বিশ্বজুড়ে ডিজেলের ঘাটতি মোকাবিলায় চীনের কাছে জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই আহ্বানের এক সপ্তাহের মধ্যেই চীন সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানির নতুন অনুমতিপত্র দেওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার বিপরীত নয়, বরং চীনের নিজস্ব জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, ডিজেলের সরবরাহ এবং আসন্ন শীত মৌসুমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির প্রাপ্যতার ওপর।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বৈঠকের সময় ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর অনুরোধ জানান। বিশ্ববাজারে ডিজেলের ঘাটতি কমানোই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু চীনের পরবর্তী পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেয়ে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
একসময় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল চীন। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট শুরু হওয়ার পরও দেশটি তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে চীন দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে। এতে আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় দিনে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকেও বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রাখার কৌশল তখন চীনা কর্মকর্তাদের কাছে কার্যকর বলে মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সরকার জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে। সেপ্টেম্বরে চীনের জ্বালানি রপ্তানি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হওয়ায় বেইজিং আবারও রপ্তানিতে লাগাম টানে।

চীনের এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বুঝতে হলে দেশটির তেল কেনা, পরিশোধন ও মজুত ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। চীন তার প্রকৃত তেলের মজুত ও আমদানির কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। তবে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নীতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরি হয়েছে। এখন সেই প্রভাব সামাল দেওয়াই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা বনাম ব্যবসায়িক স্বার্থ
চীনের তেলবাজারে দীর্ঘদিন ধরে দুটি স্বার্থের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। একদিকে রয়েছে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অগ্রাধিকার, অন্যদিকে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বড় তেল কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ। বেসরকারি শোধনাগার রোংশেং ছাড়া মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত বড় কোম্পানিগুলোই জ্বালানি রপ্তানির অনুমতিপত্র পাওয়ার সুযোগ পায়।
ইরান যুদ্ধের শুরুতে সরকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেয়। পেট্রল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কেবল চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকং ও ম্যাকাওয়ে পাঠানো জ্বালানি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল। ফলে চীনের জ্বালানি রপ্তানি দ্রুত কমে যায়।
রপ্তানি বন্ধ থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সংরক্ষণাগারে পরিশোধিত জ্বালানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে কোম্পানিগুলো তেল পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে অপরিশোধিত তেলের চাহিদাও কমে যায়। একই সময়ে আগের মতো নতুন করে অপরিশোধিত তেল মজুত না করে চীন বিদ্যমান মজুত থেকে সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করতে শুরু করে।
উচ্চ জ্বালানির দামের কারণে দেশের ভেতরেও চাহিদা কমতে থাকে। অনেক মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ট্যাক্সি বা গণপরিবহন ব্যবহার করতে শুরু করেন। চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়। সব মিলিয়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়ে আনার সুযোগ পায় দেশটি।
জুনের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু অপরিশোধিত তেল পরিবহন সম্ভব হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারে নেমে আসে। মে মাসে এই দাম গড়ে ১০৪ ডলার ছিল।
তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও পরিশোধিত জ্বালানির দাম উঁচু ছিল। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি রপ্তানি তখনো সীমিত ছিল। অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি রপ্তানিও কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে চীনের তেল কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি বিক্রি করে বড় মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেখতে পায়। রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলোর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ে সরকার শর্তসাপেক্ষে রপ্তানি আবার চালুর অনুমতি দেয়।
মজুত বাড়ানোর শর্তে রপ্তানি
সরকারের শর্ত ছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত জ্বালানির মজুত যুদ্ধ শুরুর আগের ফেব্রুয়ারি মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওপরে থাকতে হবে। চীনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন সাধারণত প্রতি মাসের ২০ তারিখের দিকে কোম্পানিগুলোর মজুত যাচাই করে। মজুত সন্তোষজনক মনে হলে কোম্পানিগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানির অনুমতিপত্র চাইতে পারে।
এই নিয়মের ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি দ্রুত বাড়ে। কিন্তু একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক আচরণেও পরিবর্তন আসে। রপ্তানির অনুমতি পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে তারা দ্রুত জ্বালানির মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করে।
এ জন্য বড় তেল কোম্পানিগুলো চীনের ছোট ও স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে শুরু করে। এসব ছোট শোধনাগারের বেশির ভাগই চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক মিচাল মেইদানের বিশ্লেষণে এই প্রবণতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আবারও যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও বড় কোম্পানিগুলো আগেভাগে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গত মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ডিজেল বিক্রি থেকে সম্ভাব্য মুনাফা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সাধারণত চীনের তেল শোধনাগারগুলো প্রায় চার মাস আগে অপরিশোধিত তেল কেনার আদেশ দেয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তারা চার সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যাবে—এমন তেলের জন্যও আদেশ দিতে শুরু করে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে দ্রুত তেল সংগ্রহের ওপর জোর বাড়ে।
এই কেনাকাটার অর্থ জোগাড় করতে কিছু কোম্পানি ডিসেম্বরে পাওয়ার কথা ছিল এমন অপরিশোধিত তেলের চালানও অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। কার্যত ভবিষ্যতে পাওয়ার কথা থাকা তেলের বিনিময়ে এখনই পরিশোধনের উপযোগী তেল সংগ্রহের চেষ্টা করে তারা।
চীনের এই তৎপরতা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চীনের বিপুল চাহিদার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে এসেছে।
তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয়েও চাপ
বর্তমানে দ্রুত সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কয়েক সপ্তাহ পর সরবরাহ করা হবে এমন তেলের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২৫ ডলার বেশি। অর্থাৎ ভবিষ্যতের সরবরাহের চেয়ে এখনই তেল পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের অনেক বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। চীনের পছন্দের উপসাগরীয় অপরিশোধিত তেলের দামেও বড় ধরনের বাড়তি মূল্য দেখা যাচ্ছে।

শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজের ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের শুরুতে ওমান থেকে চীনে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনে খরচ হতো প্রায় দেড় ডলার। এখন সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ ডলারে।
এই পরিস্থিতি চীনের নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। অপরিশোধিত তেল কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকার খুচরা পর্যায়ের দাম নিয়ন্ত্রণ করায় সেখানে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক কম।
এই ব্যবধানের কারণে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি হলেও সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি করতে হলে তাদের মুনাফা কমে যেতে পারে, এমনকি লোকসানও হতে পারে।
মজুত পুনরুদ্ধারে কঠিন সমীকরণ
চীনের পরিশোধিত জ্বালানির মজুত আবার বাড়াতে হলে সরকারকে অন্তত দুটি কঠিন সমস্যার সমাধান করতে হবে।
প্রথমত, খুচরা জ্বালানির দাম আরও বাড়তে দিতে হবে, যাতে তেল শোধনাগারগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য বেশি জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ পায়। কিন্তু এরই মধ্যে জ্বালানির দাম অনেক ভোক্তার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে। দাম আরও বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
বিকল্প হিসেবে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোকে লোকসানে বা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি বিক্রি করতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু এসব কোম্পানির প্রধান মালিক রাষ্ট্র হওয়ায় সেই লোকসানের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই পড়বে।
দ্বিতীয়ত, চীনের বিশাল তেল শোধনাগারগুলোকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হবে। রপ্তানি বন্ধ রাখলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য কিছু জ্বালানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু তাতেই ঘাটতি পুরোপুরি মিটবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রমাশিষ দাসের হিসাব অনুযায়ী, নিজেদের অপরিশোধিত তেলের মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে চীনকে প্রতিদিন ৯৫ লাখ থেকে এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হবে। গত মাসে দেশটি যে পরিমাণ তেল কিনেছিল, তার তুলনায় এটি দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বেশি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান না হলে এই বিপুল আমদানি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চীনকে বিকল্প উৎস থেকে আরও প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

কৌশলগত মজুত কত দিন সামাল দিতে পারবে?
আরেকটি পথ হলো চীনের বিশাল কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের মজুত থেকে আরও বেশি তেল ব্যবহার করা। এখন পর্যন্ত দেশটি এই মজুত থেকে তুলনামূলক সীমিত পরিমাণ তেল নিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মে মাসের পর থেকে চীনের অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে দৈনিক এক লাখ ব্যারেলেরও কম হারে কমেছে। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগের আমদানির হিসাব ধরে এই পরিমাণ তেল দিয়ে প্রায় ১০০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
কিন্তু কৌশলগত মজুতের মূল উদ্দেশ্যই হলো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বা সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে এই মজুত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তাই মজুত দ্রুত কমিয়ে ফেলতে চাইছে না বেইজিং।
ইরান যুদ্ধের অবসানের কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা না থাকায় চীনকে এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার জন্য কৌশলগত মজুত ধরে রাখার প্রয়োজন।
চীন শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবে, তার ওপর শুধু দেশটির জ্বালানি বাজার নয়, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও অনেকাংশে নির্ভর করছে। আমদানি বাড়ালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। মজুত থেকে বেশি তেল ব্যবহার করলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল হতে পারে। আর ভর্তুকি বাড়ালে সরকারের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।
ফলে চীনের জ্বালানি নীতির পরবর্তী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমে জ্বালানির চাহিদা বাড়লে এই সংকটের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।












