পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পাকিস্তান টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের পালাংজাই, নাদিম কোট ও কোট খাজরি এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। নিহত ব্যক্তিরা ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে তাদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানের সময় কয়েকটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
অভিযানে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই অভিযান নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদার দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রতিফলন। সন্ত্রাসীদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষক ও স্থানীয় সহযোগীদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, এ ধরনের সফল অভিযান পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূলের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে। তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে প্রদেশটির সংযুক্ত জেলাগুলো বাদে অন্যান্য এলাকায় ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৬।
সাম্প্রতিক সময়েও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এর আগের দিন একই এলাকায় পৃথক অভিযানে ১৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার আরও পাঁচজন এবং ২ অক্টোবর সাতজন নিহত হওয়ার কথা জানায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
৩০ সেপ্টেম্বর মির আলিতে এক অভিযানে তিনজন নিহত হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর বারার একটি অভিযানে পাঁচজন এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ডেরা ইসমাইল খানে চারজন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়।
তবে উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সন্ত্রাসী হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ডেরা ইসমাইল খানের দারাজিন্দা এলাকায় আমান মেলা পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হন। ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনে বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হন।
এদিকে সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রদেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানে আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তান। এসব অভিযানকে দেশটির কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবাদ দমনে চলমান সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে।












