২০২৫ সালে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখে। দেড় বছর পেরিয়ে সিন্ধু পানি চুক্তি এখন কাশ্মীরের মতোই দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিরোধের উৎস। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত সপ্তাহে জাতিসংঘে বলেছেন, পাকিস্তানের পানি সরিয়ে নেওয়া যুদ্ধের শামিল হবে।
আগস্টে হেগের স্থায়ী সালিসি আদালত রায় দিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না। ভারত সেই রায় মানেনি। দেশটির অবস্থান, পাকিস্তান আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহাল হবে না। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক পানি ব্যবস্থাপনার জন্যই হুমকি।
পাকিস্তানের বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, বিরোধ ঝুলে থাকলে বা ভারত পাকিস্তানের পানি আরও কমালে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সংঘাত অসম্ভব নয়। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সালিসির রায় উপেক্ষা করা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে ভারতের নিজের বক্তব্যের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। ভারত অবশ্য বিষয়টিকে নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেই দেখছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সংকট দূরের ঘটনা নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী, আর প্রায় সবগুলোতেই বাংলাদেশ ভাটির দেশ। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে। তিস্তা চুক্তি বহু বছরেও হয়নি। উজানের দেশ একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করতে পারে, এমন নজির ভাটির দেশের জন্য উদ্বেগের।
বাংলাদেশের সামনে শিক্ষা হলো, পানি চুক্তিকে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা থেকে আলাদা রাখার আইনি ও কূটনৈতিক রক্ষাকবচ খোঁজা। গঙ্গা চুক্তি নবায়নে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, নিয়মিত তথ্য বিনিময় ও জলবায়ু বাস্তবতা যুক্ত করার দাবি তাই জোরালো হচ্ছে। সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে যা ঘটছে, তা গঙ্গা আলোচনার টেবিলেও প্রাসঙ্গিক।










