মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফরিদপুরের তরুণ প্রবাসী ইমরান হোসেন উজ্জল শিকদার। ২৭ বছর বয়সী ইমরান কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়, পেরাক রাজ্যের ইপোহে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা আবারও এক প্রবাসী পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিল।
ইমরানের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়ার গট্টি গ্রামে। তার বাবা কালাম শিকদার একজন কৃষক। মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে ২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে মালয়েশিয়া যান ইমরান। সেখান থেকে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরেন ইমরান। ওই বছরের ১০ অক্টোবর লামিয়াকে বিয়ে করেন। তিন মাস পর আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। পরিবারকে প্রায়ই বলতেন, দেশে ফিরে স্ত্রী ও মা-বাবার সঙ্গে থিতু হতে চান। তার আত্মীয় আরমান শেখ একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি জানান, তারা একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন জায়গায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর গ্রামের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। গত এক দশকে আট লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী সেখানে গেছেন। সম্প্রতি দেশটিতে নতুন করে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে। ইমরানের মতো তরুণদের পাঠানো আয়েই চলে অনেক গ্রামীণ পরিবার। সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
ইমরানের মরদেহ কবে দেশে আসবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বিদেশে মারা যাওয়া কর্মীদের মরদেহ দেশে আনা ও পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কাজ করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইমরানের মৃত্যু মনে করিয়ে দিল, প্রবাসে কাজের ঝুঁকির দাম অনেক সময় পুরো পরিবারকেই দিতে হয়।











