চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার খসড়া চুক্তি ১ অক্টোবর অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কাল সোমবার এ চুক্তির বিরুদ্ধে বন্দরের প্রধান ফটকে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। তাই এনসিটি চুক্তিতে আসলে কী আছে, তা জানা জরুরি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অপারেটর দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড সরকারকে অগ্রিম ৫ কোটি ডলার দেবে। এর এক-চতুর্থাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ শুরুর আগে দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারিত ফি দিতে হবে, যা প্রতিবছর ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালে অন্তত ৯ কোটি ডলার বিনিয়োগের শর্তও আছে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতি টিইইউ, অর্থাৎ ২০ ফুটের প্রতিটি কনটেইনার এককের জন্য সাড়ে ৪২ থেকে সাড়ে ১৪১ ডলার পর্যন্ত ধাপভিত্তিক রয়্যালটির প্রস্তাব দিয়েছে। ন্যূনতম রাজস্বের নিশ্চয়তা ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ভবিষ্যতে মাশুল বাড়লে বাড়তি আয় সরকার ও অপারেটরের মধ্যে সমান ভাগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ডিপি ওয়ার্ল্ড শুরুতে ৩০ বছরের জন্য পরিচালনার অধিকার চেয়েছিল।
বন্দরের প্রায় ৪৪ শতাংশ কনটেইনার ওঠানামা হয় এনসিটিতে। এর চারটি কনটেইনার বার্থ ও পাশে একটি ওভারফ্লো ইয়ার্ড আছে। এখন অন্তর্বর্তীভাবে টার্মিনালটি চালাচ্ছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড। বিদেশি অপারেটর আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। পরে শ্রমিক আন্দোলন ও মামলায় তা আটকে যায়। ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট একটি আপিল গ্রহণ করে। তখন চেম্বার বিচারপতি বলেছিলেন, আপিল নিষ্পত্তির আগে চুক্তি সই করা যাবে না।
শ্রমিক সংগঠনগুলো চুক্তির শর্ত প্রকাশ, চাকরির সুরক্ষা ও রাষ্ট্রের রাজস্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, গত অর্থবছরে এনসিটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অন্যদিকে সমর্থকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপারেটর এলে বন্দরের দক্ষতা বাড়বে। অর্থনীতিবিদ কে এ এস মুর্শিদের মতে, এনসিটি চুক্তির শর্ত প্রকাশ করা হলে সিদ্ধান্তটির পক্ষে যুক্তি দেওয়া অনেক সহজ হবে।











