স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। হাতে আর দেড় মাস। সরকার এই উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বরে নিতে জাতিসংঘে আবেদন করেছে। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সেই প্রস্তাব এখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়ক কমিটিতে ৭ অক্টোবর প্রস্তাবটি ওঠার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির (সিডিপি) কাছে এ আবেদন করে। কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার কথা বলা হয়। সিডিপি বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে মত দেয়, তবে ব্যাংক, কর ও রপ্তানি খাতে সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেয়। ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সর্বসম্মতভাবে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়। নেপালও একই আবেদন করেছে।
পথটা অবশ্য সহজ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রস্তাব পাস করাতে সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। ইকোসক নির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ না করে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠিয়েছে। সিডিপি বলেছিল, তুলনামূলক কম সময়ের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যৌক্তিক হতে পারে। ফলে তিন বছরের বদলে কম সময় মিলতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। চলতি অধিবেশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না-ও আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ এখন ৩৮টি দেশে এলডিসি হিসেবে বাণিজ্য সুবিধা পায়, যার আওতায় রপ্তানির প্রায় ৭৩ শতাংশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উত্তরণের পর বছরে ১ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হারানোর ঝুঁকি আছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া উত্তরণের পরও ২০২৯ সাল পর্যন্ত সুবিধা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে রপ্তানি সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে ৩৯৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে রপ্তানির বড় অংশ এখনো পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। মেয়াদ বাড়ুক বা না বাড়ুক, প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণই আসল কাজ। এলডিসি উত্তরণ পেছালে সেই সময় সংস্কারে কাজে না লাগালে বাড়তি সময়ও বিশেষ সুফল দেবে না।











