তেলাপিয়া, পাঙাশ কিংবা চাষের কই, বহু বছর ধরে এগুলোই ছিল স্বল্প আয়ের পরিবারের আমিষের প্রধান ভরসা। কিন্তু গত কয়েক মাসে এসব মাছের দামও এতটা বেড়েছে যে অনেক পরিবারের পাত থেকে মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে সস্তা তেলাপিয়াও এখন কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকা। মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে নদীতে মাছ ধরা কমেছে। রাস্তায় পানি জমায় বাজারে ক্রেতা ও সরবরাহ দুটোই কমেছে। তবে চাষের মাছের দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ খাদ্যের খরচ। মাছচাষিদের অভিযোগ, গত তিন মাসে মাছের খাদ্যের দাম তিন দফায় বেড়েছে, প্রতিবার কেজিপ্রতি ৩ টাকা করে। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আহসানুজ্জামানও খাদ্যের দাম বাড়ার কথা স্বীকার করেছেন।
মাছের খাদ্যের বড় অংশ তৈরি হয় আমদানি করা উপকরণে। ডলারের দাম, জাহাজভাড়া ও জ্বালানি খরচ বাড়লে খাদ্যের দামও বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ বছর জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। ফলে খামার থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়ছে, যার শেষ চাপ পড়ছে ক্রেতার ওপর।
বাংলাদেশে মাছই সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের সবচেয়ে বড় উৎস। চাষের মাছের উৎপাদন বাড়ায় গত দুই দশকে গরিব পরিবারও নিয়মিত মাছ খেতে পারত। এখন দাম বাড়ায় সেই অর্জন ঝুঁকিতে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের পুষ্টিতেও, যখন দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে অপুষ্টি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
চাল, ডাল, তেল ও সবজির দামও বেড়ে থাকায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো খাবারের তালিকা ছোট করছে। মাছের খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের সহায়তা এবং বাজার তদারকি না বাড়ালে মাছের দাম সহজে কমবে না। ততদিন মাছ অনেক পরিবারের কাছে নিয়মিত খাবার নয়, বিশেষ দিনের বিলাসিতা হয়ে থাকবে।










