ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং পানি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিদের আন্তরিকতা জরুরি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে আন্তরিকতা থাকলে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানের পথে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব।
হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পানি আলোচনায় যুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকতে হবে। নেতৃত্ব যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার মানসিকতা দেখায়, তাহলে পানি বণ্টন ইস্যুতে ইতিবাচক ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
পানি-সংক্রান্ত বিরোধ ও মতপার্থক্য সমাধানে আলোচনাই প্রধান পথ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনকেও বিবেচনায় নিচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানি-সংক্রান্ত আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান ও নীতিগুলোও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা-কুশিয়ারা ও ফেনীসহ এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অভিন্ন নদীগুলোর বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রধান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো হলো যৌথ নদী কমিশন। হুমায়ুন কবির জানান, পানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা শুধু দুই দেশের স্বার্থের বিষয় নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই করে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করাসহ নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় নতুন বা আরও কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে বাংলাদেশ।
এদিকে, পানি কূটনীতি নিয়ে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। এতে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারে পানি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণ নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।












