বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সই হওয়া চুক্তিটির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। প্রতি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হতে আর আড়াই মাস বাকি থাকলেও গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের আলোচনা এখনো জোর পায়নি।
চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি দুই দেশ ভাগ করে নেয়। প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ অর্ধেক অর্ধেক পানি পায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও কার্যকর পানি ভাগাভাগি চুক্তি আছে খুব কমই। গঙ্গা চুক্তি তাই দুই দেশের পানি সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি।
আগস্টের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের আলোচনা হবে যৌথ নদী কমিশনসহ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে। এর আগে ভারতের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ৩০ জুলাই এক প্রতিবেদনে আর দেরি না করে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরুর তাগিদ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ার বাস্তবতা মাথায় রেখে নতুন চুক্তি করা দরকার।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচ, সুন্দরবন ও নদীর লবণাক্ততা অনেকটাই শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার প্রবাহের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে আরও বেশি পানির হিস্যা চাইছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিনেও না হওয়ায় গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পানি বণ্টন কীভাবে চলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় পানি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গঙ্গা পানি চুক্তি সময়মতো নবায়ন হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা।











