পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে যাত্রীবাহী রেহমান বাবা এক্সপ্রেসের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে শের শাহ সেতুর কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মুলতানের নিশতার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভোরে দুর্ঘটনা, চলছে উদ্ধার অভিযান
এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি করাচি থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত হওয়া ১৪টি বগির মধ্যে ১৩টি থেকে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটি বগিতে উদ্ধার অভিযান চলছিল। আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা এবং নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে পাকিস্তান রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারে।
দুর্ঘটনার আগে বগি মেরামতের দাবি
দুর্ঘটনার পর এক যাত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রেনটির নবম বগির নাট-বল্টু দুর্ঘটনার আগে রোহরির কাছে মেরামত করেছিলেন কর্মীরা। তবে ওই মেরামতের সঙ্গে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্ঘটনার পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এবং আহতদের বিলম্ব না করে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের চিকিৎসা এবং বাকি বগিতে উদ্ধার অভিযান শেষ করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।
পাকিস্তানে রেল দুর্ঘটনার পুরোনো উদ্বেগ
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের আগস্টে সিন্ধু প্রদেশের নওয়াবশাহের কাছে হাজারা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
সেই দুর্ঘটনার পর দেশটির রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। মুলতানে রেহমান বাবা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাও রেলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।












