সৌদি আরবে যেসব প্রবাসী কর্মীর অবস্থা ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তাদের একটি অংশ এখন নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যেতে পারবেন। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিওয়া এ সুযোগের কথা জানিয়েছে। প্রধান শর্ত হলো, কর্মীকে সৌদি আরবে ১২ মাসের বেশি সময় কাটাতে হবে। সৌদিতে অনুপস্থিত প্রবাসী কর্মীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে।
কিওয়া জানিয়েছে, অনুপস্থিতির প্রতিবেদন, কাজ বন্ধের প্রতিবেদন বা চুক্তির সম্পর্ক শেষ হওয়ার কারণে যাদের অবস্থা বদলেছে, তারা এ সুবিধা পাবেন। তবে কর্মীর বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট ফি নতুন নিয়োগকর্তাকে পরিশোধ করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসার প্ল্যাটফর্মে ছাড়পত্র ও নিবন্ধন বন্ধের প্রক্রিয়া শেষ না হলে কিওয়ায় নতুন চুক্তি করা যাবে না। আবশার বা মুকিম প্ল্যাটফর্মে কারও অবস্থা ‘চলে গেছেন, ফেরেননি’ বা ‘চূড়ান্ত প্রস্থান’ দেখালে প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া যাবে। কিওয়া পুরোপুরি অনলাইনে চলে, কাগজের নথি গ্রহণ বা সত্যায়ন করে না। প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে হয় নাফাথ ব্যবস্থার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীর বিরোধ মেটানোর এখতিয়ার কিওয়ার নেই। সে জন্য মন্ত্রণালয়ের আপস নিষ্পত্তি সেবা বা শ্রম আদালতে যেতে হবে।
সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ, বেতন না পাওয়া বা কাজ ছেড়ে যাওয়ার মতো নানা কারণে অনেক কর্মী ‘অনুপস্থিত’ তালিকায় পড়ে বৈধতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। নতুন সুযোগ তাদের বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে। প্রবাসী আয়ের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স নেমেছে ১১ মাসের সর্বনিম্নে।
যারা এ সুবিধা নিতে চান, তাদের আগে কিওয়া প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থা যাচাই করা এবং নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে বকেয়া ফি নিয়ে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কথায় টাকা দেওয়ার আগে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দার কনস্যুলেটের শ্রম শাখার পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সৌদিতে অনুপস্থিত প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুযোগটি কাজে লাগাতে তথ্য যাচাইই প্রথম ধাপ।











