরচ কীভাবে বাড়ে, তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায় একজন দর্জির আয় থেকে। দিনে ৪ হাজার নাইরা আয় করা একজন দর্জিকে জেনারেটরের জ্বালানিতে প্রায় ৩ হাজার নাইরা ব্যয় করতে হয়। দেশটির ব্যবসা ও পরিবারগুলো নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ডিজেল ও পেট্রোলে খরচ করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে ২৬ থেকে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
অর্থাৎ নাইজেরিয়ায় তৈরি একটি পণ্যের ওপর উৎপাদন শুরুর মুহূর্ত থেকেই বাড়তি একটি খরচ চাপছে। চীনের কারখানাগুলো যে বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে উৎপাদন করতে পারে, নাইজেরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে সেখানে নিজেদের বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরি করতে হচ্ছে। এই ব্যবধান শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে বাজারে যখন বিপুল পরিমাণে কম দামের চীনা পণ্য আসে, তখন স্থানীয় উৎপাদকরা আসলে সমান প্রতিযোগিতায় নামছেন না।
বৈদেশিক মুদ্রানীতি স্থানীয় শিল্পকেই আটকে দিয়েছে
শিল্পনীতির দ্বিতীয় বড় দুর্বলতা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায়। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আট বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ৪৩টি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেছে। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।
কিন্তু বাস্তব ফল হয়েছে উল্টো। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ আমদানি করতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পায়নি। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার বদলে কমেছে।
২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নাইজেরিয়ার তৈরি পণ্য বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর ছিল। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে এই হার বেড়ে ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ সুরক্ষাবাদ স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার বদলে এমন একটি শিল্প কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি না গড়েই আমদানির বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শিল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ কোথায় যায়?
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। বহু বছর ধরে কৃষি ও শিল্প সহায়তা কর্মসূচি, ঋণ এবং বিভিন্ন সরকারি তহবিলের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ ছাড়ের পর্যায়েই অনেক ক্ষেত্রে অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেয়েছে, অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদক, কারিগর এবং সাধারণ উদ্যোক্তারা নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসেননি।
সমস্যাটি তাই কেবল নীতির অভাব নয়। বড় সমস্যা হলো নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও শৃঙ্খলার ঘাটতি। শিল্পায়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার একটি অংশ যদি উৎপাদন বাড়ানোর বদলে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়, তাহলে সবচেয়ে ভালো নীতিও বাস্তবে ফল দিতে পারে না।
লাগোসের বিক্ষোভের অন্তর্নিহিত অর্থ

লাগোস আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় চীনা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ এই বৃহত্তর সংকটকে সামনে এনেছে। কিন্তু সেখানে আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে—অর্থনৈতিক সংকটকে জাতিগত বিরোধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা।
বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ ইগবো ব্যবসায়ী হওয়ায় কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিষয়টিকে ‘ইগবো বনাম চীন’ দ্বন্দ্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। কিন্তু এতে প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়ালে চলে যায়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, নাইজেরিয়ার বিদ্যুৎব্যবস্থা কেন শিল্পকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিতে পারে না? স্থানীয় উৎপাদকরা কেন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পান না? শিল্প সহায়তার অর্থ কেন প্রকৃত উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছায় না?
ইগবো ব্যবসায়ীরা নাইজেরিয়ার বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। লাগোস থেকে আবা ও অনিতশা পর্যন্ত খুচরা ও বিতরণ ব্যবস্থায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী। ফলে চীনা ব্যবসায়ীরা যখন পাইকারি বাজার পেরিয়ে সরাসরি খুচরা ব্যবসায় প্রবেশ করেছে, তখন সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে এই স্থানীয় ব্যবসায়ী শ্রেণির ওপর।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সমস্যার মূল কারণ চীনা ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে চীনা প্রবেশ
চীনা ব্যবসায়ীরা প্রথমে মূলত পাইকার হিসেবে নাইজেরিয়ার বাজারে প্রবেশ করেছিল। চীনের বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করত। সময়ের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মূলধন সঞ্চয়ের ক্ষমতা কমে গেলে এবং খুচরা বাজার দুর্বল হয়ে পড়লে চীনা ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করতে শুরু করে।
তাদের হাতে এমন কিছু সুবিধা রয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষে তৈরি করা কঠিন। তারা সরাসরি কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারে, মধ্যস্বত্বভোগীর স্তর এড়িয়ে যায়, চীনা ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক অর্থায়নের সুবিধা পায় এবং রেনমিনবি-নাইরা মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলারের ঘাটতির কিছুটা প্রভাব এড়াতে পারে।
অন্যদিকে নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ীকে নাইরার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ার চাপ নিতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে প্রশাসনিক বাধা রয়েছে। এর ওপর একই বাজারে চীনা খুচরা বিক্রেতার সরাসরি মূল্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করতে হয়।
এই অসম প্রতিযোগিতা শুধু ব্যবসায়িক দক্ষতার প্রশ্ন নয়। দুই পক্ষ দুই ধরনের শিল্প ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যেই নির্ভরতার চিত্র

চীন ও নাইজেরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামোও এই সমস্যার গভীরতা বোঝায়। ২০২৪ সালে নাইজেরিয়া চীন থেকে প্রায় ১৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন নাইরা মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে চীনে রপ্তানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন নাইরা মূল্যের পণ্য। অর্থাৎ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৮২ শতাংশের বেশি ছিল আমদানি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো পণ্যের ধরন। নাইজেরিয়ার চীনে রপ্তানির বড় অংশ তেল, গ্যাস, তিল ও কাঁচা আকরিকের মতো পণ্য। বিপরীতে চীন থেকে নাইজেরিয়ায় আসে কৃত্রিম বস্ত্র, টেলিফোন, যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো উচ্চমূল্যের উৎপাদিত পণ্য।
এটি একটি পরিচিত বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করে—এক দেশ কাঁচামাল সরবরাহ করে, অন্য দেশ তা উচ্চমূল্যের প্রস্তুত পণ্যে রূপান্তর করে। এতে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজনের বড় অংশ বিদেশেই থেকে যায়।
চীনা ব্যবসায়ীরা যখন খুচরা বাজারেও প্রবেশ করছে, তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীর ভূমিকা এই সরবরাহ ব্যবস্থার মাঝখান থেকেও সরে যাচ্ছে। তারা একদিকে চীনা কারখানার সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ে প্রতিযোগিতা করতে পারে না, অন্যদিকে নিজেদের বাজারেই চীনা খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ছে।
শিল্পের মৃত কাঠামো রক্ষা করা যায় না
নাইজেরিয়ার পোশাকশিল্পের ইতিহাস এই সংকটের সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণগুলোর একটি। একসময় দেশটিতে ১৬৭টি বস্ত্র কারখানা ছিল এবং এই খাতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ কাজ করত। এখন সেই কারখানাগুলোর অধিকাংশই শিল্পধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থায় শুধু পুরোনো শিল্পকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার রাজনৈতিক আহ্বান যথেষ্ট নয়। বিদ্যুৎ নেই, তুলা সরবরাহের কার্যকর শৃঙ্খল নেই, সহজ অর্থায়ন নেই—তাহলে কেবল কারখানার নাম ফিরিয়ে এনে শিল্প ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
একই কারণে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের আহ্বানও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। একজন নাইজেরীয় উদ্যোক্তাকে যদি নিজের জেনারেটর কিনতে হয়, বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয় এবং দুর্বল অবকাঠামোর সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়, তাহলে শুধু উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ দিয়ে চীনা শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়।
প্রকৃত দায় কোথায়?

চীনা ব্যবসায়ীরা নাইজেরিয়ার স্থানীয় বাজার থেকে সুবিধা নিচ্ছে—এটি সত্য। কিন্তু তারা এমন একটি কাঠামোর সুযোগ নিচ্ছে, যা তাদের জন্য আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিল্প দুর্বল হয়েছে, অবকাঠামো ভেঙেছে, দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক হয়েছে এবং শিল্পনীতির অর্থ ও সুবিধা উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তাই সমস্যাটিকে জাতিগত সংঘাত হিসেবে দেখানো মূল সংকটকে আড়াল করে। ইগবো ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ বাস্তব, কিন্তু সেই ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উৎপাদনকে প্রতিযোগিতাহীন করে রেখেছে।
নাইজেরিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দেশটি কি আবার উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে? শুধু আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা সুরক্ষাবাদ দিয়ে তার উত্তর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, কার্যকর অবকাঠামো, সহজ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থা, স্বচ্ছ শিল্প অর্থায়ন এবং এমন প্রতিষ্ঠান, যারা নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
অন্যথায় বিদেশি পণ্য আরও বাজার দখল করবে, স্থানীয় ব্যবসার পরিসর আরও সংকুচিত হবে এবং নাইজেরিয়া বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের নিচের স্তরেই আটকে থাকবে।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কিংবা চীনা ব্যবসায়ীদের বাজার সম্প্রসারণ তাই সমস্যার মূল নয়; এগুলো বৃহত্তর ব্যর্থতার দৃশ্যমান ফল। প্রকৃত সংকট হলো নাইজেরিয়া নিজের শিল্পভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। আর সেই শূন্যস্থান যে দেশ সবচেয়ে কম খরচে, সবচেয়ে দ্রুত এবং সবচেয়ে বড় পরিসরে পূরণ করতে পারবে, বাজার শেষ পর্যন্ত তার দিকেই ঝুঁকবে।












