কিছু দুর্যোগ ভবন, যন্ত্রপাতি ও সড়ক ধ্বংস করে। আবার কিছু দুর্যোগ আরও অদৃশ্য একটি বিষয়কে আঘাত করে—নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে গড়ে তোলার সক্ষমতার ওপর একটি দেশের যে আত্মবিশ্বাস, তা। ২৬ আগস্টের বন্যায় চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংস—এই দুই ধরনের ক্ষতিকেই একসঙ্গে ধারণ করে।
আমার পরিবারের কাছে অবশ্য চিলিমে কখনোই কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প ছিল না। এটি আমাদের জীবনেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছিল।
নেপালে আমার জীবনের প্রথম ১৬ বছর কেটেছে বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে। সেই সময়জুড়ে আমাদের রাতের খাবারের টেবিলে বারবার ফিরে আসত একটি নাম—চিলিমে। আমার বাবা দাম্বর বাহাদুর নেপালি ভোতে কোশিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পেছনে প্রায় এক দশক কাটিয়েছিলেন। তাঁর কাছে এটি নিছক একটি দায়িত্ব ছিল না; প্রকল্পটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ছিল ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার মতো।
তিনি বলতেন, তাঁর দলকে কী কী বাধার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে—সীমিত যাতায়াতব্যবস্থা, সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতা, বর্ষায় ভূমিধস, আর সরকারি কর্মকর্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার বোঝানোর প্রয়োজন যে নেপালিরাই নিজেদের অর্থ ও দক্ষতা দিয়ে একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে পারে।
প্রকল্পটির অগ্রগতি বারবার নতুন অধ্যবসায়ের দাবি তুলত। দুর্নীতি দমন সংস্থায় অভিযোগ, ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বড় সরকারি প্রকল্পের ধীরগতির প্রাতিষ্ঠানিক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা—সবই ছিল এর অংশ।
তবু উদ্যাপনের মুহূর্তও ছিল। প্রধান বাঁধ, সুড়ঙ্গ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এগিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকল্পের মালিকানায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে চিলিমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।
আমার বাবার কাছে এসব অর্জন শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যান ছিল না।

এক ভিন্ন উন্নয়ন মডেল
আমার সবচেয়ে স্পষ্ট শৈশবস্মৃতিগুলোর একটি ইন্দ্রযাত্রার সময়কার। তখন আমার বয়স প্রায় ১০। কাঠমান্ডুর মানুষ উৎসবে ব্যস্ত, রাস্তায় কুমারীর রথ এগিয়ে চলছে। আর আমার বাবা এক পাশে বসে তাঁর ছোট নোটবুক নিয়ে হিসাব করছিলেন।
তিনি ভাবছিলেন আরেকটি বিষয় নিয়ে—নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মীরা কীভাবে চিলিমেতে আর্থিকভাবে অংশ নিতে পারেন।
তাঁর উদ্বেগ ছিল বাস্তব। অনেক কর্মীর হাতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ না থাকায় তাঁরা যত শেয়ার কিনতে পারতেন, তা হয়তো কিনতে পারবেন না। তাই তিনি ভবিষ্য তহবিলের সঞ্চয় বা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।
কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল, নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত তিনি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
এই ঘটনাই চিলিমে উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। প্রকল্পটি কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে ভাবা হয়নি; এর মাধ্যমে মালিকানাকেও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই জলবিদ্যুৎকে দেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে দেখে এসেছে। জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনায় ব্রাজিলের পর নেপালের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়—এমন বহুল প্রচলিত দাবি সঠিক ছিল না। কিন্তু সেই দাবির পেছনে থাকা বৃহত্তর ধারণাটি যথার্থ ছিল: নদী ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
চিলিমে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে কীভাবে রূপ দেওয়া যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছিল।
এটি দেখিয়েছিল, নেপালি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতায় একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে পারে এবং নেপালিরাই তাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এর কাঠামো—নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় মালিকানার সমন্বয়—এমন একটি বিকল্প মডেল সামনে এনেছিল, যেখানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প মানেই বিদেশি অর্থায়ন ও দক্ষতার ওপর নির্ভরতা নয়।
প্রকল্পটি সাধারণ নেপালিদের পুঁজিবাজারের সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছিল। জলবিদ্যুতে বিনিয়োগ বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমিত পরিসর থেকে বেরিয়ে সাধারণ পরিবারের কাছেও একটি বাস্তব সুযোগ হয়ে উঠেছিল।
এর প্রভাব নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। চিলিমের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস পরবর্তী বৃহত্তর প্রকল্পগুলোর পথ তৈরি করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে ছিল ৪৫৬ মেগাওয়াটের আপার তামাকোশি প্রকল্প, যাকে আমার বাবা স্নেহ করে ‘চিলিমের বড় ভাই’ বলতেন।
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ছিল তার তৈরি করা দৃষ্টান্তে।

সাফল্য যখন ঝুঁকির মুখে
এই কারণেই সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞ মেনে নেওয়া এত কঠিন।
২৬ আগস্টের বন্যায় ত্রিশূলী অববাহিকার ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে চিলিমেও ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কাদায় চাপা পড়ে এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়। আশপাশের আরও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ স্থাপনাও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে; এসব এলাকায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু ধ্বংসের মাত্রা আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—জলবায়ু ঝুঁকি যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন নেপালের জলবিদ্যুৎ কৌশল ভবিষ্যতে কেমন হবে?
নেপালের নদীগুলো এখনো দেশের বড় অর্থনৈতিক সম্পদ। কিন্তু যে পাহাড়, উপত্যকা ও নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করে, একই সঙ্গে সেগুলো অবকাঠামোকে ভূমিধস, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখেও ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব ঝুঁকিকে আর বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কমছে।
এর অর্থ এই নয় যে নেপালের জলবিদ্যুৎ থেকে সরে আসা উচিত। বরং এর অর্থ হলো—কীভাবে জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন করা হবে, তা নতুন করে ভাবতে হবে।
জলবিদ্যুৎনির্ভর উন্নয়ন কৌশল কেবল উৎপাদন ক্ষমতা, নির্মাণের সময়সূচি বা আর্থিক লাভের ওপর নির্ভর করতে পারে না। পরিবেশগত ঝুঁকি, ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতা, জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস, জরুরি প্রস্তুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতাকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনতে হবে।
প্রশ্নটি এখন শুধু নেপাল কত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা নয়। প্রশ্ন হলো—পরিবর্তিত জলবায়ু যে পরিস্থিতি তৈরি করছে, তার মধ্যেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত অবকাঠামো কতটা টিকে থাকতে পারবে।

পুনর্গঠনের আসল অর্থ
দুর্যোগের পর পুনরুদ্ধারকে অনেক সময় কয়েকটি দৃশ্যমান সূচকে মাপা হয়—ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা কত দ্রুত মেরামত হবে, পুনর্নির্মাণে কত খরচ হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে আবার শুরু হবে।
এসব প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চিলিমের ইতিহাস দেখায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠন হয়তো অবকাঠামোগত নয়।
প্রকল্প মেরামত করা যায়। সুড়ঙ্গ পুনর্নির্মাণ করা যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরুদ্ধার বা প্রয়োজনে নতুন করে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু যে প্রাতিষ্ঠানিক আত্মবিশ্বাস চিলিমের মতো একটি প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল, সেটি শুধু প্রকৌশল দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা যায় না।
এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল এমন মানুষদের মাধ্যমে, যারা বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যেও কাজ করে গেছেন। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছিল সহযোগিতাপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান, ঝুঁকি নেওয়ার মতো বিনিয়োগকারী, সমস্যা সমাধানে সক্ষম প্রকৌশলী এবং প্রকল্পের ফলাফলে স্থানীয় জনগণের অর্থবহ অংশীদারত্ব।
আমার বাবা বছরের পর বছর সরকারি দপ্তর ও প্রকল্প এলাকায় যাতায়াত করেছেন। বিলম্ব, সীমাবদ্ধতা ও নানা বাধা তাঁকে থামাতে পারত। কিন্তু তিনি এগিয়ে গেছেন, কারণ তাঁর কাছে চিলিমে ছিল নিজের চেয়েও বড় একটি জাতীয় সম্ভাবনার প্রতীক।
শৈশবে আমি সেই বিশ্বাসকে কাছ থেকে দেখেছি।
মনে পড়ে তাঁর নোটবুকগুলোর কথা, বাড়ির রাতের খাবারের টেবিলে হওয়া আলোচনা এবং প্রকল্প এলাকায় কাটানো অসংখ্য দিন-রাতের কথা। কোনো একটি বাধা দূর হওয়ার খবর এলে তাঁর কণ্ঠে যে উত্তেজনা ফুটে উঠত, সেটিও মনে পড়ে। মনে পড়ে, একসময় তাঁর সঙ্গে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তটিও।
একটি শিশুর চোখে দৃশ্যটি ছিল বিস্ময়কর—পাহাড়ের ভেতরে তৈরি বিশাল এক শিল্প স্থাপনা, যা নেপালি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতায় নির্মাণ করেছে। তখনই প্রথম বুঝেছিলাম, আমার বাবা কেন এত বছর ধরে চিলিমের কথা বলতেন।
প্রকল্পটি একটি ধারণাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিল।
নেপালকে যা ধরে রাখতে হবে

আমার বাবা পরে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ থেকে অবসর নিয়েছেন এবং অন্য কাজেও যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর কাছে চিলিমেই রয়ে গেছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রকল্প।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছেও এর গুরুত্ব বদলেছে। এখন আমি ভাবি, এমন একটি প্রজন্মের জন্য এর অর্থ কী ছিল, যারা বিশ্বাস করত নেপাল তার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তুলতে পারে।
টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য নেপালের পথ খুব বেশি নয়। জলবিদ্যুৎ তার অন্যতম প্রধান সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে যে ঝুঁকিগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর কারণে এই সুযোগ পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হবে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা না নিয়ে আগের মতোই এগিয়ে যাওয়াও সমান দায়িত্বহীনতা।
নেপালের প্রয়োজন আরও স্থিতিস্থাপক একটি জলবিদ্যুৎ কৌশল—যেখানে জলবায়ু ঝুঁকিকে বাইরের কোনো বিষয় হিসেবে নয়, বরং প্রকল্প পরিকল্পনার মূল উপাদান হিসেবে দেখা হবে। প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কঠোর প্রকল্প মূল্যায়ন, উন্নত দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং কোথায় ও কীভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে নতুন করে ভাবার মানসিকতা।
সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই মানবিক গুণগুলোর, যা চিলিমেকে সম্ভব করেছিল—ধৈর্য, কারিগরি দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সততা এবং অগ্রগতি ধীর হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।
বন্যা নেপালের অবকাঠামোর একটি অংশ কেড়ে নিয়েছে এবং বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর শোক দিয়েছে। আমার নিজের পরিবারের কাছে এটি আরও গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতি। আমি চাইতাম, আমার স্বামী একবার সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে হেঁটে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেখতে পারতেন। চাইতাম, আমার ছেলে সেখানে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারত তার দাদা ও তাঁর সহকর্মীরা কী অর্জন করেছিলেন।
কিন্তু চিলিমের উত্তরাধিকার কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে না।
এর সবচেয়ে গভীর অবদান বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পাহাড়ের ভেতরে স্থাপিত যন্ত্রপাতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর বড় শিক্ষা ছিল—কঠিন একটি জাতীয় লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব, যদি মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী তা অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত করে।
বন্যার পরও সেই শিক্ষা প্রাসঙ্গিক।
নেপালকে পুনর্গঠন করতে হবে। জলবিদ্যুতের ভবিষ্যৎ, ঝুঁকি ও বিনিয়োগ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উন্নয়নকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, একই সঙ্গে সেই উন্নয়নকে বিপন্ন করতে পারে এমন শক্তিগুলোকে কীভাবে বিবেচনায় রাখা যায়—সেই ভারসাম্যও খুঁজতে হবে।
এ কাজ করতে হবে বাস্তবতাকে সামনে রেখে, কেবল অতীতের স্মৃতির ওপর নির্ভর করে নয়।
তবু এমন কিছু কল্পনা করার সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে, যা আজ কঠিন মনে হলেও আগামী দিনে সম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
একসময় চিলিমে ছিল আমার বাবার ছোট নোটবুকে লেখা একটি ধারণা মাত্র। কয়েক বছর পর সেই ধারণা একটি পাহাড়ের ভেতরে বাস্তব অবকাঠামো হয়ে দাঁড়ায় এবং নেপালের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।
বন্যা হয়তো তার বড় একটি অংশের ভৌত কাঠামো ধ্বংস করেছে। কিন্তু সেই দৃষ্টান্ত মুছে দিতে পারেনি।
চিলিমের সবচেয়ে স্থায়ী উত্তরাধিকার সম্ভবত এটাই—শুধু একটি প্রকল্প নির্মিত হয়েছিল তা নয়; বরং নেপালিরা বিশ্বাস করতে শিখেছিল যে তারা নিজেদের শক্তিতেই এমন একটি প্রকল্প নির্মাণ করতে পারে।











